দ্য় ওয়াল ব্যুরো: অবশেষে বিচারকের সামনে নিজের বয়ান রেকর্ড করতে রাজি হলেন সুরাতের নির্যাতিতা তরুণী। গত ১০ জুলাই গুজরাত বিজেপির সহ-সভাপতি এবং প্রাক্তন বিধায়ক জয়ন্তী ভানুশালীর বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগ দায়েরের আবেদন জানিয়ে পুলিশ কমিশনারকে চিঠি দিয়েছিলেন বছর একুশের ওই তরুণী। তার পর থেকেই কার্যত বেপাত্তা হয়ে গিয়েছিলেন তিনি। সুরাতের পুলিশ সুপার, সতীশ শর্মা জানিয়েছিলেন, তরুণীর কোনও খোঁজ না মেলায় এবং তাঁর পরিচয় সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য না পাওয়ার কারণে বিধায়কের বিরুদ্ধে কোনও মামলা দায়ের করা হয়নি।
গত বৃহস্পতিবার, পুলিশ কমিশনারকে চিঠি দিয়ে তরুণী জানান তিনি তাঁর বয়ান রেকর্ড করতে রাজি। তরুণীর অভিযোগের ভিত্তিতে জয়ন্তী ভানুশালীর বিরুদ্ধে ধর্ষণ, অপহরণ-সহ ভারতীয় দণ্ডবিধির একাধিক ধারায় মামলা দায়ের করেছে পুলিশ। ডেপুটি কমিশনার লীনা পাতিল বলেছেন, ‘‘তরুণীর বয়ানের ভিত্তিতেই আমরা তদন্ত শুরু করেছি। মেয়েটির কাছ থেকে একটি পেন ড্রাইভ পাওয়া গিয়েছে যার মধ্য়ে অনেকগুলি ভিডিও রেকর্ড করা রয়েছে। পেন ড্রাইভটি ফরেন্সিক ল্যাবরেটরিতে পাঠানো হয়েছে।’’
সুরাতের ওই তরণীর অভিযোগ ছিল আমেদাবাদের একটি নামী কলেজে অ্যাডমিশন করিয়ে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে গত বছর নভেম্বর মাস থেকে তাঁকে একাধিক বার ধর্ষণ করেছেন বিধায়ক। ঘটনার ভিডিও তুলে রেখে তাঁকে ব্ল্যাকমেলও করতেন তিনি। তরুণী জানিয়েছেন, তাঁকে একটি মোবাইল ফোন ও সিম কিনে দিয়েছিলেন বিধায়ক। ওই মোবাইলেই ফোন করে তাঁর সঙ্গে সবসময় যোগাযোগ রাখতেন তিনি। চলতি বছর মার্চে ফের তরুণীকে ডেকে পাঠান বিধায়ক। তরণীর দাবি, গাড়িতে করে তাঁকে একটি নির্জন জায়গায় নিয়ে ধর্ষণ করেন বিধায়ক। ছুরি দেখিয়ে তাঁকে মেরে ফেলার হুমকি দেওয়া হয়। গাড়ির চালক এবং বিধায়কের দেহরক্ষী দু’জনের কাছেই আগ্নেয়াস্ত্র ছিল।
২০০৭ সালে বিজেপির টিকিটে জিতে কচ্ছের আবদাসা কেন্দ্র থেকে বিধায়ক হয়েছিলেন জয়ন্তী ভানুশালী। ২০০৭-২০১২ সাল পর্যন্ত বিধায়কের পদে ছিলেন। ধর্ষণের অভিযোগ ওঠায় ইতিমধ্যেই প্রদেশ সহ-সভাপতির পদ থেকে ইস্তফা দিয়েছেন তিনি। যদিও নিজের বিরুদ্ধে ওঠা সব অভিযোগই অস্বীকার করেছেন ভানুশালী। পদত্যাগ পত্রে তিনি লিখেছেন, ‘‘আমার ভাবমূর্তি খারাপ করতে চক্রান্ত করে পুলিশের কাছে ধর্ষণের অভিযোগ জানানো হয়েছে। অভিযোগপত্রে আমি ও আমার পরিবারের বিরুদ্ধে ভিত্তিহীন সব অভিযোগ আনা হয়েছে। তা সত্ত্বেও আমি দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি চাইছি।’’