দ্য ওয়াল ব্যুরো: তার বয়স মাত্র ১৩। এই বয়সে স্কুলে যাওয়ার কথা ছিল তার, তবে লকডাউনে সে সব কথা বদলে গিয়েছে। পরিবারের অভাবের তাড়নায় ঠেলাগাড়িতে করে ডিম বিক্রি করতে শুরু করেছিল সে। কিন্তু পুলিশকে ১০০ টাকা ঘুষ দিতে না পারার কারণে তার সমস্ত ডিম রাস্তায় ফেলে ভেঙে দিয়েছিলেন দুই সিভিক পুলিশ। ঘটনার ভিডিও ভাইরাল হয় সম্প্রতি। কিশোর ছেলের সেই মন ভেঙে যাওয়ার দৃশ্য অনেককেই ছুঁয়ে গেছিল। কিন্তু দিনকয়েকের মধ্যেই এত মানুষ পাশে দাঁড়িয়েছেন, রাজনৈতিক দলগুলি পদক্ষেপ করেছে, তা দেখে যেন নতুন করে মনুষ্যত্বের প্রতি ভরসা ফিরে এসেছে সকলের।
মধ্যপ্রদেশের ইন্দোরে পরেশ নামে এক কিশোর ছেলের ডিমের গাড়ি উল্টে দেওয়ার ভিডিওটি দেখে নিন্দার ঝড় উঠেছিল নেটিজেনদের মধ্যে। কিন্তু সাধারণত এসব ক্ষেত্রে দেখা যায়, নিন্দাটুকুই সার। যার ক্ষতি হয়ে গেল, তার পরিস্থিতির বদল হয় না কিছুই। এক্ষেত্রে অবশ্য অন্যরকম হল।
দিন তিনেক আগে ইন্দোরের পথে ঠেলা নিয়ে ডিম বিক্রি করার সময়ে ঠেলা রাখার জন্য তার কাছে ১০০ টাকা চান দুই পুলিশ। টাকা না থাকায় তা দিতে পারেনি পরেশ। তখনই রেগে গিয়ে ডিমসুদ্ধ গোটা গাড়িটিই উল্টে দেন ওই দুই পুলিশ। ভেঙে ছত্রাখান হয়ে যায় সমস্ত ডিম। ভাইরাল হয় ভিডিওটি।
https://twitter.com/Anurag_Dwary/status/1286313192788918273
ঘটনার কথা জানার পরেই কিশোরকে সাহায্য করতে হাত বাড়িয়ে দিলেন অনেকে। মধ্যপ্রদেশের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী দ্বিগিজয় সিং ইতিমধ্যেই ওই কিশোরের পরিবারের হাতে ১০ হাজার টাকা দেবেন বলে প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। পাশাপাশি ওই কিশোরের দাদাকে তিনি কলেজে ভর্তি করিয়ে দেবেন বলেও আশ্বাস দিয়েছেন। কিশোরের পড়াশোনারও ব্যবস্থা করবেন।
মুখ্যমন্ত্রীর পাশাপাশি এগিয়ে এসেছেন ইন্দোরের বিজেপি বিধায়ক রমেশ মেন্ডলাও। প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনা প্রকল্পে ওই কিশোর ও তার পরিবারকে বাড়ি দেবেন বলে জানিয়েছেন তিনি। একটি সাইকেলও কিনে দেওয়া হয়েছে ছেলেটিকে। এমনকি সাহায্যের আশ্বাস এসেছে দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরীবাল এবং কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধীর থেকেও।
কিশোরের পরিবার রীতিমতো আপ্লুত। তাঁরা জানিয়েছেন, শুধু রাজনীতিকরাই নন, সারা দেশ থেকে সাধারণ মানুষ ওই কিশোরের পাশে থাকার কথা জানিয়েছেন। অনেকেই আর্থিক সাহায্য পাঠিয়েছেন। পাঠিয়েছেন পোশাক, বইখাতাও। কারণ কিশোর পরেশের চোখের জল ছুঁয়ে গেছে বহু মানুষকে।