দ্য ওয়াল ব্যুরো: ইস্টবেঙ্গলের ভাল খেলা, কিংবা ছন্দে ফেরায় উৎসাহ নেই সমর্থকদের। তাঁরা জয় দেখতে চান। গত মরসুমে দল যেখানে শেষ করেছিল, সেই অবস্থা থেকেই যেন শুরু করেছে লাল হলুদ। গতবারও সাতনম্বর ম্যাচে গিয়ে জয় পেয়েছিল, এবারও কি সেটাই হবে? এই নিয়ে আলোচনা চলছে।
লাল হলুদের ইনভেস্টর শ্রী সিমেন্টের পক্ষ থেকে তাঁবুতে ক্যাফেটেরিয়ায় বসে খেলা দেখার ব্যবস্থা করা হয়েছে। সমর্থকদের একটা অংশ অফিস সেরে সন্ধ্যেবেলায় কফির কাপে চুমুক দিয়ে টিভিতে খেলা দেখছেন। গল্পগুজব, রঙ্গতামাশা সবটা হলেও জয় নেই দলের, এটাই তাঁদের কাছে হতাশার। বাড়ি ফিরছেন বিফল মনোরথ হয়ে।
এই নিয়ে চার ম্যাচে ১৪টি গোল হজম করেছে দল। পয়েন্ট তালিকায় একেবারে শেষের স্থানে ম্যানুয়েল দিয়াজের দল। প্রথম ম্যাচে ফল ছিল ১-১, তারপর ডার্বিতে হার তিন গোলে হার, পরের ম্যাচেই ছয় গোল হজম করেছে। গত চেন্নাই ম্যাচ গোলশূন্য শেষ হলেও এদিন আবার চার গোল খেয়েছে ইস্টবেঙ্গল। একটা দলের রক্ষণ কতটা নড়বড়ে ও অপলকা হলে এমন হতে পারে, সেই নিয়ে প্রাক্তনদের মধ্যেও কথা হচ্ছে।
ইস্টবেঙ্গলের ঘরের ছেলে তুষার রক্ষিত যেমন খেলা শেষেই জানালেন, ‘‘গোল দিলেই তো হবে না, সেটিকে রুখতেও হবে। বন্যার জলের মতো আক্রমণ হচ্ছে, সেটিকে কে রুখবে? এই নিয়ে কোচের ভাবা উচিত, সেইমতো রণকৌশল নেওয়া উচিত।’’ লাল হলুদের স্প্যানিশ কোচকে দেখা গিয়েছে তিনি খেলার মধ্যে এতটাই একাত্ম হয়ে যাচ্ছেন যে, নিজের মনে বিড়বিড় করেন। একটা সময় আর্জেন্টিনা কোচ আলেজান্দ্রো সাবেলাও একইভাবে নিজের মনে কথা বলতেন।
তিনি দলের ডিফেন্সকে সাজাতেই পারছেন না। গতবারের ম্যাচের সেরা হীরা মন্ডলকে এদিন খুঁজে পাওয়াই যায়নি। তিনি অনবরত দলের ফুটবলারদের পজিশন বদলে দিচ্ছেন। সেই প্রসঙ্গে শঙ্করলাল চক্রবর্তীও বললেন, ‘‘ইস্টবেঙ্গলের মাঝমাঠে একজন ব্লকার দরকার, না হলে বিপক্ষ দল আক্রমণ গড়ে শেষ করে দিচ্ছে। জানি না কোচ কেন একজন বাড়তি ব্লকার রাখছেন না!’’ লাল হলুদের নামী প্রাক্তন মিডফিল্ডার এও জানিয়ে রেখেছেন, ‘‘আমি যা খেলা দেখছি, তাতে এই দলের জয় পাওয়া সমস্যার রয়েছে। গোল দিয়ে যে দল ধরে রাখতে না পারে, তাদের জয় পাওয়া সহজ নয়।’’
ইস্টবেঙ্গলের প্রাক্তন গোলরক্ষক অতনু ভট্টাচার্য দোষ দিতে নারাজ গোলরক্ষক শুভমকে। তিনি বলছেন, ‘‘দলের ডিফেন্ডাররাই ম্যান মার্কিং করতে ব্যর্থ, আর শুভম একা কী করবে? তাও কোচের উচিত শঙ্কর রায়কে পরের ম্যাচে ব্যবহার করা। কারণ এত গোল খেয়ে যাওয়ার পরে শুভমেরও ফোকাস নড়ে গিয়েছে।’’
যদিও লাল হলুদের প্রাক্তনদের ভাল লাগছে, দল ছন্দ ফেরায়। দলের বিদেশী তারকা পেরোসেভিচের খেলাতেও মন ভরেছে। কিন্তু ইস্টবেঙ্গলের মতো দলের জয় পেতে এত কালঘাম পোহাতে হচ্ছে, এটাই সমর্থকদের কাছে লজ্জার লাগছে। তারা জয় দেখতে মরিয়া হয়ে রয়েছেন।