দ্য ওয়াল ব্যুরো : মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথের মানহানি করেছেন। কিন্তু খুন তো করেননি। এখনই সাংবাদিক প্রশান্ত কানোজিয়াকে মুক্তি দিন। সাংবাদিকের স্ত্রীর আর্জি শুনে মঙ্গলবার এমনই মন্তব্য করল সুপ্রিম কোর্ট। একইসঙ্গে বিচারপতিরা বলেছেন, সাংবাদিককে মুক্তি দিতে বলা মানে এই নয় যে, তিনি যা পোস্ট করেছেন, শীর্ষ আদালত তা সমর্থন করছে।
বিচারপতি ইন্দিরা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে সুপ্রিম কোর্টের এক অবসরকালীন বেঞ্চ সেই আর্জি শোনে। বিচারপতিরা বলেন, কোনও নাগরিকের স্বাধীনতা নিয়ে সমঝোতা চলে না। সংবিধান নাগরিককে এই স্বাধীনতা দিয়েছে।
গত শনিবার টুইটারে যোগীর বিরুদ্ধে আপত্তিকর পোস্ট করার জন্য প্রশান্ত গ্রেফতার হন। এই গ্রেফতারিকে বেআইনি বলে দাবি করে সুপ্রিম কোর্টে আর্জি জানান তাঁর স্ত্রী। এদিন তার শুনানি হয়। বিচারপতি বলেন, আমরা সাধারণত এই ধরনের আর্জি গ্রহণ করি না। কিন্তু কেউ ১১ দিন জেলে কাটাতে পারে না।
বিচারপতি ইন্দিরা বন্দ্যোপাধ্যায় উত্তরপ্রদেশ সরকারের কৌঁসুলিকে প্রশ্ন করেন, কারও টুইটের ভিত্তিতে কীভাবে তাকে গ্রেফতার করা যায়? সরকারি কৌঁসুলি বলেন, প্রশান্ত আগেও বিভিন্ন দেবতা ও ধর্ম নিয়ে উস্কানিমূলক টুইট করেছেন। সেজন্য তাঁর বিরুদ্ধে ভারতীয় দণ্ডবিধির ৫০৫ নম্বর ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে।
যোগীর বিরুদ্ধে সোশ্যাল মিডিয়ায় আপত্তিকর পোস্ট করার জন্য প্রশান্ত সহ পাঁচজন গ্রেফতার হন। তারপর নানা মহলে বিতর্ক শুরু হয়। সোশ্যাল মিডিয়ায় অনেকেই মন্তব্য করেন, মতপ্রকাশের স্বাধীনতার ওপরে আঘাত হানা হয়েছে। এডিটরস গিল্ড পুলিশের বাড়াবাড়ি ও একতরফা গ্রেফতারের নিন্দা করে। তাদের বক্তব্য, মানহানি সংক্রান্ত আইনের অপব্যবহার করা হচ্ছে।
প্রশান্ত কানোজিয়া একজন ফ্রিল্যান্স সাংবাদিক। বাড়ি দিল্লিতে। সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি ভিডিও পোস্ট করেছিলেন। তাতে দেখা যাচ্ছে, লখনউতে মুখ্যমন্ত্রীর বাড়ির সামনে দাঁড়িয়ে এক মহিলা বলছেন, তিনি যোগী আদিত্যনাথকে বিয়ের প্রস্তাব দিয়েছেন।
লখনউতে এক পুলিশ অফিসার অভিযোগ করেন, মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথের ভাবমূর্তি কলঙ্কিত করার চেষ্টা চালিয়েছেন প্রশান্ত। শনিবার উত্তরপ্রদেশের পুলিশ তাঁকে নিজের বাড়ি থেকে গ্রেফতার করে। একইদিনে নয়ডা থেকে এক বেসরকারি টিভি চ্যানেলের প্রধান ও সম্পাদক গ্রেফতার হন। গত ৬ জুন সেই চ্যানেলের বিতর্ক সভায় ওই মহিলাকে আনা হয়েছিল। সেখানে তিনি যোগীর বিরুদ্ধে মানহানিকর মন্তব্য করেন বলে অভিযোগ।
কংগ্রেস সভাপতি রাহুল গান্ধী সাংবাদিকদের গ্রেফতারের নিন্দা করে বলেছেন, যে সাংবাদিকরা আমার নামে আরএসএস-বিজেপির বিষাক্ত প্রচারগুলি পোস্ট করেছেন, তাঁদের সকলকে যদি জেলে পুরতে হয়, তাহলে বেশিরভাগ সংবাদপত্র ও চ্যানেলে কর্মীর সংকট দেখা দেবে।
যোগী আদিত্যনাথ সম্পর্কে রাহুল মন্তব্য করেন, তিনি বোকার মতো আচরণ করছেন। ধৃত প্রত্যেক সাংবাদিককেই ছেড়ে দেওয়া উচিত।
https://twitter.com/RahulGandhi/status/1138309411175141376