আলিপুরদুয়ারে ভয়াবহ পথদুর্ঘটনায় দ্রুতগতির গাড়ির ধাক্কায় চার চা-বাগান শ্রমিকের মৃত্যু, গুরুতর জখম আরও তিন। এশিয়ান হাইওয়েতে ঘটে যাওয়া এই দুর্ঘটনায় এলাকাজুড়ে নেমেছে শোকের ছায়া।

প্রতীকী ছবি
শেষ আপডেট: 28 February 2026 11:52
দ্য ওয়াল ব্যুরো: কাজে যাওয়ার পথে ভয়াবহ পথ দুর্ঘটনা (Road Accident)। উত্তরবঙ্গের আলিপুরদুয়ারে (Alipurduar) চা শ্রমিকদের সোজা ধাক্কা মেরে পিষে দিল একটি দ্রুতগতির গাড়ি (Speeding Car)। মৃত্যু হয়েছে চারজনের। গুরুতর জখম তিন শ্রমিককে দ্রুত হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এলাকায় ক্ষোভ তীব্র।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যাচ্ছে, আলিপুরদুয়ারের ওই এলাকাতেই থাকতেন মৃত ও জখম শ্রমিকরা। সকলে চা বাগানে (Tea Garden Workers) কাজ করেন। আগে তাঁরা কাজ করতেন ভার্নাবাড়ি চা বাগানে (Vernabari Tea Garden)। বাগান বন্ধ হয়ে যাওয়ায় পরে পাশের বিচ চা-বাগানে (Bich Tea Garden) নতুন করে কাজ জোটে।
প্রতিদিনের মতোই শনিবার ভোরেও সাইকেল নিয়ে কাজে বেরিয়েছিলেন তাঁরা। রোজকার মতো হাসিমারা–জয়গাঁ এশিয়ান হাইওয়ে (Hasimara–Jaigaon Asian Highway) ধরে বাগানের দিকে এগোচ্ছিলেন।
জয়গাঁ এশিয়ান হাইওয়ের উপর দিয়ে যাওয়া মাত্রই দ্রুতগতিতে ছুটে আসা একটি গাড়ি সাইকেলের পিছনে সোজা ধাক্কা মারে। ধাক্কায় রাস্তার উপর ছিটকে পড়েন শ্রমিকরা। প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্য, “গাড়িটা এতটাই স্পিডে (High Speed) ছিল যে ধাক্কার পরই শ্রমিকরা চারদিকে ছিটকে ছড়িয়ে যায়। তার পর গাড়ির চাকা (Car Tyre) উঠে যায় তাঁদের শরীরের উপর।” মুহূর্তেই এলাকা রক্তাক্ত হয়ে ওঠে।
ঘটনা দেখেই ছুটে আসেন স্থানীয়রা। তাঁরা রক্তাক্ত শ্রমিকদের তুলে নিয়ে যান লতাবাড়ি ব্লক হাসপাতালে (Latabari Block Hospital)। সেখানে চিকিৎসকরা চারজনকে মৃত বলে ঘোষণা করেন। বাকি তিনজনের শারীরিক অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাঁদের আলিপুরদুয়ার জেলা সদর হাসপাতালে (Alipurduar District Hospital) পাঠানো হয়। এখন সেখানে ভর্তি রয়েছেন তাঁরা।
খবর পেয়েই পুলিশ ঘটনাস্থল ও হাসপাতালে পৌঁছয়। দোষী গাড়িটির খোঁজে তল্লাশি শুরু হয়েছে। পুলিশের প্রাথমিক অনুমান—অতিরিক্ত গতিই এই ভয়াবহ দুর্ঘটনার প্রধান কারণ। তবে কীভাবে গাড়িটি শ্রমিকদের মাঝে ঢুকে পড়ল, সেটা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
মৃত শ্রমিকদের পরিবারের সদস্যরা জানিয়েছেন, প্রতিদিনের মতোই সকালে কাজে বেরিয়েছিলেন তাঁরা। কিছুক্ষণের মধ্যেই এমন ঘটনা, ভাবাও যাচ্ছে না।
স্থানীয়দের অভিযোগ, এশিয়ান হাইওয়েতে নিয়মিত বেপরোয়া গাড়ি চলে। নজরদারি হালকা। কোনও গতিনিয়ন্ত্রণ নেই। তাঁদের আশঙ্কা, এভাবে চলতে থাকলে ওই রুটে আরও বড় দুর্ঘটনা ঘটে যেতে পারে। পুলিশের দাবি, নজরদারি বাড়ানো হবে এবং ঘাতক গাড়িকে দ্রুত চিহ্নিত করার চেষ্টা চলছে।
আলিপুরদুয়ারের এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ফের প্রশ্ন তুলেছে পথসুরক্ষা (Road Safety) নিয়ে। স্থানীয়দের দাবি, প্রশাসনের দ্রুত হস্তক্ষেপ ছাড়া এশিয়ান হাইওয়ে আগের মতোই বিপজ্জনক থেকে যাবে।