
শেষ আপডেট: 19 April 2023 12:00
দ্য ওয়াল ব্যুরো: এনসিইআরটির সাম্প্রতিক পরিবর্তিত পাঠ্যসূচিতে যেসব বিষয় বাদ দেওয়াকে কেন্দ্র করে দিনকয়েক ধরে বিতর্ক চলছে তাদের মধ্যে গান্ধীহত্যা অন্যতম (Gandhi Assassination deleted by NCERT)। দেশের ইতিহাসবিদদের একাংশের অভিযোগ গান্ধীহত্যার প্রসঙ্গ বাদ দেওয়ার বিষয়টি একেবারে পূর্বপরিকল্পিত (planned agenda of govt)। রীতিমতো ঠান্ডা মাথায় ছক কষে গান্ধীহত্যার মতো 'অস্বস্তিকর' বিষয় ছেঁটে ফেলা হয়েছে বলে অভিমত সেই ইতিহাসবিদদের।
পাঠ্যসূচি পরিবর্তন এ দেশে নতুন নয়। অতীতেও ঘটেছে এমন ঘটনা। ২০১৭ সালেও সংসদীয় কমিটির সুপারিশে পাঠ্যসূচি পাল্টানো হয়েছিল। এর বিরুদ্ধে সরব হয়েছিল ইন্ডিয়ান হিস্ট্রি কংগ্রেস। এছাড়াও ইউজিসির উদ্যাগে বদল আনা হয়েছিল দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়ের স্নাতক স্তরের পাঠ্যক্রমেও। এরও আগে অটলবিহারী বাজপেয়ীর নেতৃত্বে তৎকালীন এনডিএ সরকার স্কুলের পাঠ্যবইয়ে বদল আনে। ক্ষমতায় এসে ইউপিএ সরকার নতুন করে পাঠ্যবই লেখার সিদ্ধান্ত নেয়। তাতে যুক্ত হয় নতুন বিষয়ও।
খ্যাতনামা ইতিহাসবিদ মৃদুলা মুখোপাধ্যায়ের মতে পাঠ্যপুস্তক বরাবরই একটি যুদ্ধক্ষেত্র। পাঠ্যপুস্তক বদলের মাধ্যমে কিশোর পড়ুয়াদের দেশের প্রকৃত ইতিহাস জানানো থেকে বিরত রাখা যায়। সমস্যা হচ্ছে এই পড়ুয়াদের অনেকেই স্কুলের গণ্ডি পেরোনোর পর আর ইতিহাস পড়বে না। তিনি আরও জানান, সরকার তার অ্যাজেন্ডার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখেই পাঠ্যসূচি বদল করে।
যেমন গান্ধীর কথাই ধরা যাক। জীবনের শেষপ্রান্তে গান্ধীর রাজনৈতিক ক্রিয়াকলাপ মোটেই ভালো চোখে নেয়নি দেশের মানুষ। তাঁর ১৯৪৭-'৪৮ সালের অনশন জনমানসে তাঁর 'মুসলিম তোষণকারী' পরিচয়টিকেই প্রকট করে তোলে। গান্ধী বরাবরই হিন্দু ও মুসলমান - দুই সম্প্রদায়ের মধ্যে শান্তি ও সম্প্রীতি স্থাপন করায় বিশ্বাসী ছিলেন। কিন্তু সেসময়ের সাম্প্রদায়িক অশান্তির আবহে তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ ওঠে, তিনি শুধুমাত্র ভারতের মুসলমানদের উপর অত্যাচারের প্রতিবাদেই অনশন করেন। এছাড়া দেশে শিল্পায়ন অর্থাৎ ভারী শিল্প তৈরির উদ্যোগের মাঝে কুটির শিল্পের উপর তাঁর বিশেষ জোর দেওয়া নিয়েও বিতর্ক হয়।
এভাবেই হিন্দু-মুসলমান সম্প্রীতি রক্ষায় গান্ধীর প্রাণপণ লড়াই, তাঁর অহিংসা এবং সত্যাগ্রহের ধারণা, তাঁর প্রতি উগ্রহিন্দুদের ঘৃণা ও বিদ্বেষ বাড়িয়ে দেয়। তাদের চোখে গান্ধী 'শত্রু' হিসাবে চিহ্নিত হন।
গান্ধীবাদীদের মতে, হিন্দুরাষ্ট্র তৈরির পথে গান্ধী ছিলেন সবচেয়ে বড় অন্তরায়। সেকথা বিলক্ষণ জানত উগ্র হিন্দুরা। হিন্দুরাষ্ট্র তৈরি করার স্বার্থে গান্ধীহত্যা তাদের আশু উদ্দেশ্য হলে সে ঘটনা আজও তাদের গলায় কাঁটার মতো বেঁধে। কারণ মহাত্মা গান্ধী আজও সমান জনপ্রিয়। তিনি জাতির জনক। ফলে সে ঘটনা 'ধামাচাপা' দেওয়ার জন্যই অল্পবয়সি পড়ুয়াদের মন থেকে গান্ধীহত্যার ঘটনা সম্পূর্ণরূপে মুছে ফেলাটাই শ্রেয়। আর সে কাজ একমাত্র পাঠ্যপুস্তকে গান্ধীহত্যা সংক্রান্ত বিষয়গুলি ছেঁটে ফেলার মাধ্যমেই সম্ভব, অভিমত শিক্ষামহলের।
মুকুল-সিদ্ধার্থনাথের রাইসিনার উঠোনে দেখা হল, রায়সাহেব এমনই আনপ্রেডিক্টেবল!