
শেষ আপডেট: 23 March 2024 12:25
দ্য ওয়াল ব্যুরো: সরকারি হাসপাতালের চিকিৎসা পরিষেবা কিংবা স্বাস্থ্য কর্মী থেকে চিকিৎসকদের ব্যবহার নিয়ে নানা সময় নানা অভিযোগ শোনা যায়। রোগী ও পরিজনদের বিক্ষোভও নতুূন নয়। এমন আবহে সম্পূর্ণ ভিন্ন ছবি ধরা পড়ল আসানসোল জেলা হাসপাতালে।
হাসপাতালে ভর্তি থাকা যক্ষ্মারোগীদের চিকিৎসা চলাকালীন টানা ৬ মাস ধরে তাঁদের খাবার দেওয়ার এক অভিনব উদ্যোগ নিলেন আসানসোল জেলা হাসপাতালে চিকিৎসক ও কর্মীরা। শুক্রবার থেকে নিজেদের বেতনের টাকা দিয়ে যক্ষ্মারোগীদের টিফিন দেওয়ার ব্যবস্থা শুরু করলেন তাঁরা।
এই মুহুর্তে পশ্চিম বর্ধমান জেলায় প্রায় ৩ হাজার যক্ষ্মা রোগী রয়েছেন। জেলার বিভিন্ন ব্লক ও জেলা হাসপাতালে তাঁদের চিকিৎসা চলছে। আসানসোল জেলা হাসপাতালের স্বাস্থ্য কর্মী থেকে চিকিৎসক মিলিয়ে মোট ৫৫ জন রয়েছেন। তাঁরাই এখন থেকে এই রোগীদের খাবার খরচ বহন করবেন। কিছু রোগীর ক্ষেত্রে বাইরে থেকে কিনে আনা ওষুধের খরচের দায়িত্বও নিয়েছেন হাসপাতালের কয়েকজন চিকিৎসক, স্বাস্থ্য কর্মী ও নার্সরা।
কেন? বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বা হু পরামর্শ দিয়েছেন ২০২৫ সালের মধ্যে দেশকে সম্পূর্ণ যক্ষ্মা মুক্ত ও নিয়ন্ত্রণ করতে হবে। সেই লক্ষ্যেই শুধু রোগীদের ওষুধ খাওয়া নয়, পুষ্টি যুক্ত খাবার খাওয়াটাও জরুরি। সেকারণেই এব্যাপারে হাসপাতালের চিকিৎসক ও কর্মীরা উদ্যোগী হয়েছেন।
এ ব্যাপারে শুক্রবার দুপুরে আসানসোলে জেলা হাসপাতালে এক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছিলো। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন পশ্চিম বর্ধমান জেলার মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক ডাঃ ইউনুস খান, জেলা হাসপাতাল সুপার ডাঃ নিখিল চন্দ্র দাস, ব্লাড ব্যাঙ্কের ইনচার্জ ডাঃ সঞ্জিত চট্টোপাধ্যায়, চিকিৎসক ডাঃ গৌতম মন্ডল, ডেপুটি সুপার কঙ্কন রায়, সহকারী সুপার ডাঃ দেবদীপ মুখোপাধ্যায় প্রমুখ।
হাসপাতালের চিকিৎসক-নার্সদের এমন অভিনব উদ্যোগের কথা জানতে পেরে ভার্চুয়ালি অনুষ্ঠানে যোগ দিয়েছিলেন রাজ্যের স্টেট টিউবারকিউলোসিস অফিসার তথা চিকিৎসক সন্তোষ রায়। তিনি বলেন, "এই ঘটনা আমাদের রাজ্যে শুধু প্রথম তাই নয়, এই উদ্যোগ অবশ্যই অন্যান্য হাসপাতালে কর্মী ও চিকিৎসকদের উৎসাহিত করবে।"
সিএমওএইচ ডাঃ ইউনুস খান বলেন, "এটা অত্যন্ত গর্বের বিষয় যে একজন সাধারণ কর্মী থেকে শুরু করে এতজন স্বাস্থ্য দফতরের কর্মী ও আধিকারিকরা এমন একটি ভাল কাজে এগিয়ে এসেছেন।"