দ্য ওয়াল ব্যুরো : গত ২২ ডিসেম্বর পাপুয়া নিউগিনির বুগানভিলে প্রদেশ থেকে ছোট্ট ডিঙি নৌকায় চড়ে সমুদ্রযাত্রা করেছিল ১২ জন। সমুদ্রে ১০০ কিলোমিটার পাড়ি দিয়ে তারা পৌঁছতে চেয়েছিল কার্তিরেত দ্বীপে। সেখানে খ্রিস্টমাসের ছুটি কাটাবে বলে স্থির করেছিল নৌকার আরোহীরা।
প্রশান্ত মহাসাগরে কয়েকশ কিলোমিটারের মধ্যে ছোট ছোট অনেক দ্বীপ ছড়ানো আছে। তার একটি দ্বীপে যেতে গিয়ে সমুদ্রে ঘটে যায় দুর্ঘটনা। সলোমন স্টার নিউজ নামে এক স্থানীয় সংবাদপত্রের রিপোর্ট অনুযায়ী, মাঝসমুদ্রে ডিঙি উল্টে তলিয়ে যায় আটজন। তাদের মধ্যে এক শিশুও ছিল।
নৌকার বাকি চারজন আরোহী কোনওরকমে সেই ভাঙা নৌকা আঁকড়ে ধরে ভাসতে থাকে। কিন্তু পথ হারায় নৌকা। সমুদ্রের স্রোতের টানে ভেসে যায় নির্ধারিত পথ থেকে অনেক দূরে। উদ্দেশ্যহীনভাবে তারা ভাসতে থাকে দিনের পর দিন। নৌকার একপ্রান্তে জমা ছিল নারকেল। সেই খেয়েই তাদের খিদে মেটে। পানীয় বলতে ছিল বৃষ্টির জল।
তাদের আশপাশ দিয়ে অনেক মাছ ধরার নৌকা যাচ্ছিল। কিন্তু ভাঙা নৌকাটি দেখতে পায়নি। ২৩ তারিখে একটি নৌকা চারজনকে উদ্ধার করে। স্টার নিউজ জানিয়েছে, তাদের মধ্যে ছিল দু'জন পুরুষ, এক মহিলা ও ১২ বছরের এক বালিকা। তারা সমুদ্র স্রোতের টানে নির্ধারিত পথ থেকে ২ হাজার কিলোমিটার দূরে ভেসে গিয়েছিল।
তাদের কিছুদিন হাসপাতালে অবজারভেশনে রাখা হয়েছিল। ডিহাইড্রেশন ছাড়া বড় কোনও সমস্যা দেখা যায়নি তাদের দেহে। তাদের একজন বলেছে, "আমাদের চোখের সামনে অনেকে ভেসে গেল। কিছু করার ছিল না।" একজন জানিয়েছে, "আমাদের সামনে এক দম্পতি ভেসে গেল। তাদের শিশু সন্তানকে আমরা বাঁচিয়েছিলাম। পরে সেও মারা গেল।"