দ্য ওয়াল ব্যুরো: বরফের উপরে যে বড় বড় পায়ের ছাপের ছবি সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট করে ভারতীয় সেনাবাহিনী দাবি করেছে ইয়েতির পায়ের ছাপ বলে, সেগুলি আসলে পাহাড়ি ভালুকের পায়ের ছাপ ছাড়া কিছুই নয়। এমনটাই দাবি করেছে নেপাল সেনাবাহিনী। নেপাল সেনা সূত্রের খবর, ভারতীয় সেনার ওই মাকালু অভিযানে নেপাল সেনারও কিছু সদস্য ছিলেন। এ ছাড়া স্থানীয় শেরপা ও পোর্টাররা তো ছিলেনই। সকলের সঙ্গে কথা বলে এবং ছবি দেখে নেপাল সেনাবাহিনী নিশ্চিত হয়েছে, নেপাল-তিব্বত সীমান্তের মাকালু শৃঙ্গ এলাকার বরুণ জাতীয় উদ্যানে যে বাদামি রঙের পাহাড়ি ভালুক (ব্রাউন বিয়ার) দেখা যায়, ওই পায়ের ছাপ তাদেরই। [caption id="attachment_100670" align="aligncenter" width="3600"] হিমালয়ের বাদামি ভালুক।[/caption] সোমবার ভারতীয় সেনার জনসংযোগ বিভাগের তরফে একটি টুইট করে জানানো হয়, সেনার একটি দল মাকালু শৃঙ্গ অভিযানে গিয়ে এপ্রিল মাসের ৯ তারিখে বেসক্যাম্পে ইয়েতির পায়ের ছাপ দেখেছে। বরফের উপরে পড়া সেই ছাপের ছবিও পোস্ট করে তারা। দেখা যায়, সাদা বরফের উপরে বড় বড় পায়ের ছাপ স্পষ্ট বোঝা যাচ্ছে। ভারতীয় সেনার তরফে জানানো হয়, ৩২ ইঞ্চি দীর্ঘ ওই পায়ের ছাপগুলো তুষারমানব অর্থাৎ ইয়েতির। তবে তারা এ কথা টুইট করতেই অবশ্য ব্যঙ্গ ও বিদ্রুপের ঝড় ওঠে নেট-দুনিয়া জুড়ে। অনেকেই জানায়, ভারতীয় সেনার তরফে আরও একটু দায়িত্ববোধ আশা করা যায়। ভাল করে খোঁজখবর না নিয়ে, বাস্তবে প্রমাণ পাওয়া যায়নি এরকম একটি প্রাণীর উপস্থিতি নিয়ে গুজব ছড়ানো কোনও কাজের কথা নয়। একই কথা বলছে নেপাল সেনাও। নেপাল সেনার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল বিজ্ঞানদেব পাণ্ডে বলেন, "আমাদের সদস্যও ওই অভিযাত্রী দলে ছিলেন। খবর আমরাও পেয়েছিলাম। কিন্তু তার পরে আমরা আরও ভাল করে জানার চেষ্টা করেছিলাম, আসল বিষয়টা কী। স্থানীয় শেরপা-গাইডরা জানিয়েছেন, ওটা পাহাড়ি ভালুকের পায়ের ছাপ, যা ওই এলাকায় প্রায়ই দেখা যায়। এটা একেবারেই নতুন কিছু নয়।"
কিন্তু ভালুকের পায়ের ছাপ ৩২ ইঞ্চি কী করে হবে! নেপাল সেনার ব্যাখ্যা, মা ভালুকের সঙ্গে সম্ভবত একটি ছানা ভালুকও ছিল। মায়ের পায়ের ছাপের ঠিক পরেই ছানা পা ফেলায়, দুই ছাপ মিলে গিয়ে একটা বড়সড় ছাপ হয়েছে। তা ছাড়াও বরফে যে কোনও পায়ের ছাপ পড়লে, কিছু সময়ের পরে ছাপের সীমানা বরাবর বরফ খানিক গলতে শুরু করে। ফলে সেই ছাপ বড় হতে থাকে খানিকটা।