
শেষ আপডেট: 18 April 2020 10:50
শুধু চিঠিপত্র নয়, কোভিড ১৯ টেস্টিং কিট থেকে শুরু করে ওষুধ, মাস্ক, জরুরি পণ্য-- সমস্ত কিছু এক শহর থেকে অন্য শহরে পৌঁছে দিচ্ছে সাবেকি ডাক যোগাযোগ। এই সপ্তাহের শেষেই ড্রাই আইসে মোড়া টেস্টিং কিট দিল্লি থেকে রাঁচির বিভিন্ন হাসপাতালে পৌঁছে দেওয়া হয়েছে ডাক মারফত।
পশ্চিমবঙ্গ সার্কেলের মুখ্য পোস্টমাস্টার জেনারেল গৌতম ভট্টাচার্য জানান, তাঁরা যত দ্রুত সম্ভব পরিষেবা দেওয়ার চেষ্টা করছেন, এমনকি রাতারাতি জরুরি পণ্য সঠিক ঠিকানায় পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে। সম্প্রতি দিল্লি থেকে কলকাতায় প্রায় ৬৫০ কেজি ওষুধ ও পিপিই এসে পৌঁছয় রাতারাতি। সৌজন্যে ইন্ডিয়ান পোস্ট। গৌতমবাবু জানিয়েছেন, শুধু কলকাতা ও পার্শ্ববর্তী জেলাতেই যোগাযোগ স্থাপনের জন্য তাঁদের ৫০টি মেল ভ্যান সবসময় প্রস্তুত। এই পরিস্থিতিতে রীতিমতো যোদ্ধার মতো দাঁড়িয়ে মফস্বলের ডাক কর্মীরা।
এই প্রসঙ্গে উদাহরণ দিতে গিয়ে গৌতমবাবু বলেন নদিয়ার দেবগ্রামের পোস্টমাস্টার সঞ্জিত হালদারের কথা, যিনি দেড়শো কিলোমিটার সাইকেলে চড়ে কর্মস্থলে পৌঁছন, যাতে ৩০০ মানুষ পেনশনের টাকা পান সময়মতো। নিজের নৈতিক দায় থেকে এগিয়ে আসা সঞ্জিত জানান প্রথমে ট্যাক্সির খোঁজ করলেও তার ভাড়া অত্যাধিক বেশি হওয়ায় নিজের মেয়ের সাইকেল নিয়েই বেরিয়ে পড়েন তিনি। পথে অসুস্থও হয়ে পড়েন, সামান্য কিছু খেয়ে তবুও এসে পৌঁছন।
[caption id="attachment_210272" align="aligncenter" width="600"]
গৌতম ভট্টাচার্য।[/caption]
তথ্য বলছে, ইতিমধ্যেই ডাকবিভাগের কলকাতা শাখার প্রায় ৬০ হাজার বয়স্ক নাগরিকদের দরজায় দরজায় গিয়ে পেনশনের টাকা পৌঁছে দেওয়া হয়েছে। ডাক বিভাগের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে তাদের পরিষেবায় খুব অসুবিধা হলে একটু দেরি হতে পারে, কিন্তু বন্ধ কোনও ভাবেই হবে না।
বিশ্বায়নের স্পর্শে বেসরকারি পরিষেবার দিকে ঝুঁকছে গোটা দেশের পরিকাঠামো। কিন্তু এই যুদ্ধকালীন পরিস্থিতিতে যখন বেসরকারি বহু সংস্থাই পিছু হটেছে তখন সাবেকি ডাক যোগাযোগই মূল ভরসা হয়ে উঠেছে সারা দেশের।