দ্য ওয়াল ব্যুরো: পেট খারাপ হলেই শিঙি মাগুর খান? কিন্তু সমীক্ষা যে বলছে, ওদেরই সবচেয়ে বেশি অসুস্থতা রয়েছে। তাহলে অসুস্থ অবস্থায় আর কেনই বা ওদের উপর ভরসা করবেন? মধ্যপ্রদেশের জব্বলপুরে কলেজ অফ ফিশারি সায়েন্সের একটি গবেষণায় উঠে আসছে একটি ভয়ঙ্কর তথ্য। জলে ফেলা প্লাস্টিক এবং রাসায়নিক থেকে প্রায় সব মাছেদেরই ক্যানসার হচ্ছে। বিশেষত, স্কিন ক্যানসার বেশি দেখা যাচ্ছে মাছেদের মধ্যে। আর সেই মাছ যখন সাধারণ মানুষজন খাচ্ছেন, তাঁদের পেট খারাপ, বমি থেকে শুরু করে নানা অসুস্থতা হচ্ছে।
এই গবেষণা গত চার বছর ধরে চালানো হয়েছে। তারপরই এই সিদ্ধান্তে এসেছেন গবেষকরা। জলের দূষণ, মূলত প্লাস্টিক থেকে এই সমস্যার সূত্রপাত। জব্বলপুর ও সংলগ্ন এলাকার জেলেরা অনেক দিন ধরেই মাছের মড়ক নিয়ে উদ্বিগ্ন ছিলেন। তাঁরা এবং কৃষি বিজ্ঞান কেন্দ্রের ছাত্র ছাত্রীরাই জানতে চেয়েছিলেন, কেন এমন হচ্ছে। তারপরেই শুরু হয় গবেষণা। দেখা যায় মূলত পুকুর বা নদীতে এই সমস্যা। আটকে থাকা জল, বা স্ট্যাগন্যান্ট ওয়াটারের মাছেদের এই সমস্যা বেশি হচ্ছে। তাদের গতি ক্রমশ শ্লথ হয়ে যাচ্ছে। গায়ের চকচকে ভাবও যাচ্ছে কমে। কানকো থেকে শুরু করে যে সব অংশ লাল থাকার কথা, তা ধীরে ধীরে ফ্যাকাশে হয়ে যাচ্ছে। চোখের ভিতরটা বেশি মাত্রায় সাদা হয়ে যাচ্ছে।
মধ্যপ্রদেশের মান্ডলা, দিনদোরি, সিওনি, বলাঘাট, জব্বলপুর, রেওয়া সহ বিভিন্ন জায়গার আলাদা আলাদা পুকুর ও নদী থেকে এই মাছ নিয়ে পরীক্ষা চালানো হয়। কলেজের ডিন শশীকান্ত মহাজন বলেন, “যে সব মাছেদের ক্যানসার হয়েছে, সেগুলো যে সব জলাশয়ে ছিল, সেখানে প্রচুর মেটাল এবং প্লাস্টিক পাওয়া গেছে। ” মহাজন আরও বলেন, বিভিন্ন বালি খাদান বা খনিজের কারণে পরোক্ষভাবে এই সব জলাশয়গুলো আরও বেশি করে বিপজন্নক হয়ে ওঠে এই জলজ প্রাণীদের ক্ষেত্রে। তাছাড়া পুকুরগুলোতে যে সব রাসায়নিক এসে পড়ে, তা তো আর পরিশ্রুত হতে পারে না। ফলে সেই বদ্ধ জলে অক্সিজেনের অভাব বোধ করে মাছগুলো।
এবার আপনিই ভেবে দেখুন, যে কোনও জায়গায় প্লাস্টিক বা অন্য কোনও রাসায়নিক ফেলে দিয়ে বাড়ি এসে আরাম করে মাছের ঝোলে পেট ভরাবেন কি না! কারণ মাছগুলো তো মরছেই, আপনিও কি খুব ভালো থাকতে পারবেন বেশি দিন? অন্যের কথা নাই বা ভাবতে গেলেন, নিজের বাড়ির কথা তো ভাববেন। আর এলাহাবাদ, অন্ধ্রপ্রদেশ ছাড়া মধ্যপ্রদেশ থেকেও যে পশ্চিমবঙ্গের বাজারগুলোয় মাছ আসে, তা জানেন তো?