দ্য ওয়াল ব্যুরো : "ভারত বা চিন, কেউই চায়নি এমন ঘটুক।" মঙ্গলবার গালওয়ানের সংঘর্ষ সম্পর্কে এমন মন্তব্য করলেন ভারতে নিযুক্ত চিনের রাষ্ট্রদূত সুন ওয়েইডং। চায়না-ইন্ডিয়া ইয়ুথ ওয়েবিনারে তিনি মন্তব্য করেন, "অল্পদিন আগে একটা দুর্ভাগ্যজনক ঘটনা ঘটে গিয়েছে। ইতিহাসের দৃষ্টিকোণ থেকে দেখলে দুই দেশের এই দ্বন্দ্ব ক্ষণিকের।" ভারত ও চিন, উভয় দেশই এখন বিরোধ মেটানোর চেষ্টা করছে বলে তিনি মন্তব্য করেন।
সুন ওয়েইডং বলেন, ৭০ বছর আগে ভারত ও চিনের মধ্যে কূটনৈতিক সম্পর্ক স্থাপিত হয়। এরপরে সেই সম্পর্ক নানা পরীক্ষার মধ্যে দিয়ে গিয়েছে। অনেক ঘাত-প্রতিঘাত সহ্য করেছে। তাঁর কথায়, "দুই দেশের সুসম্পর্ক কোনওভাবেই নষ্ট হতে দেওয়া যায় না। নতুন শতাব্দীতে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের উন্নতি হওয়া উচিত, অবনতি নয়।"
চিনের রাষ্ট্রদূত বলেন, ভারত ও চিন, দুই দেশের সভ্যতা অতি প্রাচীন। দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক বজায় রাখার মতো জ্ঞান দুই দেশেরই আছে। তাঁর কথায়, "চিন ভারতকে প্রতিদ্বন্দ্বী হিসাবে দেখে না। সহযোগী হিসাবে দেখে। আমরা মনে করি সীমান্ত নিয়ে বিতর্ক আলোচনার মাধ্যমে মিটিয়ে নেওয়া যাবে।" পরে সুন বলেন, "ভারত ও চিনের উচিত নিজেদের মধ্যে শান্তি বজায় রাখা। সংঘর্ষে জড়ানো উচিত নয়।"
বিশ্বায়ন সম্পর্কেও বক্তব্য পেশ করেন সুন। তিনি বলেন, "কোনও দেশই বাকি দুনিয়া থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে থাকতে পারে না। তাহলে তার উন্নয়ন হবে না। আমাদের কেবল স্বনির্ভর হওয়ার ওপরে জোর দিলে হবে না। বিশ্বায়নের নীতির সঙ্গে সঙ্গতি রেখে নিজেদের দরজা খোলা রাখতে হবে। একমাত্র এই পথে আমরা আরও উন্নয়নের পথে অগ্রসর হতে পারি।"
গালওয়ানের ঘটনার পরে ভারত সিদ্ধান্ত নেয়, চিনের কয়েকটি পণ্য বর্জন করা হবে। সুন কিন্তু এদিন বাণিজ্যের ক্ষেত্রে দুই দেশের সহযোগিতার ওপরে জোর দিয়েছেন। তিনি বলেন, "দক্ষিণ এশিয়ায় বাণিজ্যে চিনের সবচেয়ে বড় অংশীদার ভারত। চিন ও ভারত, দুই দেশের অর্থনীতির মধ্যে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক আছে। আমরা আশা করি দুই দেশের অর্থনীতি চুম্বকের মতো পরস্পরকে আকর্ষণ করবে। জোর করে তাদের বিচ্ছিন্ন করে রাখলে ফল ভাল হবে না।"
অন্য প্রসঙ্গে চিনা রাষ্ট্রদূত বলেন, "দুই দেশের মানুষের মধ্যে যোগাযোগ রক্ষার জন্য পরস্পরের ভাষা শিখতেই হবে। দুই দেশের মধ্যে সাংস্কৃতিক আদান প্রদানও হতে হবে। এই ব্যাপারটাকে অবহেলা করা যায় না। বিষয়টি নিয়ে কখনই রাজনীতি করা উচিত নয়।"