দ্য ওয়াল ব্যুরো: প্রথম রাফাল এসেছিল গত বছরই। মে মাসের মধ্যে আরও পাঁচটি রাফাল ফাইটার জেটের বায়ুসেনার হাতে আসার কথা ছিল। সূত্রের খবর. বিশ্বজুড়ে করোনা সতর্কতা জারি হওয়ার পরে এখন রাফালের প্রোডাকশন বন্ধ রেখেছে ফরাসি সংস্থা দাসো অ্যাভিয়েশন। সংস্থার তরফে জানানো হয়েছে, মার্চ ৩১ তারিখ অবধি প্রোডাকশন বন্ধ রাখবে তারা। কাজেই মে মাসের মধ্যে হাতে রাফাল পাওয়ার কোনও সম্ভাবনাই নেই ভারতের।
ফ্রান্সে করোনাভাইরাসের প্রকোপ মাত্রাছাড়া হয়ে গেছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার রিপোর্ট বলছে, কোভিড ১৯ সংক্রমণে ফ্রান্সের মৃতের সংখ্যা ছাড়িয়েছে ৩৭২। গোটা দেশ লকডাউন করে দিয়েছে সরকার। বিদেশি পর্যটকদের আসাও যেমন নিষিদ্ধ, তেমনি ইউরোপের কোনও দেশ থেকে পর্যটকদের ভারতে প্রবেশেও নিষেধাজ্ঞা জারি হয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে রাফাল সরবরাহ করা সম্ভব নয় বলেই জানিয়ে দিয়েছে দাসো অ্যাভিয়েশন।
দেশের প্রতিরক্ষাকে আরও মজবুত করতে রাফাল ফাইটার জেটের দরকার আছে বলেই জানিয়েছে বায়ুসেনা। ২০১৬-র সেপ্টেম্বরে ফ্রান্সের সরকারের সঙ্গে চূড়ান্ত চুক্তি স্বাক্ষর করেছিল ভারত। মোট ৩৬টি রাফাল কেনার বিষয়ে চুক্তি হয়েছিল। ফ্রান্সের রাফাল নির্মাতা সংস্থা ‘দাসো অ্যাভিয়েশন’ জানিয়েছিল, মোট ৫৯ হাজার কোটি টাকা দামের ৩৬টি রাফাল যুদ্ধবিমানের মধ্যে প্রথম চারটি ভারতে পৌঁছবে আগামী বছর অর্থাৎ ২০২০ সালের মে মাসে।
সামরিক পরিভাষায় রাফালকে বলে ‘মাল্টিরোল কমব্যাট এয়ারক্র্যাফ্ট’। যে ফরাসি সংস্থা এই যুদ্ধবিমান তৈরি করে সেই দাসো অ্যাভিয়েশন রাফালকে বলে ‘ওমনিরোল এয়ারক্র্যাফ্ট।’ গত বছর সেপ্টেম্বরে চুক্তিমাফিক ৩৬টি রাফালের মধ্যে প্রথম রাফালটি ভারতীয় বায়ুসেনার হাতে এসে গেছে। এযার চিফ মার্শাল আর কে এস ভাদুরিয়ার নামে শক্তিশালী, আধুনিক এই রাফালের টেল নম্বর দেওয়া হয়েছে ‘আরবি ০১ (RB-01)।’ চলতি বছর মে মাসের মধ্যে আরও চারটি রাফাল জেট ভারতের হাতে তুলে দেবে নির্মাতা সংস্থা দাসো অ্যাভিয়েশন। রাফাল ফাইটার জেটের একটি স্কোয়াড্রন থাকবে অম্বালাতে, অন্যটি পশ্চিমবঙ্গের হাসিমারায়।
’৭১-এ পাকিস্তানের সঙ্গে যুদ্ধে ভারতীয় বায়ুসেনার তুরুপের তাস ছিল মিগ যুদ্ধবিমান। ক্রমশ তার আয়ু ফুরিয়ে আসছে। তার বদলে এসেছে রাশিয়ার সুখোই যুদ্ধবিমান। কিন্তু সুখোই-এর থেকেও অত্যাধুনিক বিমান হল সব থেকে হাল্কা, ‘লাইট কমব্যাট এয়ারক্রাফ্ট’ (এলসিএ)। ভারতে এলসিএ ‘তেজস’ তৈরি হচ্ছে। এই সুখোই থেকে এলসিএ-র জার্নিতে আধুনিক ও শক্তিশালী ‘মাল্টিরোল কমব্যাট এয়ারক্র্যাফ্ট’ কেনার পরিকল্পনা নিয়েছিল ভারত। সেই জন্যই ফ্রান্সের সঙ্গে চুক্তি। মাল্টিরোল কমব্যাট এয়ারক্রাফ্ট রাফাল যুদ্ধবিমান প্রতিপক্ষের উপর আঘাত হানতে পারে সুনিপুণ দক্ষতায়। অনেক উঁচু থেকে হামলা চালানো, যুদ্ধজাহাস ধ্বংস করা, মিসাইল নিক্ষেপ এমনকী পরমাণু হামলা চালানোর ক্ষমতাও রয়েছে রাফালের।