দ্য ওয়াল ব্যুরো : হিন্দু দেবদেবীদের নিয়ে কটাক্ষ। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের অবমাননা। দু'টি অভিযোগে এক মাসেরও বেশি ইন্দোর জেলে কাটিয়েছেন স্ট্যান্ড আপ কমেডিয়ান মুনাওয়ার ফারুকি। সুপ্রিম কোর্ট তাঁর জামিন মঞ্জুর করে। শনিবার মাঝরাতে তিনি মুক্তি পেলেন। তিনি মুক্তি পাওয়ার কয়েক ঘণ্টা আগেও ইন্দোর জেল কর্তৃপক্ষ জানায়, সুপ্রিম কোর্টের কোনও অর্ডার তারা পায়নি। মুক্তি পাওয়ার পরে কমেডিয়ান বলেন, "বিষয়টি বিচারাধীন। বিচারব্যবস্থা ও প্রশাসনের ওপরে আমার মূর্ণ আস্থা আছে। এই পরিস্থিতিতে আমি কোনও মন্তব্য করতে রাই নয়।"
https://twitter.com/Anurag_Dwary/status/1358157494086889472
গত শুক্রবার শীর্ষ আদালত ফারুকিকে জামিন দেয়। বিচারপতিরা মধ্যপ্রদেশ সরকারকে নোটিশ দেন। কমেডিয়ানের নামে উত্তরপ্রদেশেও ওয়ারেন্ট ছিল। সুপ্রিম কোর্ট সেই ওয়ারেন্ট আপাতত কার্যকর করতে নিষেধ করেছে।
ইন্দোরের বিধায়ক মালিনী সিং গৌরের ছেলে একলব্য সিং গৌর অভিযোগ করেন, পাবলিক শো-তে ফারুকি হিন্দু দেবদেবীদের সম্পর্কে আপত্তিকর মন্তব্য করেছেন। ফারুকির পালটা বক্তব্য ছিল, তিনি ওই শো-তে উপস্থিত ছিলেন ঠিকই কিন্তু কোনও মন্তব্য করেননি। শীর্ষ আদালত বলে, পুলিশ যথাযথ নিয়ম মেনে কমেডিয়ানকে গ্রেফতার করেনি। বিধায়কের ছেলে তাঁর বিরুদ্ধে যে অভিযোগ করেছেন, তাও স্পষ্ট নয়।
শনিবার কয়েকটি টুইট করে কংগ্রেস নেতা পি চিদম্বরম প্রশ্ন করেন, "গতকাল সকালেই সুপ্রিম কোর্ট ফারুকিকে জামিন দিয়েছে। তাও তাঁকে এখনও জেল থেকে ছেড়ে দেওয়া হয়নি কেন?"
https://twitter.com/PChidambaram_IN/status/1358051936809803780
সুপ্রিম কোর্ট কমেডিয়ানকে জামিন দেওয়ার পরে মধ্যপ্রদেশের মন্ত্রী বিশ্বাস সারং বলেন, "রুটিনমাফিক ফারুকি জামিন পেয়েছেন। তাতে প্রমাণ হয় না যে তিনি নির্দোষ।" পরে তিনি বলেন, "আমাদের পুলিশ কোনও ভুল করেনি। কাউকে হিন্দু দেবদেবীদের নিয়ে মজা করার অনুমতি দেওয়া যায় না।"
ফারুকির জামিনের আবেদন নাকচ করে মধ্যপ্রদেশ হাইকোর্ট বলেছিল, এখনও পর্যন্ত যে তথ্যপ্রমাণ পাওয়া গিয়েছে, তাতে মনে হয়, স্ট্যান্ড আপ কমেডির নামে প্রকাশ্য স্থানে পাবলিক শো-এর আয়োজন করা হয়েছিল। সেখানে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে ভারতের নাগরিকদের একাংশের ধর্মীয় ভাবাবেগে আঘাত দেওয়া হয়।
বিচারপতিরা বলেন, অনেকেই অভিযোগ করেছে, ফারুকি গত ১৮ মাস ধরে সোশ্যাল মিডিয়ায় হিন্দু দেবদেবীদের উদ্দেশে কটূক্তি করে চলেছেন। অনেকেই তাঁর মন্তব্যের প্রতিবাদ করেছেন। কিন্তু ফারুকি তাতে বিরত হননি। বিচারপতি বলেন, "প্রত্যেক নাগরিকের সাংবিধানিক কর্তব্য হল ধর্মীয়, ভাষাগত, আঞ্চলিক ও গোষ্ঠীগত সুসম্পর্ক বজায় রাখা।"