দ্য ওয়াল ব্যুরো : ২০২১ সালে ৪০০ কোটি ডলার উপার্জন করেছেন শিল্পপতি মুকেশ আম্বানি (Mukesh Ambani)। ভারতীয় মুদ্রায় তার মূল্য ৩০ হাজার কোটি টাকা। তাঁর মোট সম্পদের পরিমাণ এখন ৯২৭০ কোটি ডলার। ভারতীয় মুদ্রায় তার পরিমাণ প্রায় ৭ লক্ষ কোটি টাকা। সম্প্রতি ১০০ জন ধনীতম ভারতীয়ের তালিকা প্রকাশ করেছে ফোর্বস পত্রিকা। তাতে দেখা যায়, ভারতে ধনীতম ব্যক্তি এখনও মুকেশ আম্বানিই। দ্বিতীয় স্থানে আছেন শিল্পপতি গৌতম আদানি। মুকেশ এবং গৌতম, দু'জনেই প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর ঘনিষ্ঠ বলে পরিচিত। তাঁরা উঠে এসেছেন মোদীর নিজের রাজ্য গুজরাত থেকে।
গৌতম আদানির সম্পদের পরিমাণ ৭৪৮০ কোটি ডলার। অর্থাৎ ৫ লক্ষ ৬০ হাজার কোটি টাকার বেশি। ধনীতমদের তালিকায় তৃতীয় স্থানে আছেন শিল্পপতি শিব নাদার। তাঁর সম্পদের পরিমাণ ৩১০০ কোটি ডলার। ভারতীয় মুদ্রায় তার পরিমাণ প্রায় ২ লক্ষ ৩২ হাজার কোটি টাকা। শিব নাদার এইচসিএল টেকনোলজিসের প্রতিষ্ঠাতা। চতুর্থ স্থানে আছেন ও পি জিন্দাল গ্রুপের চেয়ারপার্সন সাবিত্রী জিন্দাল। তাঁর সম্পত্তির পরিমাণ ১৮০০ কোটি ডলার। অর্থাৎ প্রায় ১ লক্ষ ৩৪ হাজার কোটি টাকা। ফোর্বস ম্যাগাজিনের বক্তব্য, অতিমহামারীর দুই বছরে ভারতের ধনীতমদের সম্পত্তি বেড়েছে ৫০ শতাংশ।
এর আগে জানা যায়, চলতি বছরে গৌতম আদানি পরিচালিত কোম্পানিগুলির শেয়ারের দাম ব্যাপক বেড়েছে। তার ফলে অতিমহামারীর মধ্যেও আদানির সম্পত্তির পরিমাণ বেড়েছে ৪৩০০ কোটি ডলার। অর্থাৎ ৩ লক্ষ কোটি টাকার বেশি।
২০২১ সালে আদানির কোম্পানি টোটাল গ্যাস লিমিটেডের শেয়ারের দাম বেড়েছে ৩৩০ শতাংশ। আদানি ট্রান্সমিশন লিমিটেডের শেয়ারের দাম বেড়েছে ২৬৩ শতাংশ। আদানি এন্টারপ্রাইজ লিমিটেডের শেয়ারের দাম বেড়েছে ২৩৫ শতাংশ।
গত ১০ জুন ব্লুমবার্গ ইনটেলিজেন্সের অ্যানালিস্ট গৌরব পাটানকর এবং নীতিন ছান্দুকা লেখেন, কয়েকটি মরিশাসের কোম্পানি আদানির বেশিরভাগ শেয়ার কিনেছে। বিদেশের কয়েকটি সংস্থার হাতে আদানির এত শেয়ার জমা হওয়ায় দেশীয় বিনিয়োগকারীরা ওই কোম্পানিকে এড়িয়ে চলছেন।
অ্যানালিস্টদের মতে, ২০২১ সালে যেভাবে আদানি গোষ্ঠীর সম্পত্তি হু হু করে বেড়েছে, তার পরিণাম ভাল নাও হতে পারে। এমনকি মার্কিন শিল্পপতি ওয়ারেন বাফেট বা এশিয়ার ধনীতম ব্যক্তি মুকেশ আম্বানির সম্পত্তিও চলতি বছরে এত বাড়েনি। মূলত বিদেশি বিনিয়োগকারীরা আদানির কোম্পানিগুলির শেয়ারের বড় অংশ কিনে নিয়েছেন। আদানি গ্রুপের খুব কম শেয়ারই দেশীয় বিনিয়োগকারীদের হাতে আছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এরকম পরিস্থিতিতে শেয়ারের দাম দ্রুত ওঠাপড়া করে।
ব্লুমবার্গ ইনটেলিজেনসিয়া অ্যানালিস্টরা লিখেছেন, ২০০ দিনে আদানি গোষ্ঠীর কোম্পানিগুলির শেয়ারের দাম বেড়েছে গড়ে দেড়শ থেকে ২০০ শতাংশ। ওই সময় টেসলার শেয়ারের দাম বেড়েছে ১২৬ শতাংশ।