দ্য ওয়াল ব্যুরো: কত শত রাজনৈতিক অস্থিরতা, ধর্মীয় অশান্তির মুখোমুখি হয়েছে এই দেশ। কিন্তু তার পরেও সম্প্রীতি আর বন্ধুত্বের রূপকথা বারবারই ফুটে উঠেছে সমাজের আনাচেকানাচে। এটাই ভারতবর্ষ। এ দেশের মানুষ বারবার প্রমাণ রেখেছেন সহিষ্ণুতা ও সমবেদনার। তেমনই এক ছবি ধরা পড়ল আবারও। মহারাষ্ট্রের বুলধানা রেঞ্জের ডিভিশনাল ফরেস্ট অফিসার সঞ্জয় এন মালি, তাঁর ড্রাইভার জাফরের বদলে নিজেই পালন করলেন রোজা।
চলছে পবিত্র রমজান মাস। সংযম ও সহিষ্ণুতার প্রতীক হিসেবে এক মাস ধরে রোজা রাখেন ধর্মপ্রাণ মুসলমানেরা। সূর্যোদয়ের পর থেকে সূর্যাস্তের আগে পর্যন্ত উপোস তাঁদের। জলও খান না তাঁরা। তেমনই রোজ রাখছিলেন জাফরও। কিন্তু কয়েক দিন আগে হঠাৎই এক দিন কথায় কথায় জাফরের মালিক সঞ্জয় মালি জানতে পারেন, শারীরিক অসুস্থতার কারণে রোজা রাখতে পারবেন না জাফর। একটানা ডিউটি করার ধকল নেওয়ার পরে সম্ভব হচ্ছে না এই উপবাস।
সংবাদ সংস্থা এএনআই জানিয়েছে, জাফরের কাছে এই কথা শুনে সঞ্জয় জানান, জাফরের পরিবর্তে তিনিই এই রোজা পালন করবেন৷ আর সেই কথা মতো কাজও করলেন বুলধানার এই ডিভিশনাল ফরেস্ট অফিসার৷ আর তাঁর রোজার ছবিই উঠে এল ওই সংবাদ মাধ্যমে৷
https://twitter.com/ANI/status/1134271645441388544
বিদর্ভের বিস্তীর্ণ এলাকায় খরা চলছে এখন। ব্যতিক্রম নয় সঞ্জয় মালির দায়িত্বপ্রাপ্ত এলাকাও। দিন রাত অনেকটা জায়গায় রোদে রোদে ঘুরে পরিদর্শন করতে হয় এই আইএফএস অফিসারকে। তাঁরই গাড়ি চালান জাফর। পরিশ্রমে এবং গরমে সম্প্রতি অসুস্থ হয়ে পড়েন তিনি।
তবে এক দিকে যেমন মুসলমান ড্রাইভারের জন্য হিন্দু ব্যক্তির রোজা রাখার ছবি সামনে এল, তেমনই কয়েক দিন আগেই এর উল্টো একটা ছবিও ধরা পড়েছিল এই দেশেই৷
রঞ্জন গগৈ নামে এক ব্যক্তিকে বাঁচাতে রক্ত দিয়েছিলেন মহম্মদ পানাউল্লা আহমেদ। হিন্দু ধর্মের কোনও মানুষের জন্য মুসলিম যুবকের রক্তদান হয়তো এই প্রথম নয়। কিন্তু ঘটনাচক্রে, এই সময়ে রোজা অর্থাৎ রমজানের উপবাস চলছিল পানাউল্লার। ফলে এই অবস্থায় কোনও ভাবেই রক্ত দেওয়া সম্ভব ছিল না তাঁর পক্ষে। কিন্তু নিষ্ঠাবান ও ধার্মিক মুসলিম হওয়া সত্ত্বেও, রক্তের প্রয়োজনে সেই রোজা ভাঙার সিদ্ধান্ত নিতে সময় লাগেনি তাঁর। রমজান মাসের শুরুতে, দ্বিতীয় রোজা ভেঙে রঞ্জন গগৈয়ের জন্য রক্ত দান করেন তিনি।
স্থানীয় সূত্রের খবর, আপার অসমের ধেমাজি জেলার বাসিন্দা ৫০ বছরের রঞ্জন গগৈ-কে কখনওই চিনতেন না পানাউল্লা। তাঁকে চোখেও দেখেননি তিনি। কেবল সহকর্মীর মুখে, তাঁর পরিচিত রঞ্জন গগৈর অসুস্থতার কথা শুনেই তাঁর প্রাণ বাঁচাতে এগিয়ে আসেন পানাউল্লা। এই মাসের ১৩ তারিখে রোজা ভেঙে এক ইউনিট ও পজিটিভ রক্ত দান করেন তিনি।
সম্প্রতি ধর্মীয় মেরুকরণের অভিযোগ উঠেছে এ দেশের রাজনীতির প্রাঙ্গণ জুড়ে। হিংসা, বিদ্বেষ, পারস্পরিক দোষারোপ যেন এখন মানুষের নিত্যদিনের আচরণ। প্রায়ই দেশের কোনও না কোনও প্রান্ত থেকে খবর আসে ধর্মীয় হানাহানির। শুধু দেশ কেন, বর্তমানে ধর্মীয় বিভেদ নিয়ে সারা দেশ উত্তাল।
সেই আবহেই এই পারস্পরিক সাহায্য ও সহিষ্ণুতার ঘটনাগুলি যেন নতুন উদাহরণ তৈরি করে। মনে করিয়ে দেয়, সম্প্রীতি এ দেশের সহজাত বৈশিষ্ট্য।
আরও পড়ুন...
https://www.four.suk.1wp.in/assam-man-chooses-humanity-over-religion-breaks-ramzan-fast-to-donate-blood-to-a-hindu/