দ্য ওয়াল ব্যুরো : ২০১৫ সালে চাকরি থেকে বরখাস্ত হয়েছিলেন প্রাক্তন আইপিএস অফিসার সঞ্জীব ভট্ট। বৃহস্পতিবার যাবজ্জীবন কারাদণ্ড হল তাঁর। পুলিশ হেপাজতে এক ব্যক্তির ওপরে অত্যাচারের ঘটনায় তিনি দোষী সাব্যস্ত হন। একই ঘটনায় আরও ছয় পুলিশকর্মী দোষী সাব্যস্ত হয়েছেন। গুজরাতের জামনগর আদালতের দায়রা বিচারক ডি এন ব্যাস এদিন তাঁদের কী শাস্তি দেওয়া হবে জানাননি।
সঞ্জীব ভট্ট ছিলেন ১৯৮৮ সালের ব্যাচের আইপিএস। ১৯৯০ সালে তিনি গুজরাতের জামনগর জেলায় অ্যাডিশনাল সুপারিনটেনডেন্টের পদে ছিলেন। সেই বছর বিজেপি নেতা লালকৃষ্ণ আডবানীকে গ্রেফতার করার পর নানা জায়গায় সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা ছড়িয়ে পড়ে। জাম যোধপুর শহরে দাঙ্গাহাঙ্গামার ঘটনায় তিনি ১৫০ জনকে গ্রেফতার করেন। ধৃতদের একজন ছাড়া পাওয়ার পরদিন হাসপাতালে মারা যান। তাঁর নাম ছিল প্রভুদাস বৈষ্ণানি।
তাঁর ভাই পরে সঞ্জীব ভট্ট ও অপর ছয় পুলিশকর্মীর বিরুদ্ধে মামলা করেন। অভিযোগ, থানায় আটক থাকার সময় প্রভুদাসের ওপরে অত্যাচার করা হয়েছিল। তাতেই তাঁর মৃত্যু হয়েছে। অভিযুক্তরা আদালতে বলেন, তাঁরা নিজেদের ডিউটি করছিলেন। পুলিশ হেপাজতে কারও ওপরে অত্যাচার করা হয়নি।
পরে সঞ্জীব ভট্ট অভিযোগ করেন, ২০০২ সালে গুজরাতে দাঙ্গার সময় তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী পুলিশকে নির্দেশ দিয়েছিলেন, হিন্দুদের যেন শাস্তি না দেওয়া হয়। সেই দাঙ্গায় ১২০০ মানুষ খুন হয়েছিলেন।
ওই আইপিএস অফিসার অবশ্য অভিযোগের পক্ষে কোনও প্রমাণ দিতে পারেননি। কিছুদিনের মধ্যেই তিনি সাসপেন্ড হন। বিনা অনুমতিতে দীর্ঘদিন চাকরিতে অনুপস্থিত থাকার জন্য তাঁকে বরখাস্ত করা হয়। বিজেপি অভিযোগ করেছিল, সঞ্জীব ভট্ট তাদের বিরোধী রাজনৈতিক দলের হয়ে কাজ করছেন। ২০১২ সালে গুজরাতে বিধানসভা নির্বাচনে তাঁর স্ত্রী কংগ্রেসের টিকিটে মোদীর বিরুদ্ধে দাঁড়িয়েছিলেন।
সঞ্জীব ভট্টের বিরুদ্ধে পুলিশ হেপাজতে অত্যাচারের ঘটনায় মামলা চলেছে তিন দশক ধরে। শেষে সুপ্রিম কোর্ট নির্দেশ দিয়েছিল, চলতি বছরের ২০ জুনের মধ্যে জামনগর দায়রা আদালতকে এই মামলায় রায় দিতে হবে।