
শেষ আপডেট: 19 May 2023 17:29
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ফুটবলের যাত্রাপথে এও এক মহা পরিক্রমা। প্রায় ছয় দশক জুড়ে খেলোয়াড় হিসেবে ৫০ মরশুম ফুটবল মাঠে কাটানোর এ এক বিরলতম নজির। হ্যাঁ, গল্প হলেও সত্যির মত এই অভাবনীয় দৃষ্টান্ত স্থাপন করলেন কোন্নগরের সোমবাহাদুর বাসনেট (Footballer Sombahadur Basnet)।
যাঁকে সম্প্রতি ফ্রেন্ডস ইউনিয়ন ক্লাবের পক্ষ থেকে সংবর্ধনা দেওয়া হয়েছে। আর্থিক পুরস্কারের পাশে দেওয়া হয়েছে স্মারক, ট্রফিও। এমনকী তাঁর নাম যাচ্ছে লিমকা বুক অব রেকর্ডসেও (Limca Book Of Records)
সেই সুদূর অতীতে নেপাল থেকে বাবার হাত ধরে কোন্নগরে চলে আসে ছোট্ট ছেলেটি। ছোট থেকেই সহজাত ফুটবল প্রতিভার ঝলকে নজর কাড়তে শুরু করে। ১৯৭২ সালে হুগলী জেলার শ্রীরামপুর মহাকুমার নামী ক্লাব কোন্নগর ফ্রেন্ডস ইউনিয়ন ক্লাবে মাত্র ১৬-১৭ বছর বয়সেই জায়গা করে নেয় সেই কিশোর।
জেলার গন্ডি পেরিয়ে সোম কলকাতায় পা রাখেন দু তিন বছরের মধ্যেই দ্বিতীয় ডিভিশনের দল গরলগাছা স্পোর্টিং ক্লাবের হয়ে। ১৯৭৬ সালে প্রথম ডিভিশনে তাঁর যাত্রা শুরু হয় উয়াড়ি ক্লাবের মাধ্যমে। তারপর একে একে স্পোর্টিং ইউনিয়ন, ওয়েষ্ট বেঙ্গল পুলিশ, কুমারটুলি হয়ে সোনালি শিবির।
তিন বছর এই ক্লাবে খেলার সূত্রে কুড়িয়ে ছিলেন অনেক খ্যাতি। এই ক্লাবের হয়েই তাঁর এক দৃষ্টিনন্দন গোল ছিল কলকাতার অন্যতম প্রধান মোহনবাগানের বিরুদ্ধে। সবুজ মেরুন গোলে সেইসময় ভারত বিখ্যাত গোলরক্ষক শিবাজি বন্দ্যোপাধ্যায়।
এরপর দ্বিতীয় ডিভিশনের দল কালীঘাট মিলন সংঘে খেলে ওই দলকে প্রথম ডিভিশনে ওঠানোর ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিয়েছিলেন সোমবাহাদুর। তারপর হাওড়া ইউনিয়নেও খেলেন ৯০ দশকে। তাঁর সংক্ষিপ্ত চাকরি জীবনও ছিল বেশ বর্ণময়। ৮০-র দশকের প্রথমে বেঙ্গল ইমিউনিটি সংস্থায় চাকরি শুরু করেন। তাঁর সহকর্মীদের মধ্যে ছিলেন প্রয়াত কৃশানু দে, বিকাশ পাঁজি, তরুন দে-র মতো প্রখ্যাত সব ফুটবল তারকারা।
সেই সময়ে ৩ বার গ্ৰাহাম শিল্ড জয়ের স্বাদ পান তাঁরা। কিন্তু, ২০০৩ সালে চরম ভাগ্য বিপর্যয়ের কবলে পড়েন তিনি। সংস্থাটি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় চাকুরিচ্যুত হওয়ার পর তাঁর বাকি জীবন কাটে কর্মহীন অবস্থায়। জীবনধারণের পথে আসা এই চরম আকস্মিক প্রতিকূলতাও তাঁর ফুটবল প্রেমকে এতটুকু দমাতে পারেনি।
২০১০ পর্যন্ত ঘরের ক্লাব ফ্রেন্ডস ইউনিয়নে খেলার পর তিনি দলবদল করে যান মহাকুমার প্রথম ডিভিশন দল রিষড়ার রয়াল স্পোর্টিংয়ে। অতিমারীর প্রকোপে কিছুটা বিলম্বিত হয় তাঁর পঞ্চাশ মরশুম পূর্তি।
অবশেষে, প্রায় ৬৭ বছর বয়সে ঘরের ক্লাবে প্রত্যাবর্তন করে তাঁর খেলোয়াড়ী জীবনের রজত জয়ন্তী বর্ষ পূর্তি ঘটল গত রবিবার। লিগের প্রথম ম্যাচে প্রতিপক্ষ মিলন সঙ্ঘের বিরুদ্ধে প্রথম ১০ মিনিট মাঠে থেকে এক গৌরবময় কেরিয়ারের ইতি টানলেন সদাহাস্যময়, নিরহঙ্কারী, ফুটবল নিবেদিত প্রাণ সোমবাহাদুর।
খেলার শেষে এক মনোজ্ঞ অনুষ্ঠানে তাঁকে সংবর্ধিত করে ফ্রেন্ডস ইউনিয়ন ক্লাব। অফুরন্ত দম, চকিতে দুরপাল্লার শট, শূন্যে শরীর ভাসিয়ে অনবদ্য ব্যাকভলি, দুরন্ত বল নিয়ন্ত্রন ও ভাল হেডিং দক্ষতা, এইসব গুনের সমাহার ছিল তাঁর ফুটবল ভাণ্ডারে। সোম হয়তো তথাকথিত তারকা হতে পারেননি, কিন্তু তাঁর কীর্তিমালা এত সুন্দর করে সাজানো যে লিমকা বুক অব রেকর্ডসে নাম যাচ্ছে তাঁর। জেলা ফুটবল সংস্থার কর্তারাই নাম পাঠাবেন তাঁর। এত দীর্ঘপরিসর ফুটবল জীবন ভূ-ভারতে তো বটেই, বিশ্বেও নেই বললেই চলে।
ইস্টবেঙ্গলে নিশ্চিত স্প্যানিশ স্ট্রাইকার ও মিডফিল্ডার, ক্লেটনও এবার সঙ্গী পেলেন