
সুন্দরবন থেকে বান্দোয়ান, চর্চায় বাঘ-বাঘিনি।
শেষ আপডেট: 26 December 2024 13:25
দ্য ওয়াল ব্যুরো: বান্দোয়ান থেকে সুন্দরবনের দূরত্ব কত? গুগল ম্যাপ অনুযায়ী ২৯৪ কিমি। বাঘ-বাঘিনিকে ঘিরে দুই প্রান্তে দুই দৃশ্য।
নাওয়া খাওয়া ভুলে টানা ৭দিন ধরে বাঘিনিকে বাগে আনতে বান্দোয়ানে কার্যত নাকানিচোবানি খাচ্ছেন বনকর্তারা। শীতের রাতেও পুরুলিয়ার জঙ্গলে রাত কাটছে তাঁদের। অন্যদিকে বড়দিনে সুন্দরবন ঘুরতে গিয়ে বড় উপহার পেলেন পর্যটকরা। দেখা মিলল রয়্যাল বেঙ্গল টাইগারের।
বুধবার সুন্দরবনের হিঙ্গলগঞ্জে ঘুরতে গিয়েছিলেন একদল পর্যটক। লঞ্চে করে সুন্দরবন ঘোরার ফাঁকে কালীতলার কাছে কুঁড়েখাড়ি নদীতে দক্ষিণরায়ের দেখা পান তাঁরা। নদী সাঁতরে লাফিয়ে পাড়ে ওঠে বাঘ। তা দেখে হইহই করে ওঠেন পর্যটকরা। বস্তুত, সুন্দরবনে বেড়াতে গিয়ে বাঘের দর্শন পর্যটকদের কাছে বড় পাওনা। স্বভাবতই, আপ্লুত তাঁরা।
অন্যদিকে সাত দিন পরেও বাঘিনিকে কব্জা করতে না পেরে কার্যত নাস্তানাবুদ বনকর্তারা। পুরুলিয়ার রাইকা পাহাড় সংলগ্ন রাহামদা গ্রাম। ঝাড়গ্রামের বেলপাহাড়ি থেকে গত শনিবার রাতে এই গ্রাম সংলগ্ন পাহাড়ের জঙ্গলে জিনাত ঘাঁটি গেড়েছে। সেই থেকে পুরুলিয়ার এই তল্লাটেই লুকোচুরি খেলছে জিনাত।
বাঘিনিকে বাগে আনতে ব্রেক ফাস্ট থেকে ডিনার, জিনাতের জন্য হাজারও আয়োজন রেখেছে বন দফতর। কিন্তু কোনও কিছুতেই কাজ হচ্ছে না। খাঁচায় টোপ হিসেবে রাখা ছাগল, মোষ বা শুয়োরের পরিবর্তে গ্রাম লাগায়ো জঙ্গল থেকে গবাদি পশু শিকার শুরু করেছে বাঘিনি।
যার জেরে গ্রামবাসীদের মধ্যে বাড়ছে ক্ষোভও। পরিস্থিতি আন্দাজ করে এরপরই সুন্দরবন ব্যাঘ্র প্রকল্পের ধাঁচে জাল দিয়ে ঘেরা হয়েছে পুরুলিয়ার সংশ্লিষ্ট গ্রাম। একই সঙ্গে গ্রাম সংলগ্ন জঙ্গলে কড়া নজরদারি শুরু করেছে বন দফতরের ১৫টি টিম। তদারকিতে রয়েছেন দক্ষিণ-পশ্চিম চক্রের মুখ্য বনপাল বিদ্যুৎ সরকার, পুরুলিয়ার ডিএফও অঞ্জন গুহ, কংসাবতী দক্ষিণ বনবিভাগের ডিএফও পূরবী মাহাতো এবং সুন্দরবন ব্যাঘ্র প্রকল্পের একাধিক আধিকারিকরা।
বনকর্তাদের আশা, জাল দিয়ে গ্রাম ঘেরার পর জিনাতের খাবারে টান পড়বেই। সেক্ষেত্রে সে নিজের অবস্থান বদলাতে পারে। আর তখনই ঘুমপাড়ানি গুলি দিয়ে জিনাতকে বাগে আনার পরিকল্পনা রয়েছে বন দফতরের। তবে বনকর্তাদের সেই আশা পূরণে বাঘিনি নিজের ডেরা থেকে কবে বাইরে বেরিয়ে আসে এখন সেটাই দেখার।