দ্য ওয়াল ব্যুরো : খুব শীঘ্রই আফগানিস্তানে সরকার গঠন করবে তালিবান। এর মধ্যে জানা যায়, পঞ্জশির উপত্যকায় (panjshir valley) তালিবানের বিরুদ্ধে লড়াই তীব্রতর হয়েছে। তালিবান চায় নতুন সরকার ঘোষণার আগেই পঞ্জশির থেকে বিরোধীদের নির্মূল করে ফেলতে। আফগানিস্তানে সোভিয়েত আক্রমণের সময় থেকেই স্বাধীন অস্তিত্ব বজায় রাখছে পঞ্জশির। ১৯৯৬ থেকে ২০০১ সাল পর্যন্ত তালিবান ক্ষমতায় থাকার সময়েও পঞ্জশিরকে বশ মানানো যায়নি। কাবুল থেকে ৮০ কিলোমিটার দূরে ওই উপত্যকায় তালিবান বিরোধী ন্যাশনাল রেজিস্ট্যান্স ফ্রন্ট বিপুল পরিমাণে অস্ত্রশস্ত্র জমা করেছে বলে জানা যায়।
পঞ্জশির উপত্যকায় তাদের বিরুদ্ধে তীব্র প্রতিরোধ গড়ে তুলেছে প্রয়াত আহমেদ শাহ মাসুদের ছেলে আহমেদ মাসুদের বাহিনী। সঙ্গে যোগ দিয়েছে প্রাক্তন ভাইস প্রেসিডেন্ট আমরুল্লা সালেহও। গত কয়েকদিন ধরেই তালিবান ও স্থানীয় প্রতিরোধ (resistance forces) বাহিনীর সংঘর্ষে উত্তপ্ত হয়ে ছিল পঞ্জশির। দুপক্ষেরই ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়। সেখানে আঞ্চলিক মিলিশিয়া ও প্রাক্তন সরকারি সশস্ত্র বাহিনীর অবশিষ্ট অংশ আহমেদ মাসুদের নেতৃত্বে লড়ছে। তালিবানের তিনটি সূত্রের দাবি, শুক্রবার তারা পঞ্জশির দখল করেছে। এক তালিবান কম্যান্ডার বলেছে, আল্লাহর আশীর্বাদে গোটা আফগানিস্তান আমাদের নিয়ন্ত্রণে। বাধা সৃষ্টিকারীরা হটে গিয়েছে। পঞ্জশির এখন পুরোপুরি আমাদের দখলে। কিন্তু ওই দাবির কিছুক্ষণের মধ্যে আবার শোনা যায়, লড়াই তীব্রতর হয়েছে পঞ্জশিরে।
ইতিমধ্যে আমরুল্লা সালেহ একটি ভিডিও ক্লিপ পাঠিয়েছেন বিবিসির কাছে। তাতে বলা হয়েছে, নিঃসন্দেহে আমরা কঠিন পরিস্থিতিতে পড়েছি। তালিবানি আগ্রাসন চলছে। আমরা মাটি কামড়ে পড়ে রয়েছি। ঠেকিয়ে রেখেছি ওদের। প্রতিরোধ বহাল রয়েছে, চলবে। আমি নিজের মাটিতে, মাটির পক্ষে রয়েছি। তার মর্যাদা রক্ষা করে চলেছি। তাঁর ছেলে এবাদুল্লাহ সালেহ পঞ্জশির পতনের খবর উড়িয়ে বলেছেন, এটা মিথ্যা খবর।
১৫ আগস্ট তালিবান কাবুল দখল করে। তালিবান সূত্রের দাবি, তাদের সহ প্রতিষ্ঠাতা মোল্লা আবদুল গনি বরাদর নয়া আফগান সরকারের নেতৃত্ব দেবেন। অর্থনীতিকে ভেঙে পড়ার হাত থেকে বাঁচানোই হবে নতুন সরকারের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার। একদিকে খরা, আরেকদিকে গত ২০ বছরের অন্তহীন সংঘর্ষে বিপর্যস্ত অর্থনীতি। ৩০ আগস্টের মধ্যে মার্কিন সেনাবাহিনী চলে যাওয়ার আগে প্রায় ২ লাখ ৪০ হাজার আফগান নিহত হয়েছে। শুধু মানবিক বিপর্যয়ই নয়, একাধিক বিবদমান জেহাদি গোষ্ঠীর, যাদের মধ্যে ইসলামিক স্টেটও আছে, নিজেদের মধ্যে লড়াইয়ে অশান্তির আশঙ্কা তীব্র আফগানিস্তানে।