দ্য ওয়াল ব্যুরো : মহারাষ্ট্র সরকারের রাজস্ব বাড়ানোর জন্য মদের দোকানগুলি খুলে দেওয়া উচিত। করোনা অতিমহামারীর মধ্যে এমনই মন্তব্য করেছিলেন এমএনএস নেতা রাজ ঠাকরে। শনিবার তাঁকে কটাক্ষ করে শিবসেনা বলল, রাজ ঠাকরের ধারণা, মদও ভাতের মতোই প্রয়োজনীয়। তিনি সত্যিই রাজ্যের রাজস্ব বাড়াতে আগ্রহী কিনা, তা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছে উদ্ধব ঠাকরের দল।
শিবসেনা বলেছে, রাজ ঠাকরের জানা উচিত, লকডাউনের সময় কেবল মদের দোকানগুলি বন্ধ নেই। মদের কারখানাগুলিও বন্ধ আছে। শিবসেনার মুখপত্র ‘সামনা’-য় সম্পাদকীয়তে শনিবার লেখা হয়েছে, “শুধু মদের দোকান খুললেই রাজস্ব আসবে না। যখন কোনও ডিস্ট্রিবিউটর কারখানা থেকে মদ কেনেন, তখন সরকার তাঁর থেকে আবগারি শুল্ক ও বিক্রয় কর পায়। মদের কারখানা খুলতে হলে শ্রমিকদের চাই। তাছাড়া মদের দোকান খোলা হলে সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখা যাবে না।”
বৃহস্পতিবার মুখ্যমন্ত্রীর অফিসে চিঠি দেন রাজ ঠাকরে। তিনি বলেন, “আমি মদ্যপদের কথা ভেবে মদের দোকান খোলার কথা বলছি না। এই কঠিন সময়ে যাতে সরকার কিছু রাজস্ব পায় সেজন্যই এই প্রস্তাব দিচ্ছি।” একইসঙ্গে রাজ ঠাকরে প্রস্তাব দেন, হোটেলগুলি খুলতে দেওয়া হোক। যাঁরা রান্না করা খাবার বিক্রি করেন, তাঁদেরও কাজ করতে অনুমতি দেওয়া হোক। কারণ বহু মানুষ এই দু’টি ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত।
শিবসেনা তাঁকে বিদ্রুপ করে বলেছে, এমএনএস প্রধান একইসঙ্গে খাবার দোকান ও মদের দোকান খোলার কথা বলেছেন। তিনি বোঝাতে চাইছেন, অ্যালকোহলও খাবারের মতোই অত্যাবশ্যকীয় পণ্য।
মুম্বই ও পুনেতে বাড়ছে কোভিড ১৯ রোগীর সংখ্যা। মহারাষ্ট্রের মধ্যে কেবলমাত্র মুম্বইতেই আক্রান্ত হয়েছেন ৪ হাজারেরও বেশি মানুষ, যা গোটা মহারাষ্ট্রের আক্রান্তের ৬৫ শতাংশ। বৃহস্পতিবার নতুন করে ৫২২ জনের শরীরে পাওয়া গিয়েছে সংক্রমণের নমুনা। যার ফলে এখন মুম্বইতে কোভিড সংক্রমণে আক্রান্তের সংখ্যা মোট ৪০২৫। মহারাষ্ট্রের অন্যান্য সব জেলা মিলিয়ে করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন মোট ২৫৬ জন। সেখানে শুধু মুম্বইতেই সংখ্যাটা ৫২২। একদিনে আক্রান্তের সংখ্যার এই হারে বৃদ্ধি দেখে উদ্বিগ্ন উদ্ধব ঠাকরে সরকার।
কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রকের তথ্য অনুযায়ী ২৪ এপ্রিল সকাল ৮টা পর্যন্ত মারাঠা প্রদেশে এখন করোনা আক্রান্তের সংখ্যা মোট ৬৪৩০। মৃত্যু হয়েছে ২৮৩ জনের। সুস্থ হয়ে উঠেছেন ৮৪০ জন। বৃহন্মুম্বই পুরসভার তরফে জানানো হয়েছে এর আগে ১৯ এপ্রিল মুম্বইতে একদিনে আক্রান্ত হয়েছিলেন ৪৫৬ জন। তারপর এই বৃহস্পতিবার অর্থাৎ ২৩ এপ্রিল একদিনে মুম্বইতে করোনা আক্রান্ত হয়েছেন ৫২২। একলাফে অনেকটা বেড়েছে আক্রান্তের সংখ্যা।