আধ ঘণ্টারও কম সময়ের চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হন দমকলকর্মীরা। কিন্তু ততক্ষণে একাধিক ছাউনি ভস্মীভূত।

শেষ আপডেট: 9 January 2026 08:39
দ্য ওয়াল ব্যুরো: গঙ্গাসাগরে (Gangasagar mela 2026) ভোররাতে বিধ্বংসী আগুন। সাগরমেলার আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনের একদিনের মধ্যেই ২ নম্বর স্নানঘাটে একাধিক অস্থায়ী ছাউনি কার্যত পুড়ে ছাই হয়ে গেল (Gangasagar mela fire)। পুলিশ, তথ্য–সংস্কৃতি দফতর, সংবাদমাধ্যম এবং বজরং পরিষদের শিবির - সবই আগুনে ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত।
এ দিন ভোররাত ৪টে থেকে সাড়ে ৪টার মধ্যে প্রথম একটি ছাউনিতে দাউ দাউ করে আগুন দেখা যায়। মুহূর্তে প্লাস্টিক ও বাঁশের তৈরি অন্যান্য ছাউনিগুলিতেও আগুন ছড়িয়ে পড়ে। সহজেই দাহ্য নানা উপকরণ থাকায় কয়েক মিনিটের মধ্যেই বড় এলাকা জুড়ে লেলিহান শিখা ছড়াতে শুরু করে।
খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে যায় দমকল। পাঠানো হয় দু'টি ফায়ার ইঞ্জিন ও পাঁচটি ফায়ার ফাইটিং বাইক। আধ ঘণ্টারও কম সময়ের চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হন দমকলকর্মীরা। কিন্তু ততক্ষণে একাধিক ছাউনি ভস্মীভূত।
সাগরের বিডিও কানাইয়াকুমার রায়, গঙ্গাসাগর পোস্টাল থানার পুলিশ এবং প্রশাসনের অন্যান্য ঊর্ধ্বতন আধিকারিকরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে ক্ষয়ক্ষতির খতিয়ান নিয়েছেন।
উল্লেখ্য, এই ছাউনিগুলি পুণ্যার্থীদের থাকার জন্য নয়। গঙ্গাসাগর মেলায় প্রশাসনিক কাজে যুক্ত কর্মী–অধিকর্তা, পুলিশ, তথ্য ও সংস্কৃতি দফতর, সংবাদমাধ্যম এবং বজরং পরিষদের স্বেচ্ছাসেবকদের জন্য প্রতিবছরই এখানে অস্থায়ী শেড তৈরি করা হয়। নিখোঁজদের উদ্ধারকাজ ও খাবারের আয়োজন করেন বজরং পরিষদের কর্মীরা।
মেলা উদ্বোধনের ঠিক পরেই এই অগ্নিকাণ্ডে প্রশাসনের উদ্বেগ বেড়েছে।
এদিকে নতুন বছরের শুরুতেই গঙ্গাসাগরের জন্য বড় প্রকল্পের ঘোষণা করেছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। মুড়িগঙ্গা নদীর উপর চার লেনের নতুন সেতুর শিলান্যাস করেছেন তিনি। মুখ্যমন্ত্রীর দাবি, প্রায় ১,৭০০ কোটি টাকা খরচ করে নির্মিত হবে ‘এক্সট্রা ডোজ কেবল স্টেইড ব্রিজ’-এর আদলে তৈরি এই আধুনিক সেতু। নদীর উপর প্রায় ৩ কিলোমিটার বিস্তৃত থাকবে এর মূল অংশ। সূত্রের খবর, ইতিমধ্যেই ৮০ শতাংশ জমি অধিগ্রহণ সম্পন্ন হয়েছে, বাকি ২০ শতাংশও শীঘ্রই হবে। প্রকল্পের ভূকম্পন পরীক্ষা করেছে IIT গুয়াহাটি ও উইন্ড টানেল টেস্ট করেছেন IIT কানপুরের বিশেষজ্ঞরা। মাটির বিশেষ পরীক্ষাও সম্পন্ন হয়েছে।