দ্য ওয়াল ব্যুরো: করোনার কার্ভ কিছুটা হলেও স্থির হয়েছে। নতুন সংক্রামিতের খবর নেই। কিন্তু এখনই ঝুঁকি নিতে চায় না ফ্রান্স। ইউরোপের দেশগুলির মধ্যে ইতালি, স্পেনের পরেই করোনার প্রাণঘাতী প্রভাব দেখা গেছে ফ্রান্সেও। চিনের মতো যাতে দ্বিতীয় দফায় সংক্রমণের ধাক্কাটা আতঙ্কের কারণ না হয়ে ওঠে, তাই গোটা দেশকেই আগামী ১১ মে পর্যন্ত তালাবন্ধ করে রাখার সিদ্ধান্ত নিলেন ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রন।
করোনার সংক্রমণ চিনের পরেই ভয়াবহ আকার নিয়েছিল ইতালিতে। তারপরেই সংক্রমণের প্রকোপ দ্রুত গতিতে ছড়িয়ে পড়ে ফ্রান্সে। ২৪ ঘণ্টার মধ্যে করোনা আক্রান্ত ২১ জনের মৃত্যু এবং ১২০০ জনেরও বেশি আক্রান্ত হওয়ার পরে নড়েচড়ে বসে প্রশাসন। প্রথম ৩০ দিনের লকডাউন ঘোষণা করা হয়। সংক্রমণ রুখতে স্কুল-কলেজ, সিনেমা হল, শপিং মল, রেস্তোরাঁ-পানশালা সব বন্ধ করে দেওয়া হয়।
জন হপকিনস ইউনিভার্সিটির রিপোর্ট বলছে, ফ্রান্সে করোনায় আক্রান্তের সংখ্যা ১ লক্ষ ৩৬ হাজার ৭৭৭। মৃত্যু হয়েছে ১৪,৯৬৭। তবে গত কয়েকদিনে নতুন সংক্রামিতের তেমন কোনও খবর মেলেনি। ইতালির মতো ফ্রান্সেও করোনার গ্রাফ ধীরে ধীরে নিম্নমুখী। ফরাসি প্রেসিডেন্ট বলেছেন, যে ভাবে ঝড়ের গতিতে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে ছড়িয়ে পড়ছে সংক্রমণ, তা উদ্বেগজনক। সেই সঙ্গেই ইতালির থেকে শিক্ষা নিয়ে আর কোনও ঝুঁকি নিতে চায় না ফ্রান্স। অত্যন্ত কঠোরভাবে লকডাউনের বিধি মেনে চলা হচ্ছে। অবাধে চলাফেরায় নিয়ন্ত্রণ জারি করা হয়েছে। সামাজিক বা পারিবারিক জমায়েতও নিষিদ্ধ অন্তত জুলাই মাসের মাঝামাঝি পর্যন্ত। শুধুমাত্র নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্র কেনা, ওষুধ, হাসপাতাল বা কর্মক্ষেত্র সংক্রান্ত কাজ ছাড়া বাইরে বেরনো যাবে না।
পৃথিবী জুড়ে সংক্রমণের সংখ্যা এখন ১৯ লাখের উপরে। মৃত্যু ১ লক্ষ ১৬ হাজার ছাড়িয়েছে। আগামী একবছরের জন্য লকডাউন ঘোষণা করার সিদ্ধান্ত নিতে পারে ব্রিটেন। আমেরিকায় আক্রান্তের সংখ্যা পাঁচ লাখ ছাড়িয়েছে। মৃত্যু ২৩ হাজারের বেশি। ইউরোপের মধ্যে সবচেয়ে ভয়াবহ অবস্থা স্পেনে। আক্রান্তের সংখ্যা ১ লক্ষ ৭০ হাজারের কাছাকাছি। মারা গিয়েছেন ১৭,৪৮৯ জন। স্পেনের পরেই সঙ্কটজনক পরিস্থিতি ইতালিতে। সেখানে সংক্রামিতের সংখ্যা দেড় লাখ ছাড়িয়েছে।