দ্য ওয়াল ব্যুরো : বুধবার থেকে বড় ধরনের দুর্যোগের কবলে পড়েছে উত্তরাখণ্ডের কয়েকটি জেলা। প্রবল বৃষ্টিতে ধস নেমে বন্ধ রয়েছে গঙ্গোত্রী জাতীয় সড়ক। বিচ্ছিন্ন হয়ে গিয়েছে চিন সীমান্তের কয়েকটি অঞ্চল। গঙ্গা বইছে বিপদসীমার ১০ সেন্টিমিটার অপর দিয়ে। গঙ্গার শাখানদী হেনওয়ালের জলস্তরও বেড়েছে। নদীর ধারে বসবাসকারী পরিবারগুলিকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে।
সারদা নদীতে জলস্তর বৃদ্ধি পাওয়ায় চামপাওয়াত জেলায় সারদা বাঁধেও বেড়েছে জল। ব্যারেজ ম্যানেজমেন্ট দফতরের এক অফিসার বলেছেন, "আমরা পরিস্থিতির ওপরে নজর রাখছি। নদীর জল যেভাবে বেড়েছে তাতে উত্তরাখণ্ডের দু'টি ও উত্তরপ্রদেশের ১০ টি জেলা ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। স্থানীয় লোকজনকে সতর্ক করা হয়েছে।"
আবহবিদরা বলেছেন, আগামী দু'-তিনদিনে আরও প্রবল বৃষ্টির কবলে পড়তে পারে উত্তরাখণ্ড। তাতে কয়েকটি পাহাড়ি নদীতে হড়পা বান দেখা দিতে পারে। কেন্দ্রীয় জল কমিশন একটি টুইটে বলেছে, "আগামী ২৪ ঘণ্টায় হিমাচল প্রদেশ, উত্তরাখণ্ড, রাজস্থানের পূর্বাঞ্চল এবং মধ্যপ্রদেশের পশ্চিমাঞ্চলে হড়পা বান দেখা দিতে পারে।" উত্তরাখণ্ড বাদে পাঞ্জাব, হরিয়ানা, চণ্ডীগড়, দিল্লি ও উত্তরপ্রদেশেও আগামী দু'-তিনদিনে ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে।
https://twitter.com/AHindinews/status/1293728858588487686
কিছুদিন আগেই ভয়াবহ বন্যার কবলে পড়েছিল বিহার। তার রেশ কাটেনি এখনও। সেখানে বন্যায় মৃত্যু হয়েছে অন্তত ২৪ জনের। ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন ৭৫ লক্ষেরও বেশি। এখনও জলমগ্ন রয়েছে ১৬টি জেলা। দ্বারভাঙা, মুজফফরপুর, সীতামারী, সুপাল, কৃষ্ণগঞ্জ, গোপালগঞ্জ, পূর্ব ও পশ্চিম চম্পারণ, সরণ ও সিয়ান জেলা বন্যায় মারাত্মক ভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
দ্বারভাঙায় মৃত্যু হয়েছে ১০ জনের। মুজফফরপুরে ৬ জন, চম্পারণে ৪ জন, সরণ ও সিয়ানে ২ জন করে মোট ৪ জন মারা গিয়েছেন বন্যায়। বিহার সরকারের একটি বুলেটিনে বলা হয়েছে বন্যায় মোট ক্ষতিগ্রস্তের সংখ্যা ৭৫,০২,৬২১। বন্যার জল ক্রমশ বাড়তে থাকায় একরের পর একর চাষের জমি ডুবে গিয়ে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে ফসলের। এ যাবৎ ৬৬টি গবাদি পশুর মৃত্যু হয়েছে বন্যায়। সরকারের তরফে জানানো হয়েছে এনডিআরএফ অর্থাৎ জাতীয় বিপর্যয় মোকাবিলাকারী দলের ৩৩টি টিম বিহারে বন্যা কবলিতদের উদ্ধারকাজে এবং বিভিন্ন ত্রাণ শিবিরে সাহায্য করছে। এখনও পর্যন্ত ১২,৪৭৯ জনকে ত্রাণ শিবিরে পাঠানো হয়েছে।
কিছুদিন আগে ভিডিও কনফারেন্সে বিহারের বন্যা পরিস্থিতি নিয়ে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সঙ্গে বৈঠক করেন মুখ্যমন্ত্রী নীতীশ কুমার। এর আগেই মুখ্যমন্ত্রী বলেছিলেন, নদীতে যে ভাবে ক্রমাগত জলের মাত্রা লাগামছাড়া ভাবে বাড়ছে তাতে সেপ্টেম্বর মাস পর্যন্ত বিহারে বন্যা পরিস্থিতি বজায় থাকবে। বন্যা কবলিত এলাকার মানুষদের যাতে সঠিক ভাবে কোভিড টেস্ট করানো হয় সেদিকে প্রশাসনকে নজর দিতে বলেছেন মুখ্যমন্ত্রী নীতীশ কুমার।