দ্য ওয়াল ব্যুরো: লাদাখের গালওয়ান উপত্যকায় চিনা বাহিনীর সঙ্গে মুখোমুখি সংঘাতে এখনও পর্যন্ত ২০ জন ভারতীয় জওয়ান ও অফিসার যে শহিদ হয়েছেন সে কথা সরকারি ভাবে জানিয়েছে নয়াদিল্লি। বুধবার সকালে এও জানা গিয়েছে, আরও চার জন জওয়ানের অবস্থা সঙ্কটজনক। কিন্তু হতাহতের সংখ্যা নিয়ে বেজিং একেবারে কুলুপ এঁটেছে মুখে।
বুধবার সকালে চিনের সরকারি সংবাদমাধ্যম পিপলস ডেইলি এবং পিএলএ ডেইলি-র যে সংস্করণ প্রকাশিত হয়েছে, তাতে হতাহতের সংখ্যার কোনও উল্লেখ নেই। এমনকি গ্লোবাল টাইমসেও সংঘাতের খবর ১৬ নম্বর পৃষ্ঠায় সেই খবর প্রকাশিত হয়েছে। তবে তাতেও হতাহতের সংখ্যার উল্লেখ নেই। শুধু বলা হয়েছে, ভারতীয় বাহিনীর সঙ্গে পিপলস লিবারেশন আর্মির ভয়ঙ্কর সংঘাত হয়েছে। জাতীয়তাবাদী ট্যাবলয়েড গ্লোবাল টাইমসে শিংগুয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ন্যাশনাল স্ট্র্যাটেজি ইনস্টিটিউটের ডিরেক্টর কিয়াং ফেং বলেছেন, টহলদারি চালাতে গিয়ে যে ঘটনা ঘটেছে তাতে দুই দেশেরই সেনা হতাহত হয়েছে। গত চার দশকের বেশি সময়ে ভারত-চিন সীমান্তে এমন ভয়ানক পরিস্থিতি হয়নি।
[caption id="attachment_230527" align="aligncenter" width="453"]
পিপলস ডেইলি[/caption]
কিন্তু এ ভাবে যখন হতাহতের সংখ্যা ঢাকা চাপা দেওয়ার চেষ্টা চলছে তখন চিনের নিজস্ব সোশাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মে মঙ্গলবার থেকে তুমুল আলোচনা শুরু হয়েছে। দেশের কত জন সেনা মারা গিয়েছে বা আহত হয়েছে সে ব্যাপারে উদ্বেগ প্রকাশ করতে শুরু করে দিয়েছে চিনের সাধারণ মানুষ।
কূটনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, ঘরোয়া চাপ ভালমতোই বুঝতে পারছে শি চিনফিং প্রশাসন। কিন্তু তা থেকে দৃষ্টি ঘোরানোর জন্য ভারত বিরোধী গরম গরম কথা বলছে। ভারতীয় সেনা গোয়েন্দারা গতকালই ওপারের বেতার তরঙ্গ ইন্টারসেপ্ট করে জানিয়েছিল, সংঘাতে অন্তত ৪৩ জন চিনা সৈনিক মারা গিয়েছে। হতে পারে সেই সংখ্যাটা আদতে ৪৩ এর বেশি। তা প্রকাশ হয়ে গেলে ভারতের সঙ্গে তুলনা হবে। তাতে ঘরোয়া পরিবেশে আরও চাপ বাড়বে চিনা প্রশাসনের উপরে। এমনিতেই কোভিডে মৃত্যু নিয়ে চিনের অন্দরেই বিক্ষোভের অন্ত নেই। সরকার তার শক্তি দিয়ে সব চাপা দিয়ে রেখেছে। কিন্তু কে বলতে পারে দুম করে ক্ষোভের বিস্ফোরণ ঘটে যাবে না।
[caption id="attachment_230530" align="aligncenter" width="329"]
গ্লোবাল টাইমস পৃষ্ঠা ১৬[/caption]
চিনের সংবাদমাধ্যমগুলি যে সে দেশের সরকার ও কমিউনিস্ট পার্টির অঙ্গুলিহেলনে চলে তা ওপেন সিক্রেট। সেগুলিকে সরকারি প্রচার যন্ত্রও বলা চলে। গ্লোবাল টাইমের সম্পাদক হু শিজিন বুধবার সকালে টুইট করে লিখেছেন, “পিপলস লিবারেশন আর্মির কতজন হতাহত হয়েছেন তা চিনা সরকার জানায়নি। আমার ধারনা হল চিনা সরকার চায় না দু’দেশের মানুষ হতাহতের সংখ্যা তুলনা করুক। উত্তেজনা এড়াতেই পথ নেওয়া হয়েছে। শুভ চিন্তা নিয়েই তা করেছে বেজিং”।
কিন্তু হু শিজিনের সেই টুইট নিয়েও সোশাল মিডিয়ায় সমালোচনা চলছে। আন্তর্জাতিক কূটনীতিকদের অনেকের ধারনা, গত কদিন ধরে বেজিংয়ে কোভিডে সংক্রমণ ফের বাড়তে শুরু করেছে। ইতিমধ্যে ইমার্জেন্সি ঘোষণা করা হয়েছেন চিনের রাজধানীতে। তা নিয়ে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের নজর ঘোরাতেই সীমান্তে পায়ে পা দিয়ে ঝগড়া লাগিয়েছে পিএলএ। নইলে গালওয়ানে যা হয়েছে তার মূল দায় পিএলএ-র। ১৪ নম্বর পেট্রলিং পয়েন্ট ভারতীয় ভূখণ্ডের মধ্যে রয়েছে। সেখানে তাঁবু গেড়েছিল পিএলএ। আলোচনায় ঠিক হয়েছিল তা তারা তুলে নেবে। কিন্তু তা করেনি। ভারতীয় বাহিনী সেই তাঁবু তুলে দিতে বলার পরই ওরা পাথর ছুঁড়তে শুরু করে। কিন্তু যথাযথ জবাব দিয়েছে ভারতীয় সেনাও। এই সংঘাত এখন কতদূর গড়ায় সেটাই দেখার।