
শেষ আপডেট: 21 September 2023 13:13
দ্য ওয়াল ব্যুরো: কিভাবে রাতারাতি বদলে গিয়েছে জীবন। আগে সকালে ঘুম থেকে উঠে মোবাইলে চোখ থাকত, কোথায় খাবার পৌঁছে দিতে হবে। সেই মতো দ্রুত গাড়ি চালিয়ে সেটি ডেলিভারি (Food Delivery) করা না পর্যন্ত নিশ্চিন্তে থাকতেন না। বর্তমানে তিনি বিশ্বকাপে (World Cup) নেদারল্যান্ডস (Netherlands) শিবিরে নেট বোলারের ভূমিকায়।
লোকেশ কুমার। বেঙ্গালুরুতে একটি ফুড ডেলিভারি কোম্পানিতে কাজ করতেন। সপ্তাহ শেষে খেলতেন স্থানীয় লিগের ম্যাচ। চায়নাম্যান বোলার হিসেবে তিনি নাম করেছেন। নেদারল্যান্ডস দল বিশ্বকাপের নেট বোলার হিসেবে অনলাইনে বিজ্ঞাপন দিয়েছিলেন। মোট দশহাজার জন প্রার্থী আবেদন করেছিলেন। তার মধ্যে বেছে নেওয়া হয়েছে চারজনকে। তার মধ্যে কেউ কাজ করতেন ডেলিভারি বয় হিসেবে। কারও পেশা ছিল আদালতে প্রশাসনিক অফিসার। কিন্তু যাঁরাই বাছাই হয়েছেন, তাঁরা ক্রিকেটার হিসেবে অঞ্চলে সমাদৃত।
লোকেশ ডাচদের শিবিরে যোগ দিয়ে বলছিলেন, আমার এতদিনের স্বপ্ন সফল। আমিও চেয়েছিলাম রাজ্যের হয়ে ক্রিকেট খেলব। কোনও কারণে তা সম্ভব হয়নি। আসলে পরিবারে এতটাই অভাব ছিল যে, ক্রিকেটার হয়ে রাজ্যের হয়ে খেলার সুপ্ত স্বপ্নটাই বাস্তবে রূপ পায়নি। এবার একটা দেশের শিবিরে নেট বোলার হিসেবে যোগ দিতে পেরেছি, এর চেয়ে ভাল বিষয় আর কিই বা হতে পারে!
লোকেশ সুইগি নামে এক সংস্থার ফুড ডেলিভারি হয়ে কাজ করতেন। সকালে বেরতেন, ফিরতেন সেই রাতে। সপ্তাহে দুটি দিন ছুটি নিতেন। সেই দিনগুলিতে ক্রিকেট লিগের ম্যাচ খেলতে যেতেন। বাকি তিন নেট বোলারের নাম, হেমন্ত কুমার, রাজারানি প্রসাদ ও হর্ষ শর্মা।
লোকেশ জানিয়েছেন, আমি গত চারবছর ক্রিকেট খেলছি, আগেও খেলতাম। কিন্তু কলেজ থেকে বেরনোর পরে লিগে খেলাটাই আমার জীবনের মোড় ঘুরিয়ে দিয়েছে। বর্তমানে ডাচদের শিবিরে থেকে অনেককিছু শিখছিও। বিশ্বকাপে ডাচদের শিবিরে ২৯ বছরের এই স্পিনার নায়কের সম্মান পাচ্ছেন। তাঁর পেশা সম্পর্কে ধারণা পেয়েছেন দলের বাকি ক্রিকেটাররাও। সবাই যে কারণে বাড়তি সমীহও করছেন লোকেশকে। ক্রিকেটের প্রতি কতটা ভালবাসা থাকলে অন্য পেশায় থেকেও খেলাকে বজায় রাখা যায়, লোকেশ সেটি প্রমাণ করেছেন।
বাংলাদেশ দলের পরামর্শদাতা এক প্রাক্তন ভারতীয়, কে এলেন বিশেষ দায়িত্বে