
শেষ আপডেট: 3 June 2018 07:17
দুর্ঘটনাগ্রস্ত গাড়ি [/caption]
দ্য ওয়াল ব্যুরো: সোমবার সকালে ডোমজুড় থানায় এসে দুর্ঘটনাগ্রস্ত ফেরারি গাড়িটি পরীক্ষা করেন ফরেনসিক বিশেষজ্ঞরা। ইলেক্ট্রনিক কন্ট্রোল ইউনিট, গাড়ির কাঁচ, ইলেকট্রনিক মডিউল সহ আরও বেশ কিছু নমুনা সংগ্রহ করে নিয়ে গিয়েছেন তাঁরা। ফরেনসিক কুইক রেসপন্স টিমের বিশেষজ্ঞ ওয়াসিম রাজা জানিয়েছেন, গাড়ির ইভেন্ট ডেটা রেকর্ডারটি পরীক্ষা করা হবে। এ জন্য সাহায্য নেওয়া হবে ফেরারি গাড়ির বিশেষজ্ঞদের। সংগ্রহ করা বাকি নমুনাগুলিও পাঠানো হচ্ছে পরীক্ষার জন্য। জানা গিয়েছে, ব্রেক কষার সময় গাড়ির গতিবেগ ছিল ঘণ্টায় ১৩০ কিলোমিটার। কিন্তু অত্যাধুনিক এই গাড়িতে বিভিন্ন ব্যবস্থা থাকলেও কেন সঠিক ভাবে ব্রেক ধরেনি সেই বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
লাল রঙের সাড়ে তিন কোটির ফেরারি। রবিবারের সকালে হাওড়ার সলপের কাছে ফাঁকা এনএইচ ৬। গাড়ির গতিবেগ ঘন্টায় ১৫০ থেকে ১৬০ কিলোমিটার। চালাচ্ছিলেন শহরেরই এক ব্যবসায়ী রাসবিহারী অ্যাভিনিউয়ের বাসিন্দা শিবাজী রায় (৪৩)। তিনি একটি স্যানিটেশন সংস্থার ডিরেক্টর। ওই গাড়িতে ছিল শিবাজীর বন্ধুর মেয়ে আশনা সুরানা (১৭) । আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাকে সিএমআরআইতে ভর্তি করানো হয়েছে। আশনার বাবা আদর্শ সুরানা ওই দলেই ছিলেন ও একটি বিএমডব্লিউ চালাচ্ছিলেন বলে পুলিশ সূত্রের খবর।
দুর্ঘটনার কিছুক্ষণ আগে পর্যন্ত শিবাজীর ছেলে শ্রেয়ান তাঁর পাশেই বসেছিল। বন্ধু আশনাকে জায়গা ছেড়ে দেয় শ্রেয়ান। তার পরেই এই দুর্ঘটনা।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান অন্য একটি গাড়ির সঙ্গে রেস করতে গিয়ে সেটি ধাক্কা মারে ডিভাইডারে। মুহূর্তে দুমড়ে-মুচড়ে ছিটকে দূরে গিয়ে পড়ে সেই মহার্ঘ গাড়ি।
ধাক্কার বিকট আওয়াজে স্থানীয় বাসিন্দারা ছুটে আসেন ঘটনাস্থলে। গিয়ে দেখেন গাড়ির মধ্যে আটকে আছেন শিবাজী ও এক কিশোরী। গাড়ি দুমড়ে যাওয়ায় বেরোতে পারছেন না কিছুতেই। স্থানীয় বাসিন্দারাই গাড়ি কেটে বের করে আনেন মেয়েটিকে। সঙ্গে সঙ্গে তাঁকে পাঠানো হয় হাসপাতালে। কিন্তু চালকের আসনে থাকা শিবাজীকে বের করতে বেগ পেতে হয়। দুর্ঘটনা হওয়ার প্রায় ১ ঘন্টা পরে স্থানীয় মানুষেরা বের করে আনে তাঁকে। তাঁকেও পাঠানো হয় হাসপাতালে। পরে হাসপাতালেই মৃত্যু হয় তাঁর।