দ্য ওয়াল ব্যুরো : গণতান্ত্রিক দেশে সোশ্যাল মিডিয়ায় কেউ নানা বিষয় নিয়ে আলোচনা করতেই পারেন। এক্ষেত্রে বিধিনিষেধ আরোপ করা ঠিক নয়। সোমবার এমনই বললেন অ্যাটর্নি জেনারেল কে কে বেণুগোপাল। তিনি বলেন, "গণতন্ত্রের সুস্বাস্থ্য যাতে বজায় থাকে, সেজন্য সোশ্যাল মিডিয়ায় খোলাখুলি আলোচনা চলতে দেওয়া উচিত। সমালোচনার লক্ষণরেখা অতিক্রম করে না গেলে সুপ্রিম কোর্টও সে ব্যাপারে হস্তক্ষেপ করবে না।"
কিছুদিন ধরেই অনেকে শীর্ষ আদালতের নানা রায় নিয়ে টুইটারে প্রশ্ন তুলছেন এবং সমালোচনা করছেন। এই প্রসঙ্গে বেণুগোপাল সোশ্যাল মিডিয়ায় মতপ্রকাশের স্বাধীনতার কথা বলেন। তাঁর কথায়, "সোশ্যাল মিডিয়ায় কোনও কড়াকড়ির প্রয়োজন নেই। আমরা মুক্ত গণতন্ত্রে বিশ্বাসী। এখানে খোলাখুলি আলোচনা চলতেই পারে।" পরে তিনি বলেন, "কেউ মানহানি না করলে সুপ্রিম কোর্টের তৎপর হওয়া উচিত নয়। খুব কম ক্ষেত্রেই সুপ্রিম কোর্ট কারও বিরুদ্ধে মানহানির মামলা করে।"
সুপ্রিম কোর্টের অবমাননার দায়ে মামলা করার জন্য সম্প্রতি বেশ কয়েকজন অ্যাটর্নি জেনারেলের অনুমতি চেয়েছেন। কমেডিয়ান কুণাল কামরার বিরুদ্ধে মামলা করার জন্য তিনি অনুমতি দিয়েছেন ১১ জনকে। রিপাবলক টিভির মালিক অর্ণব গোস্বামীকে জামিন দেওয়ার জন্য টুইট করে সুপ্রিম কোর্টের সমালোচনা করেছিলেন কমেডিয়ান।
গত সপ্তাহের শেষে অ্যাটর্নি জেনারেলের অনুমতি নিয়ে আইনের এক ছাত্র কমিক আর্টিস্ট রচিতা তানেজার বিরুদ্ধে মামলা করেন। অভিযোগ, তিনি সুপ্রিম কোর্টের বিরুদ্ধে আপত্তিকর টুইট করেছিলেন। কয়েকমাস আগে আইনজীবী তথা সমাজকর্মী প্রশান্ত ভূষণ মানহানির মামলায় দোষী সাব্যস্ত হন। তাকে এক টাকা জরিমানা করা হয়।
বেণুগোপাল এদিন বলেন, "অনেকে মামলা করার জন্য আমার অনুমতি চাইছেন। আমি জানি না কেন চাইছেন। সম্মতি দেওয়ার ক্ষেত্রে আমি যথেষ্ট সতর্ক আছি। আশা করি শীঘ্রই অনুমতি চাওয়ার পর্ব শেষ হবে।"
কোনও ব্যক্তির বিরুদ্ধে মানহানির মামলা করার জন্য অ্যাটর্নি জেনারেল বা সলিসিটর জেনারেলের অনুমতি লাগে।
৮৯ বছর বয়সী বেণুগোপালকে ২০১৭ সালে অ্যাটর্নি জেনারেলের পদে নিয়োগ করা হয়। পরে তাঁর কার্যকালের মেয়াদ এক বছর বাড়িয়ে দেওয়া হয়। তিনি ২০২১ সালের ৩০ জুন অবসর নেবেন। তিনি বলেছিলেন, "আমার বয়স এখন ৮৯ বছর। অবসর নেওয়ার সময় আমার বয়স হবে ৯০। বিশ্বের কোথাও ৯০ বছর বয়সে কেউ অ্যাটর্নি জেনারেলের দায়িত্ব পালন করে না।"