
শেষ আপডেট: 29 February 2024 12:18
দ্য ওয়াল ব্যুরো: পশ্চিমবঙ্গে গঙ্গার জলে স্নান করা স্বাস্থ্যের পক্ষে বিপজ্জনক। অনিয়ন্ত্রিত নিকাশির কারণে গঙ্গাস্নান করা ব্যক্তিদের পক্ষে এক বিরাট সতর্কবার্তা। ন্যাশনাল গ্রিন ট্রাইব্যুনাল রাজ্য সরকারকে জরিমানার হুঁশিয়ারিও দিয়েছে এই কারণে। গঙ্গাদূষণ ঠেকাতে শীঘ্র ব্যবস্থা না নিলে জরিমানার খাঁড়া ঝুলছে রাজ্যের মাথায়।
জাতীয় পরিবেশ আদালত রাজ্য প্রশাসনকে কড়া বার্তা দিয়ে জানিয়েছে যে, বাংলা দিয়ে প্রবাহিত গঙ্গার জল স্নান করার পক্ষে অনুপযুক্ত। কারণ এখানকার জলে অতিমাত্রায় ফেকাল কলিফর্ম পাওয়া গিয়েছে। যা মানুষ ও পশুর মল থেকে জলকে দূষিত করে। পরিবেশ সুরক্ষার বিচারবিভাগীয় আদালত এনজিটি তথ্য দিয়ে বলেছে, রাজ্যে প্রতিদিন ২৫৮.৬৭ মিলিয়ন লিটার দূষিত জল অপরিশোধিত অবস্থায় সোজা গঙ্গায় এসে পড়ছে। যা স্বাস্থ্যের পক্ষে বিপজ্জনক।
গঙ্গোত্রী থেকে বিভিন্ন রাজ্যে বহমান গঙ্গার জল দূষণরোধ সংক্রান্ত একটি শুনানিতে এই তথ্য সামনে এসেছে। পশ্চিমবঙ্গ সরকার এর আগে একটি রিপোর্ট জমা করেছিল, আপাতত সেটা পর্যবেক্ষণ করে দেখছে এনজিটি।
এনজিটি বেঞ্চের চেয়ারপার্সন বিচারক প্রকাশ শ্রীবাস্তব রিপোর্ট দেখার পর গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। দুই ২৪ পরগনা, মুর্শিদাবাদ, নদিয়া, মালদহ, হুগলি, পূর্ব বর্ধমান, হাওড়া এবং পূর্ব মেদিনীপুরের জেলাশাসকরা সেই রিপোর্ট জমা দিয়েছিলেন। সেই রিপোর্ট থেকেই জানা গিয়েছে, নিকাশি ব্যবস্থা একেবারে বিপর্যস্ত। বিশেষত পূর্ব মেদিনীপুরে একটিও নিকাশি জল শোধনের কোনও ব্যবস্থা নেই বলে রিপোর্টে জানা গিয়েছে।
রিপোর্ট দেখেই হতবাক এনজিটি দ্রুত নিকাশি জল শোধন ব্যবস্থার নির্দেশ দিয়েছে রাজ্যকে। তা না হলে বিশাল জরিমানা করা হবে বলেও হুঁশিয়ারি দিয়েছে। বেঞ্চ পূর্ব মেদিনীপুরের দৃষ্টান্ত তুলে সম্পূর্ণ হতবাক হয়ে মন্তব্য করেছে, এখানে দূষিত নিকাশি জল শোধনের কোনও ব্যবস্থাই নেই! নয় জেলাশাসককে এনজিটি নির্দেশ দিয়ে বলেছে, প্রতিদিন ১০০ শতাংশ নিকাশি জল শোধনের বিষয়ে কী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে সে বিষয়ে হলফনামা জমা দিতে। একইসঙ্গে ন্যাশনাল মিশন ফর ক্লিন গঙ্গাকে এ ব্যাপারে নিয়মিত তদারকি করার কথাও বলেছে পরিবেশ আদালত।