
শেষ আপডেট: 25 August 2022 15:35
দ্য ওয়াল ব্যুরো: গণেশের দাপটে কুমোরটুলিতে এবছর আরও কোণঠাসা বিশ্বকর্মা। পুজোর আর ৩৫ দিন বাকি। সাধারণত এসময় থেকেই বিশ্বকর্মা তৈরি শুরু করেন মৃৎশিল্পীরা (Kumortuli)। কিন্তু এবছর বহু শিল্পীই আর বিশ্বকর্মা তৈরি করছেন না। সেখানে জায়গা করে নিয়েছে বিশালবপু গণেশ।
কুমোরটুলিতে এবছর গণেশ তৈরির তালিকায় নতুন করে যুক্ত হয়েছে কম করে ৩০টি গোলা। এমনকি বাবু পাল, চায়না পালের স্টুডিওতেও মিলছে গণেশ। তবে বাঙালির পরিচিত নাদুসনুদুস গণেশের থেকে বেশি চাহিদা গণপতি বাপ্পার। অর্থাৎ মুম্বইয়ের ধাঁচে তৈরি বিশালবপু গণেশের। বেশকিছু বছর ধরেই বাঙালির ধর্মীয় সংস্কৃতিতে পরিবর্তন আসছে। আগে যে পুজো মূলত হিন্দি, দক্ষিণ ভারতে সীমাবদ্ধ থাকত। এখন তা সমান সাবলীল ভাবে পালিত হচ্ছে কলকাতায়। এজন্য অনেকেই ধর্মভিত্তিক রাজনীতিকে দায়ী করলেও কুমোরটুলি বলছে অন্য কথা।

এবছরও প্রচুর গণেশ তৈরি করেছেন কুমোরটুলির মৃৎশিল্পী গোপাল পাল। তাঁর তৈরি বেশিরভাগ গণেশেরই মাথায় পাগড়ি। গোপালবাবু বললেন, ‘আমি আগে গণেশ তৈরিই করতাম না। কিন্তু এখন বিশ্বকর্মার অর্ডার আসেনা। গণেশের চাহিদা তুঙ্গে। তাই ৩০টা গণেশ তৈরি করেছি। ক্রেতারা বেশিরভাগই অবাঙালি। তাই পাগড়ি পড়া গণেশ বেশি পছন্দ করছেন তাঁরা।’
গনেশের পোশাকের পরিবর্তনও এবছর চোখে পড়ার মতো। কোনও গণেশের পরনে ভেলভেটের রাজকীয় পোশাক। গলায় একাধিক মালা। বিশালদেহী কোনও গণেশের হাতে গদা, মাথায় মুকুট। বিষয়টিতে মৃৎশিল্পী বিশ্বনাথ দে বললেন, ‘আমি অর্ডারি ঠাকুর বানাই। ক্রেতারা যেরকম গণেশ তৈরি করতে বলেছেন, সেরকমই তৈরি করেছি। এখন এরকম গণেশই চাইছেন ক্রেতারা। আগে কলকারখানা ছিল রাজ্যে। তাই বিশ্বকর্মার অর্ডার আসত। এখন আর নেই। তাই পুজোও নেই।’
বিশ্বনাথবাবু আরও বললেন, ‘বিশ্বকর্মা মূলত বারোয়ারি পুজো। ঘরে ঘরে হয় না। আর রাজ্যের কলকারখানা প্রায় উঠেই গেছে। অর্ডার আসেনা। অর্ডার ছাড়া বিশ্বকর্মা বানিয়ে আমরা ঝুঁকি নিচ্ছি না। কারণ বিক্রি না হলে পুরোটাই লোকসান। বরং গণেশের চাহিদা দিন দিন বাড়ছে। এখন ঘরে ঘরে পুজো হয় গণেশের। বিশ্বকর্মার থেকে লাভও বেশি।’

অনেকের মতে, বাংলায় ব্যবসা, বিনিয়োগে এগিয়ে এখন অবাঙালিরাই। তাঁরা বেশিরভাগই জন্মসূত্রে বাঙালি নন। তবে কর্মসূত্রে যেহেতু তাঁরা বাংলাকেই আপন করে নিয়েছেন, ফলে তাঁদের সংস্কৃতির ছায়াও এসে পড়ছে রাজ্যে। অন্যদিকে বিশ্বকর্মা মূলত কলকারখানা ও কর্মীবর্গের আরাধ্য। যেখানে ক্রমশ পিছিয়ে যাচ্ছে রাজ্য। সেই সঙ্গে বিশ্বকর্মার সর্বজনীনতাও ম্লান হচ্ছে।
বাবু পাল বললেন, ‘বছর পাঁচেক আগেও হাতে গোনা কয়েকটি বড় গণেশ মূর্তির অর্ডার মিলত। বরং কুমোরটুলির ঘরে ঘরে বিশ্বকর্মা মূর্তিই তৈরি হত বেশি। কিন্তু এবছর আমিও বিশ্বকর্মা তৈরি করিনি। ২৮টা গণেশ তৈরি করেছি। কুমোরটুলির প্রায় প্রত্যেক শিল্পীর ঘরেই অর্ডারের নিরিখে বিশ্বকর্মাকে ছাপিয়ে গিয়েছে গণেশ। মূর্তি থেকেও উধাও হয়েছে বাঙালিয়ানা।’
মমতার রাজ্যে দুর্গোৎসবের খরচ বাড়িয়ে দিয়েছে মোদীর গুজরাত, কী বলছে কুমোরটুলি