মামলার করার অনুমতি দিলেন বিচারপতি শুভ্রা ঘোষ। আগামিকাল অর্থাৎ শুক্রবার সকালেই জরুরী ভিত্তিতে শুনানি হবে বলে জানা গিয়েছে। ভোটকুশলী সংস্থার হয়ে মামলা লড়বেন সব্যসাচী বন্দ্যোপাধ্যায়।

আইপ্যাকের কর্ণধার প্রতীক জৈন
শেষ আপডেট: 8 January 2026 17:13
দ্য ওয়াল ব্যুরো: আইপ্যাকের (I-PAC) কর্ণধার প্রতীক জৈনের (Pratik Jain ED Raid) বাড়িতে ও অফিসে যেভাবে ইডি তল্লাশি অভিযান (ED Raid I-PAC) চালালো তা 'অনৈতিক'। শুধু তাই নয়, গুরুত্বপূর্ণ নথি হাতিয়ে নিয়েছে ইডি। এই অভিযোগ জানিয়ে কলকাতা হাইকোর্টে (Kolkata High Court) দ্বারস্থ হল আইপ্যাক। মামলার করার অনুমতি দিলেন বিচারপতি শুভ্রা ঘোষ। আগামিকাল অর্থাৎ শুক্রবার সকালেই জরুরী ভিত্তিতে শুনানি হবে বলে জানা গিয়েছে। ভোটকুশলী সংস্থার হয়ে মামলা লড়বেন সব্যসাচী বন্দ্যোপাধ্যায়।
বৃহস্পতিবার দুপুরে সল্টলেকে আইপ্যাকের দফতরে ইডির তল্লাশি অভিযান চলছিল (ipac kolkata office)। সংস্থার প্রধান প্রতীক জৈনের (pratik jain ipac) বাড়িতে যেমন নথিপত্র বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে, তেমনই আইপ্যাকের অফিস থেকেও একাধিক ফাইলের বান্ডিল নিয়ে বেরোতে দেখা যায় তদন্তকারী সংস্থার আধিকারিকদের (ED Raid)।
#RED
পরে সেখান থেকে বেরিয়ে মুখ্যমন্ত্রী তথা তৃণমূল কংগ্রেস সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee) অভিযোগ করেন, ভোটের কৌশল সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ নথি জোর করে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। তাঁর দাবি, দলের কাগজপত্র ও তথ্য লুট করা হয়েছে, কারণ রাজনৈতিক লড়াইয়ে নামার সাহস তাদের নেই। হার্ড ডিস্ক, আর্থিক নথি এবং দলের প্রয়োজনীয় কাগজ বাজেয়াপ্ত করার কথাও তিনি জানান। পাশাপাশি সরাসরি বিজেপির দিকে আঙুল তুলে মমতা বলেন, তাঁর দেখা মতে বিজেপির মতো বড় ‘ডাকাত’ আর কেউ নেই। ইডির এই হানাকে দুর্ভাগ্যজনক বলেও মন্তব্য করেন মমতা।
যদিও বেলা গড়াতেই ইডি বিবৃতি দিয়ে জানায়, "সাংবিধানিক পদে থাকা ব্যক্তি অবৈধভাবে ক্ষমতার অপব্যবহার করে ফাইল ছিনিয়ে নিয়েছেন। দু'টি জায়গায় ক্ষমতার অপব্যবহার করে অনুপ্রবেশ করা হয়েছে। নির্দিষ্ট প্রমাণের ভিত্তিতেই আমাদের এই তল্লাশি অভিযান চলছিল।"
এই বিবৃতি সামনে আসার পরপরই আইপ্যাকের তল্লাশিতে 'বাধা' দেওয়ার অভিযোগ তুলে হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয় কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা। বিচারপতি শুভ্রা ঘোষের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে তিনি মামলা দায়েরের অনুমতি দিয়েছেন।
বস্তুত, মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের লাউডন স্ট্রিটে যাওয়াকে কড়া ভাষায় সমালোচনা করেছেন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)। তাঁর মতে, এই পদক্ষেপ সম্পূর্ণ অনৈতিক। তবে একই সঙ্গে তিনি স্পষ্ট করে দেন, তদন্ত বা ইডি-র তল্লাশি সংক্রান্ত বিষয়ে তিনি কোনও মন্তব্য করতে চান না।
শুভেন্দু জানান, তদন্তের বিষয়বস্তু নিয়ে তিনি কথা বলবেন না, কিন্তু মুখ্যমন্ত্রীর বিরুদ্ধে সাংবিধানিক সংস্থার কাজে হস্তক্ষেপ করার অভিযোগ আগেও উঠেছে। তাঁর দাবি, ২০২১ সালে ফিরহাদ হাকিম, সুব্রত মুখোপাধ্যায় ও মদন মিত্রকে গ্রেফতারের প্রতিবাদে মমতা সিবিআইয়ের নিজাম প্যালেস দফতরের সামনে ধর্নায় বসেছিলেন। একইভাবে রাজীব কুমারের বাড়িতে সিবিআই তল্লাশির সময়েও তিনি তৎকালীন পুলিশ কমিশনারকে সঙ্গে নিয়ে ধর্না দিয়েছিলেন।