
শেষ আপডেট: 9 April 2024 16:37
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ইডির পর এবার রাজ্য পুলিশ। সন্দেশখালিতে ফের হামলার ঘটনা। তাৎপর্যপূর্ণভাবে, পুলিশি হামলার নেপথ্যে শাসকদল তৃণমূলের একাংশের জড়িত থাকার অভিযোগ উঠেছে।
পুলিশ সূত্রে খবর, সোমবার গভীর রাতে সন্দেশখালির পুলিশ ক্যাম্পে হামলার ঘটনায় তৃণমূলের স্থানীয় বুথ সভাপতি-সহ পাঁচজনকে আটক করেছে পুলিশ। বুথ সভাপতি ছাড়াও আটকদের মধ্যে রয়েছে শাসকদলের আরও দুই সক্রিয় সদস্য। তবে কী কারণে এই হামলা তা এখনও স্পষ্ট নয়।
এদিকে পুলিশের ওপর হামলার ঘটনায় জেলা প্রশাসনের কাছে রিপোর্ট তলব করেছে কমিশন।
বিষয়টি প্রকাশ্যে আসতে তৃণমূলের বিরুদ্ধে সুর চড়িয়েছে বিরোধীরা। সিপিএম নেতা সুজন চক্রবর্তী থেকে কংগ্রেসের রাজ্য মুখপাত্র সৌম্য আইচ, ঘাটালের বিজেপি প্রার্থী হিরণ চট্টোপাধ্যায় ঘটনার নেপথ্যে তৃণমূলকে দায়ী করে একযোগে দাবি করেছেন, রাজ্যে আইনের শাসন নেই বলেই এমন পরিস্থিতি।
অন্যদিকে ঘটনার তীব্র সমালোচনা করে সন্দেশখালির স্থানীয় তৃণমূল বিধায়ক সুকুমার মাহাত বলেন, "পুলিশ তৃণমূলের কাউকে আটক করা মানেই তৃণমূল ওই ঘটনার সঙ্গে জড়িত, এমন সরলীকরণ করা ঠিক নয়। তৃণমূল এই ধরনের ঘটনাকে সমর্থন করে না। ওই ঘটনায় দলের কারও যোগ থাকার অভিযোগ প্রমাণিত হলে আইনের পথেই তার বিচার হবে।"
স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, সোমবার রাত সাড়ে ১১টা নাগাদ সন্দেশখালির শীতুলিয়া পুলিশ ফাঁড়িতে হামলার ঘটনা ঘটে। ওই সময় পুলিশ ক্যাম্পে ছিলেন তিনজন কনস্টেবল। তাঁর যে যার ঘরে ছিলেন।
সন্দীপ সাহা নামে একজন কনস্টেবলকে দুষ্কৃতীরা রড দিয়ে মারধর করে বলে অভিযোগ। হামলার পর সৌমিত্র মণ্ডল নামে অন্য এক কনস্টেবলকে ফোন করেন সন্দীপ। তিনিও ফাঁড়িতে ছিলেন। ফোন পেয়ে নিজের ঘর থেকে তড়িঘড়ি সন্দীপের ঘরে দিয়ে সৌমিত্র দেখেন, তার মাথা দিয়ে রক্ত ঝরছে। সঙ্গে সঙ্গে সন্দীপকে নিয়ে যাওয়া হয় স্থানীয় হাসপাতালে।
,সন্দীপের অভিযোগের ভিত্তিতে তৃণমূলের স্থানীয় বুথ সভাপতি-সহ পাঁচজনকে আটক করে ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ। তবে কী কারণে এই হামলা তা এখনও স্পষ্ট নয়। ঘটনার নেপথ্যে ব্যক্তিগত কোনও শত্রুতা রয়েছে কি না, তাও খতিয়ে দেখছে পুলিশ।
এর আগে গদত ৫ জানুয়ারি রেশন দুর্নীতির তদন্তে তৃণমূল নেতা শেখ শাহজাহানের খোঁজে সন্দেশখালিতে গিয়ে হামলার মুখে পড়েছিল কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা ইডির আধিকারিকরা।