দ্য ওয়াল ব্যুরো: করোনার টিকা দেওয়া শুরু করে দিয়েছে ভারত বায়োটেক ইন্টারন্যাশনাল লিমিটেড। গত ১৫ জুলাই থেকে প্রথম পর্যায়ের ট্রায়াল শুরু হয়েছে পাটনার এইমস ও রোহতকের পোস্ট গ্র্যাজুয়েট ইনস্টিটিউট অব মেডিক্যাল সায়েন্সে (পিজিআইএমএস)। দুই পর্যায়ে চলবে টিকার ক্লিনিকাল ট্রায়াল। ভারত বায়োটেক জানিয়েছে, প্রথম পর্যায়ে ৩৭৫ জনকে টিকা দেওয়া হচ্ছে। দেশের ১২টি হাসপাতালে করোনার টিকা কোভ্যাক্সিনের পরীক্ষামূলক প্রয়োগ শুরু হয়ে গেছে।
বিশ্বের ১৪০ রকম কোভিড ভ্যাকসিনের মধ্যে প্রায় ১৪ রকম ভ্যাকসিনের ক্লিনিকাল ট্রায়াল চলছে মানুষের শরীরে। ভারতে ভ্যাকসিন দৌড়ে এগিয়ে রয়েছে হায়দরাবাদের ফার্মাসিউটিক্যাল কোম্পানি ভারত বায়োটেক ও জাইদাস ক্যাডিলা। এই দুই সংস্থার তৈরি ভ্যাকসিনই ড্রাগ কন্ট্রোলের অনুমোদন পেয়েছে। ভারত বায়োটেকের তৈরি কোভ্যাক্সিন ও জাইদাস ক্যাডিলার তৈরি জ়াইকভ-ডি ভ্যাকসিনের ট্রায়ালও শুরু হয়ে গেছে এর মধ্যেই। জাইদাস ক্যাডিলা টিকা দেওয়ার জন্য ১০৪৮ জন স্বেচ্ছাসেবককে বেছে নিয়েছে আর ভারত বায়োটেক প্রথম পর্যায়ে ৩৭৫ জনকে বেছে নিয়েছে টিকার ক্লিনিকাল ট্রায়ালের জন্য।
আরও পড়ুন: ভারতে করোনার টিকা মানব শরীরে দেওয়া শুরু, ভ্যাকসিন দিচ্ছে জাইদাস ক্যাডিলা
https://twitter.com/BharatBiotech/status/1284124275020947456
ইন্ডিয়ান কাউন্সিল অব মেডিক্যাল রিসার্চ (আইসিএমআর) ও পুণের ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব ভাইরোলজি (এনআইভি) থেকে সার্স-কভ-২ ভাইরাল স্ট্রেন নিয়ে ল্যাবোরেটরিতে তার স্ক্রিনিং করে ভ্যাকসিন ক্যানডিডেট BBV152 বানিয়েছে ভারত বায়োটেক। সংস্থার তরফে জানানো হয়েছে, করোনার ভাইরাল স্ট্রেন নিষ্ক্রিয় করে ভ্যাকসিন ক্যানডিডেট ডিজাইন করা হয়েছে। বায়োসেফটি লেভেল-৩ ল্যাবোরেটরির সুবিধা থাকায় ভারত বায়োটেকের ভাইরোলজিস্টরা সংক্রামক ভাইরাল স্ট্রেনের বিশেষ অংশ চিহ্নিত করে তাকে আলাদা করে নিয়েছেন। অর্থাৎ ভাইরাল প্রোটিনের বিশেষ অংশ স্ক্রিনিং করে বার করে নিয়েছেন। এরপরে সেই সংক্রামক স্ট্রেনকে বিশেষ বিজ্ঞানসম্মত উপায় পিউরিফাই করে তাকে নিষ্ক্রিয় বা ইনঅ্যাকটিভ (Inactive) করেছেন । এই নিষ্ক্রিয় ভাইরাল স্ট্রেন দুর্বল, তার সংক্রমণ ছড়ানো বা

দেহকোষে ঢুকে প্রতিলিপি তৈরি করে সংখ্যায় বাড়ার ক্ষমতা নেই। কাজেই মানুষের শরীরে প্রয়োগ নিরাপদ ও সুরক্ষিত। অথচ এই ভাইরাল স্ট্রেন শরীরে ঢুকলে অ্যান্টিবডি তৈরির প্রক্রিয়াকে উদ্দীপিত করতে পারে।
প্রিক্লিনিকাল স্টেজে গিনিপিগ ও ইঁদুরের শরীরে এই ভ্যাকসিন ক্যানডিডেটের সেফটি ট্রায়াল হয়েছে। পশুদের শরীরে ট্রায়ালের রিপোর্ট বেশ ভাল। কোনও অ্যাডভার্স এফেক্ট দেখা যায়নি।
কীভাবে হচ্ছে কোভ্যাক্সিনের ট্রায়াল?
ভারত বায়োটেক জানিয়েছে, দেশের ১২টি হাসপাতালে কোভ্যাক্সিনের কন্ট্রোলড ট্রায়াল শুরু হয়েছে। এই হাসপাতালগুলির মধ্যে রয়েছে, দিল্লির এইমস, পাটনার এইমস, বিশাখাপত্তনমের কিং জর্জ হাসপাতাল, রোহতকের পিজিআইএমএস, কর্নাটকের জীবন রেখা হাসপাতাল, নাগপুরের গিল্লুরকর মাল্টিস্পেশালিটি হাসপাতাল, গোরক্ষপুরের রানা হাসপাতাল, চেন্নাইয়ের এসআরএম, হায়দরাবাদের নিজাম ইনস্টিটিউট অব মেডিক্যাল সায়েন্স, ভুবণেশ্বরের কলিঙ্গ হাসপাতাল, কানপুরের প্রখর ও গোয়ার একটি হাসপাতাল।
পটনা এইমসে প্রথম ১৮-২০ জন স্বেচ্ছাসেবককে টিকা দেওয়া হয়। এরপর বাকি হাসপাতালগুলিতে টিকা দেওয়া শুরু হয়ে গেছে। ভ্যাকসিন দেওয়ার প্রথম সাত থেকে দশ দিন পর্যবেক্ষণে রাখা হবে। এই সময় ভ্যাকসিনের প্রভাবে কোনওরকম পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া হচ্ছে কিনা সেটা দেখা হবে। এই দশদিনের রিপোর্ট ডেটা অ্যান্ড সেফটি মনিটরিং বোর্ডে জমা করা হবে। দশদিনের ট্রায়ালের রিপোর্ট যদি সন্তোষজনক হয় তাহলেই টিকা দেওয়ার পরবর্তী পর্যায়গুলো শুরু হবে।