দ্য ওয়াল ব্যুরো: তরুণীকে এক বছর ধরে লাগাতার ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছিল স্বামী চিন্ময়ানন্দের বিরুদ্ধে।অভিযোগ এনেছিলেন শাহজাহানপুরে চিন্ময়ানন্দের কলেজেই আইন পাঠরতা এক ছাত্রী। গত বছর সেপ্টেম্বর মাসে গ্রেফতার করা হয় অভিযুক্ত প্রাক্তন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী তথা বিজেপি নেতাকে। আজ, সোমবার এলাহাবাদ হাইকোর্টে জামিন পেলেন তিনি।
গত বছরের সেপ্টেম্বর মাসে উত্তরপ্রদেশের শাহজাহানপুর থেকে নিখোঁজ হয়ে গিয়েছিলেন ২৩ বছরের ওই আইনপড়ুয়া ছাত্রী। এক সপ্তাহ বাদে রাজস্থান থেকে তাঁকে উদ্ধার করা হয়। তার পরেই তিনি পুলিশের কাছে অভিযোগ করেন, বিজেপি নেতা তথা প্রাক্তন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী চিন্ময়ানন্দ তাঁকে ধর্ষণ করেছেন। এক বছর ধরে ওই বিজেপি নেতা অত্যাচার করেছেন তাঁর ওপরে।
ধর্ষণের অভিযোগ ওঠার পাঁচ দিন পর প্রাক্তন কেন্দ্রীয় প্রতিমন্ত্রী স্বামী চিন্ময়ানন্দকে গ্রেফতার করে পুলিশ। ১৪ দিন জেলের সাজা ঘোষণা করেন বিচারক। যদিও চিন্ময়ানন্দের আইনজীবী জানিয়েছিলেন, চিন্ময়ানন্দকে ধর্ষণের অভিযোগে গ্রেফতার করা হয়নি। তাঁকে 'ক্ষমতার অপব্যবহার করে যৌনসঙ্গম'-এর অভিযোগে গ্রেফতার করা হয়েছে। এই অভিযোগ প্রমাণিত হলে সর্বোচ্চ পাঁচ বছরের সাজা ও আর্থিক জরিমানা হতে পারে তাঁর। চার্জশিটে বলা হয়েছিল, এক্ষেত্রে যৌন সঙ্গমকে ধর্ষণের অপরাধ হিসেবে গণ্য করা যাবে না। তবে পিছু নেওয়া, অন্যায়ভাবে আটক করা বা ভয় দেখানোর মতো অভিযোগও আনা হয়েছে চিন্ময়ানন্দের বিরুদ্ধে।
চিন্ময়ানন্দ উত্তরপ্রদেশে অত্যন্ত ক্ষমতাশালী রাজনীতিক। শাহজাহানপুরে তাঁর আশ্রম আছে। তিনি ওই শহরে পাঁচটি কলেজ চালান। হরিদ্বার ও হৃষীকেশেও তাঁর আশ্রম আছে। তিনি বহু কোটি টাকার মালিক বলে শোনা যায়। যদিও তাঁর সম্পত্তির পরিমাণ ঠিক কত, তা নির্দিষ্ট করে কখনও জানা যায়নি। চিন্ময়ানন্দ তরুণীর অভিযোগ এককথায় উড়িয়ে দেন।
কিন্তু অভিযোগকারিণী দাবি করেছিলেন, তাঁর কাছে সব প্রমাণ আছে। তিনি এ-ও জানান, উত্তরপ্রদেশ পুলিশ তাঁর অভিযোগ নিতে অস্বীকার করেছে। তাঁর কথায়, "স্বামী চিন্ময়ানন্দ আমাকে ধর্ষণ করেছেন। এক বছর ধরে শারীরিক নিগ্রহও করেছেন। আমি দিল্লির লোদী রোড থানায় অভিযোগ করেছি। সেই অভিযোগ শাহজাহানপুর থানায় ফরোয়ার্ড করে দেওয়া হয়েছে। শাহজাহানপুর থানা আমার অভিযোগ নিতে চায়নি।"
অভিযোগকারিণীর দাবি ছিল, তাঁর চশমায় ক্যামেরা লাগানো থাকত। তাতে যে ছবি উঠেছিল, তিনি পেন ড্রাইভে জমা করে রেখেছিলেন। ১২ পৃষ্ঠার জবানবন্দিতে তিনি পুলিশকে জানিয়েছিলেন, ২০১৮ সালে নিজের কলেজে তাঁর ভর্তির ব্যবস্থা করে দেন চিন্ময়ানন্দ। কলেজের লাইব্রেরিতে মাসিক পাঁচ হাজার টাকার বেতনের একটা কাজের ব্যবস্থাও করে দিয়েছিলেন চিন্ময়ানন্দ। চিন্ময়ানন্দের উদ্যোগেই হোস্টেলে থাকতে শুরু করেন ওই ছাত্রী। অভিযোগ, এর কয়েক দিন পর আশ্রমে ডেকে তাঁকে একটি ভিডিও দেখান চিন্ময়ানন্দ। তা হল, হস্টেলের বাথরুমে ওই ছাত্রীর স্নানের ভিডিও।
ওই ছাত্রী দাবি করেন, এর পরে চিন্ময়ানন্দ তাঁকে বলেন তাঁর সঙ্গে সহবাস করতে, তা না করলে ওই ভিডিও ভাইরাল করে দেওয়ার হুমকি দেন। শুধু তাই নয়, তাঁকে ধর্ষণ করার সময় তা ভিডিও রেকর্ডিং করা হয় বলেও অভিযোগ করেছেন ছাত্রীটি। এই যৌন অত্যাচারে বিধ্বস্ত হয়ে তিনি অগস্ট মাসে একটি ফেসবুক ভিডিও পোস্ট করে চিন্ময়ানন্দের বিরুদ্ধে। সেখানে প্রকাশ্যে এই অভিযোগগুলি করেন তিনি।
এখানেই থেমে থাকেননি ওই ছাত্রীটি। তিনি বলেন, পুলিশের সমস্ত রকম জেরা ও জিজ্ঞাসাবাদের উত্তর দিতে তিনি প্রস্তুত। তাঁর কাছে হস্টেলের যত ভিডিও রয়েছে তাও পুলিশের হাতে তুলে দিতে রাজি। কিন্তু অভিযুক্তকে যেন আগে গ্রেফতার করা হয় এবং তাঁর ও তাঁর পরিবারের নিরাপত্তার ব্যবস্থা করা হয়।
সেই মামলাই চলছিল এত দিন ধরে। সোমবার এলাহাবাদ হাইকোর্টে জামিন পেলেন তিনি।