ধর্ম দেখে হানা দেয় না করোনা, হিন্দু-মুসলিম ভুলে প্রাণ বাঁচাতে প্লাজমা দিন: অরবিন্দ কেজরিওয়াল
দ্য ওয়াল ব্যুরো: হিন্দু-মুসলিম, জাত-ধর্ম সব ভুলে করোনা লড়াইয়ে সামিল হন। একজনের প্লাজমা প্রাণ বাঁচাতে পারে অন্যের। ধর্ম ভুলে সংক্রমণ সারিয়ে সুস্থ হয়ে ওঠারা এগিয়ে এসে প্লাজমা দিন। এই জটিল সময় একজোট হয়ে সংক্রমণের বিরুদ্ধে মোকাবিলা করার, জাত-ধ
শেষ আপডেট: 25 April 2020 18:30
দ্য ওয়াল ব্যুরো: হিন্দু-মুসলিম, জাত-ধর্ম সব ভুলে করোনা লড়াইয়ে সামিল হন। একজনের প্লাজমা প্রাণ বাঁচাতে পারে অন্যের। ধর্ম ভুলে সংক্রমণ সারিয়ে সুস্থ হয়ে ওঠারা এগিয়ে এসে প্লাজমা দিন। এই জটিল সময় একজোট হয়ে সংক্রমণের বিরুদ্ধে মোকাবিলা করার, জাত-ধর্ম আঁকড়ে বসে থাকার নয়, বললেন দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিওয়াল।
প্লাজমা থেরাপির প্রথম প্রয়োগ সফল দিল্লিতে। মুখ্যমন্ত্রী সাংবাদিক বৈঠকে জানিয়েছিলেন, লোকনায়ক জয়প্রকাশ নারায়ণ হাসপাতালের চার করোনা রোগীর চিকিৎসা এই প্লাজমা থেরাপি দিয়েই করা হয়েছিল। তাঁদের মধ্যে দু’জনের শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল। ৪৯ বছরের এক ব্যক্তি প্রায় সুস্থ হওয়ার পথে। এরপরেই দিল্লির হাসপাতাল, নার্সিংহোমগুলিতে প্লাজমা থেরাপি প্রয়োগের সবুজ সঙ্কেত দেন মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিওয়াল।
মুখ্যমন্ত্রী বলেছেন, “হিন্দু-মুসলিম ভেদাভেদের সময় এখন নয়। প্লাজমা কে দিচ্ছেন সেটা বড় কথা নয়, প্রাণ বাঁচানোই মূল লক্ষ্য। হতেই পারে কোনও মুসলিমের দেওয়া প্লাজমাতেই প্রাণ বাঁচল এক হিন্দুর, আবার কোনও হিন্দুর দেওয়া প্লাজমাতে সুস্থ হয়ে উঠলেন কোনও মুসলিম ব্যক্তি।“
কেজরিওয়াল আরও বলেন, ভাইরাস কখনও জাত-ধর্ম দেখে হানা দেয় না। এই রোগে আক্রান্ত হতে পারেন যে কেউ। তাই সব বিভেদ ভুলে নিঃস্বার্থভাবে এগিয়ে আসতে হবে।
ইন্ডিয়ান কাউন্সিল অব মেডিক্যাল রিসার্চের (আইসিএমআর) অনুমোদনের পরেই দিল্লি, গুজরাত ও কেরলে প্লাজমা থেরাপির ট্রায়াল শুরু হয়েছে। দিল্লিতে করোনা রোগীদের উপরে এই থেরাপির প্রয়োগ সন্তোষজনক বলেই ঘোষণা করা হয়েছে সরকারের তরফে। প্লাজমা থেরাপি হল করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার পর সুস্থ হয়ে ওঠা ব্যক্তিদের শরীরের প্লাজমা বা রক্তরস নিয়ে করোনা আক্রান্তদের শরীরে তা প্রতিস্থাপন করা। তাহলে সুস্থ হয়ে ওঠা ব্যক্তির অ্যান্টিবডি আক্রান্তের শরীরে গিয়ে কোভিড ১৯ ভাইরাসকে হারিয়ে তাঁকে সুস্থ করে তুলতে পারবে বলেই বিজ্ঞানীদের ধারণা। যদিও এখনও এই টেস্ট করে দেখা হয়নি।
জানা গিয়েছে, কোনও ব্যক্তি করোনা সংক্রমণ থেকে সেরে ওঠার পরে একাধিকবার তাঁর শরীরে পরীক্ষা করে দেখা হয়। একবার সুস্থ হওয়ার পর ১৪ দিন ধরে যদি তাঁর রিপোর্ট নেগেটিভ আসে, তখন তাঁকে পুরোপুরি সুস্থ বলা যায়। এরকম হলে তবেই তাঁর প্লাজমা এই থেরাপির জন্য নেওয়া হবে। করোনা চিকিৎসায় প্লাজমা থেরাপি নিয়ে গবেষণা চলছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, চিন ও ব্রিটেনে।