
প্রতীকী ছবি।
শেষ আপডেট: 21 August 2024 18:59
দ্য ওয়াল ব্যুরো: বাঘে ছুঁলে আঠেরো ঘা, পুলিশে ছুঁলে ছত্রিশ, এসব নাকি ব্যাকডেটেড! কপাল ভাল থাকলে, ক্ষেত্র বিশেষে পুলিশ ছুঁলে থানায় যাওয়ার পর মিলতে পারে পানীয় জলের বোতল, স্পেশ্যাল চায়ের আতিথেয়তাও!
গত ১৭ অগস্ট বিকেলে জলপাইগুড়ি আর্ট কমপ্লেক্সের সামনে একপ্রস্থ তর্কাতর্কির পর পুলিশ যখন প্রিজন ভ্যানে তুলছিল, তখন প্রবীণ সৌভিক কুন্ডা ধরেই নিয়েছিলেন, পুলিশ সম্ভবত অ্যারেস্ট করেছে!
কিন্তু নাহ্, থানায় গিয়ে অন্য অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হতে হয়েছে জলপাইগুড়ির অবসরপ্রাপ্ত প্রবীণ স্কুল শিক্ষককে। সৌভিকবাবুর কথায়, "জলসা নয়, বিচার চাই, ব্যানার নিয়ে সরকারি মোচ্ছবের প্রতিবাদ জানাচ্ছিলাম বলে পুলিশ ধাক্কা দিয়ে আর্ট কমপ্লেক্সের সামনে থেকে আমাদের আটজনকে আটক করে থানায় নিয়ে যায়। থানার একটি ঘরে আটকে রাখা হয়। পুলিশ প্রথমে বলে, যে গ্রেফতার করা হয়েছে। ধারা জানতে চাইলে ওই অফিসার চুপ করে যান। এরপর পানীয় জলের বোতল, স্পেশ্যাল চা দিয়ে পুলিশ আপ্যায়নও করে। সাতটার পর আমাদের বলা হয়, এবার যেতে পারেন! তখন বুঝতে পারি, আমাদের আন্দোলন ভেস্তে দিতেই পুলিশের এই কারসাজি।"
ঘটনার সূত্রপাত, ১৭ ও ১৮ অগস্ট জলপাইগুড়ি শহরে পশ্চিমবঙ্গ সরকারের তথ্য ও সংস্কৃতি দফতরের উদ্যোগে আর্ট কমপ্লেক্সে শ্রদ্ধাঞ্জলি অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছিল। আরজি করে ডাক্তারি ছাত্রী খুনের আবহে এমন অনুষ্ঠান না করার জন্য ফেসবুকে পোস্ট করেছিলেন স্কুলশিক্ষক সৌভিক কুন্ডা। পাশে পেয়েছিলেন আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্মান ক্যান্সার স্পেশালিস্ট ডঃ সায়ন পাল, বিজ্ঞানী সুবীর সরকারদের।
পুলিশের এই 'কারসাজি'র প্রতিবাদে ১৮ তারিখও সরকারি অনুষ্ঠান বাতিলের দাবিতে আর্ট কমপ্লেক্সের সামনে বিক্ষোভ দেখান তাঁরা। দ্বিতীয় দিন বিক্ষোভে হাজির হয়েছিলেন প্রায় হাজার খানেক মানুষ। বিক্ষোভ সামলাতে পুলিশ ব্যারিকেডও করে। পুলিশের এহেন আচরণের প্রতিবাদে পরের দিন রাখি পূর্ণিমার দিন আইসি সঞ্জয় দত্তকে রাখিও পরিয়ে আসেন সৌভিকবাবুরা!
আক্ষেপের সুরে সৌভিক কুন্ডা বলেন, "দরকারে সাধারণ মানুষ পুলিশকে খুঁজে পাই না। অথচ সরকারি মোচ্ছবের বিরুদ্ধে মানুষের স্বতস্ফূর্ত আন্দোলন ভাঙতে পুলিশের এই তৎপরতা দেখে আমরা হতভম্ব হয়ে গেছি। তবে পুলিশের অতি সক্রিয়তার পরেও মানুষ আমাদের ডাকে সাড়া দিয়ে সরকারি ওই মোচ্ছব প্রত্যাখ্যান করেছিলেন। শুধু তাই নয়, পুলিশের এহেন আচরণের প্রতিবাদে তারপর থেকে প্রতিদিনই কোনও কোনও সংগঠনের ব্যানারে মানুষ প্রতিবাদ আন্দোলন সংগঠিত করছেন।"
এ ব্যাপারে জলপাইগুড়ি থানার আইসি সঞ্জয় দত্তের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি কোনও মন্তব্য করতে চাননি। তবে নাম প্রকাশ করব না এই শর্তে থানার এক অফিসার বলেন, "ওরা শুধু প্রতিবাদ জানালে ঠিক ছিল, কিন্তু ওরা তো মানুষকে অনুষ্ঠানস্থলে ঢুকতেও বাধা দিচ্ছিলেন।" একই সঙ্গে তিনি বলেন, "ওনারা তো ক্রিমিনাল নন, তাই গ্রেফতার করা হয়নি। থানাতে চা-জল দেওয়া হয়েছিল।" সাধারণ মানুষকে বাধা দেওয়ার অভিযোগ অবশ্য উড়িয়ে দিয়েছেন মাস্টারমশাই।