দ্য ওয়াল ব্যুরো: পরাধীন ভারতে বিদেশী পণ্য বয়কটের হিড়িকের মাঝে মাথা তুলেছিল দেশি খাদি। খাদির জামাকাপড় তখন এদেশের মানুষের কাছে হয়ে উঠেছিল শিরোধার্য। দলে দলে সকলে বিলেতি পণ্য বয়কট করে আপন করে নিচ্ছিলেন খাদিকে। চরকা ঘুরিয়ে সেই খাদির শুভ সূচনা করেছিলেন গান্ধীজী। শনিবার সেই মহাত্মা গান্ধীর জন্মবার্ষিকিতে ফিরে দেখা যাক আজকের খাদিকে।
আজ ২০২১ সালের খাদি আর বিশ শতকের সদ্যোজাত খাদির মধ্যে ফারাক বিস্তর। আধুনিকতার রঙ লেগেছে খাদির চাকাতেও। আজকের আধুনিক ফ্যাশনের সঙ্গে খাপ খাইয়ে টিকে থাকতে হলে খাদির পরিবর্তন ছিল অবশ্যম্ভাবী। তাই খাদি থেকে এখন তৈরি হয় প্রিন্টেড শাড়ি, ডিজাইনার ল্যাহেঙ্গা এমনকি প্যান্টশুটও। খাদির শুধু একরঙা, সরল জামাকাপড়ের দিন শেষ।
সময়ের সঙ্গে সঙ্গে কিন্তু খাদির জনপ্রিয়তায় তেমন ভাঁটা পড়েনি। আজকের যুবক যুবতীদের কাছেও খাদি একইরকম নির্ভরযোগ্য। সকলেই এক কথা স্বীকার করে নেয় খাদির পোশাক কত টেকসই। তবে খাদিকে নিজের জায়গা ধরে রাখার জন্য মানের সঙ্গে সঙ্গে আধুনিক ফ্যাশনকেও সমঝে চলতে হবে, কর্তৃপক্ষ তা বিলক্ষণ টের পেয়েছিল।
এ প্রসঙ্গে ডিজাইনার অর্চি মোদী বলেছেন, খাদির পণ্য হল পরিবেশবান্ধব, সাধারণ আর টেকসই। তবে আজকালকার তরুণ প্রজন্ম নিজেদের পোশাক সম্পর্কে খুব সচেতন। তাঁরা ভাল করে যাচাই করে নেন তাঁরা কী কিনছেন। খাদিও তাই আজকাল নতুন নতুন স্টাইলের দিকে ঝুঁকছে।
তবে খাদিতে কার্বন ফুটপ্রিন্ট বা কেমিক্যাল ব্যবহারের সম্ভাবনা প্রায় নেই, কারণ তা হাতে বোনা হয়, জানিয়েছেন খাদির ডিজাইনার মনীষ ত্রিপাঠী। আজকালকার তরুণ প্রজন্ম পরিবেশ সচেতন, তাই খাদি তাদের মধ্যে আরও বেশি জনপ্রিয় হয়ে চলেছে।