দ্য ওয়াল ব্যুরো: মার্চের মাঝামাঝি দিল্লির নিজামুদ্দিন মার্কাজে একটি ধর্মসভায় উপস্থিত হয়েছিলেন তাঁরা। বাকিটা বহু আলোচ্য বিষয়। সেখান থেকেই কয়েক হাজার করোনা আক্রান্তের খোঁজ মেলে। উত্তাল হয়ে ওঠে সারা দেশ। তবলিঘির সেই সব সদস্যের বিরুদ্ধে অভিযোগ ছেয়ে যায় দেশে। সেই আক্রান্তরা এখন সুস্থ। এবার তাঁদের অনেকেই নিজেদের রক্ত দান করলেন দিল্লিতে। তাঁদেরই রক্তের প্লাজমা থেকে হবে করোনার চিকিৎসা।
অতি প্রাচীন চিকিৎসা পদ্ধতি এই 'প্লাজমা থেরাপি'। সহজ ভাবে বলতে গেলে, কোনও রোগ থেকে প্রাকৃতিক নিয়মেই কেউ সেরে উঠলে তার রক্তের প্লাজমা নিয়ে পরবর্তী কোনও আক্রান্তের শরীরে ঢুকিয়ে দেওয়া হতো। বেশ কিছু ক্ষেত্রে সাফল্য দেখা যাওয়ার পরে পরবর্তীতে এই চিকিৎসা পদ্ধতিকেই নতুন মোড়কে নির্মাণ করা হয়। পৃথিবীর ইতিহাসে যতবার অজানা মহামারী এসেছে, এই চিকিৎসা পদ্ধতিরই দ্বারস্থ হয়েছে মানুষ।
ইতিহাস বলছে, ১৯১৮ সালে স্প্যানিশ ফ্লু-এর চিকিৎসাও এভাবেই করা হয়েছিল। সাফল্য মিলেছিল। সেই ইতিহাসকেই স্বাক্ষী করে এবারেও করোনার বিরুদ্ধে পৃথিবীর বেশ কিছু দেশে এই পদ্ধতিকেই অবলম্বন করা হয়েছে। বেশ কিছু সাফল্যও এসেছে বলে জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। ভারতেও এই পদ্ধতিতে চিকিৎসা হবে বলে জানিয়েছিল স্বাস্থ্য মন্ত্রক। এর পরেই জানা যায় দিল্লির নিজামুদ্দিন মার্কাজের তবলিঘি সদস্যরা প্লাজমা থেরাপির জন্য রক্ত দান করতে চেয়েছে।
ওই তবলিঘি জমায়েতের নেতা মৌলানা সাদ আগেই তবলিঘি সদস্যদের সকলকে অনুরোধ করে জানান, সামনেই পবিত্র রমজান মাস। ত্যাগের মাস। এই সময়ে করোনা থেকে সেরে ওঠা সকল সদস্যকে রক্তদান করে করোনার বিরুদ্ধে এই যুদ্ধে শামিল হতে বলেন তিনি। সেই সঙ্গে আসন্ন ঈদে সকল মুসলিমকে ঘরে বসে উৎসব পালনের জন্যও অনুরোধ করেন। এর পরে অবশ্য গ্রেফতারও হন মৌলানা সাদ।
দিল্লির প্রধানমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিওয়ালও এই প্লাজমা থেরাপির জন্য জাতি-ধর্ম নির্বিশেষে সকলকে রক্তদানের জন্য অনুরোধ করেন। দিল্লী সরকারের স্বাস্থ্য দফতরের তরফে জানা যায়, প্রায় হাজারের ওপর তবলীগ সদস্য সুস্থ হয়েছেন। তাঁদেরই একটা বড় অংশ এবার রাজধানীর বিভিন্ন প্রান্তে রক্তদানের জন্য এগিয়ে এলেন।
মুখ্যমন্ত্রী কেজরিওয়াল বলেছেন এটাই দেশের সংহতির সময়, ভ্রাতৃত্বের সময়। করোনার বিরুদ্ধে এভাবেই এক হয়ে সকলকে লড়তে হবে। হয়তো এই মুসলিমের রক্তের প্লাজমাই কোনও হিন্দুর প্রান বাঁচাবে।