
ফাইল ছবি
শেষ আপডেট: 28 December 2024 17:44
দ্য ওয়াল ব্যুরো: রীতিমতো নাস্তানাবুদ করা যাকে বলে। বাঘিনি জিনাতকে বাগে আনতে নাকানিচোবানি দশা বনদফতরের বাঘা বাঘা কর্তাদের। তবে আজ জিনাতকে বাগে আনতে রানিবাঁধ এলাকায় ঘুমপাড়ানি গুলি ছোড়া হয়েছিল। সেই গুলি আদৌ বাঘিনির গায়ে লেগেছে কিনা এখনও নিশ্চিত করে বলতে পারছেন না বনকর্তারা।
তবে মুখ্যপাল জানিয়েছেন বাঘিনিকে একেবারে নিয়ন্ত্রণের মধ্যে রাখা হয়েছে। রানিবাঁধের গোসাইডি গ্রাম সংলগ্ন জঙ্গলে এখনও রয়েছে জিনাত।
বাঁকুড়ার গোসাইডিহি গ্রাম লাগোয়া জঙ্গলেই বাঘিনি আশ্রয় নিয়েছে। গ্রামের মাত্র ৫০০ মিটারের মধ্যেই থাকা জঙ্গলে রয়েছে বাঘিনি। স্বাভাবিকভাবেই গ্রাম জুড়ে আতঙ্ক রয়েইছে। আজ ভোরে বাঘিনির পায়ের ছাপ দেখে স্থানীয়রা বুঝতে পারেন। গ্রামের প্রধান রাস্তা দিয়ে জিনাত গ্রাম লাগোয়া জঙ্গলে প্রবেশ করেছে।
পরে বন দফতর গ্রামে গিয়ে ট্র্যাকিং ডিভাইসের সাহায্যে বাঘিনির লোকেশন ট্র্যাক করতে সক্ষম হন। এই মূহুর্তে গ্রামের অদূরে খাঁচা পাতা হচ্ছে। গ্রামের সীমানা ঘিরে ফেলা হয়েছে নাইলনের জালে। বাঘিনিকে ধরতে চূড়ান্ত তৎপর বন দফতর।
গত শুক্রবার থেকে শনিবার, টানা ৯ দিন রাজ্যের বিভিন্ন জঙ্গলে 'বসবাস' করছে বাঘিনি জিনাত। পরিস্থিতি যা, তাতে এবার বাঁকুড়া থেকে পশ্চিম মেদিনীপুরের দিকে এগোতে পারে সে!
শুক্রবার রাত পর্যন্ত বাঘিনি ছিল মানবাজার-২ ব্লকের ধরমপুরের (পাঈসা গড়া) ও ডাঙ্গরডি গ্রাম সংলগ্ন জঙ্গলে। পাশের জঙ্গলে প্রচুর হরিণ থাকায় খাদ্যের খোঁজে বাঘিনি সেখানে পৌঁছেছিল বলে অনুমান করছিলেন বনকর্তারা। কীভাবে তাকে বাগে আনা যায়, তার পরিকল্পনাও চলছিল।
শনিবার ভোরে আলো ফুটতেই বদলে যায় বাঘিনির অবস্থান। বন দফতর তখন বলে, জিনাতের গলায় লাগানো থাকা রেডিও কলার থেকে জানা গিয়েছে শনিবার সকাল ১০টা নাগাদ বাঁকুড়ার রানিবাঁধ থানার গোপালপুর গ্রামের জঙ্গলে রয়েছে সে।
গত শুক্রবার অর্থাৎ ২০ ডিসেম্বর ওড়িশা থেকে ঝাড়গ্রামে প্রবেশ করেছিল জিনাত। পরের দিন অর্থাৎ গত শনিবার রাতে সে পৌঁছেছিল বান্দোয়ানের রাইকা পাহাড়ে। টানা সাতদিন সেখানে ঘাঁটি গেড়ে থাকার পর শুক্রবার অবস্থান বদলে ঢুকে পড়েছিল মানবাজারে।
শুরু থেকে একবারও ইউটার্ন না নিয়ে জিনাত যেভাবে সামনের দিকে সোজা এগিয়ে চলেছে, তাতে বাঁকুড়ায় ঢোকার সম্ভাবনা ছিলই। এখন দেখার আনুষ্ঠানিক ভাবে বনদফতর কী জানায়। জিনাতের গায়ে ছোড়া ঘুমপাড়ানি গুলি কি লেগেছে নাকি না।