দ্য ওয়াল ব্যুরো: আজ থেকে তিনদিনের মালাবার নৌমহড়া শুরু হল বঙ্গোপসাগরে। চিনের সঙ্গে সীমান্ত সংঘাতের আবহেই ভারত, জাপান, আমেরিকা ও অস্ট্রেলিয়ার চতুর্দেশীয় অক্ষ বা কোয়াড সামরিক চেহারা পেল।
অক্টোবরের গোড়াতেই চার দেশের বিদেশমন্ত্রী পর্যায়ের বৈঠক হয়েছে। কূটনৈতিক শিবিরের মতে, প্রকৃতপক্ষে এই অক্ষের জন্মই হয়েছিল চিন-বিরোধিতার উপর ভিত্তি করে। সমুদ্রপথে বেজিংয়ের একাধিপত্য, সীমান্তবর্তী দেশগুলির ভূখণ্ডের প্রতি চিনের আগ্রাসন রুখতেই একজোট হওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল ভারত, আমেরিকা, জাপান ও অস্ট্রেলিয়া। সমুদ্রপথে চিনকে চ্যালেঞ্জ ছুড়তে এ বছর মালাবার নৌমহড়ায় অস্ট্রেলিয়াকে নিমন্ত্রণ পাঠানো হবে কিনা সে নিয়ে আলোচনা চলছিল। চিনের বিরুদ্ধে চতুর্দেশীয় অক্ষ তৈরি করে তাকে সামরিক চেহারা দেওয়ার জন্য এবার অস্ট্রেলিয়াকেও সামিল করা হয়।
তিনদিন ব্যাপী নৌমহড়ার আজ প্রথম দিনে যোগ দিয়েছে জাপানের তৈরি ইউএসএস জন এস ম্যাককেইন (ডিডিজি-৫৬)যা এখন মার্কিন নৌসেনা ব্যবহার করে, অস্ট্রেলিয়ার নৌবাহিনীর এফএফএইচ-১৫৫ ফ্রিগেট এবং এমএইচ-৬০ হেলিকপ্টার, জাপানের নৌসেনার জেএস ওনামি যুদ্ধজাহাজ ও এসএইচ-৬০ হেলিকপ্টার। ভারতীয় নৌবাহিনীর আইএনএস রণবিজয়, মাল্টিরোল ফ্রিগেট আইএনএস শিবালিক, আইএনএস সুকন্যা, ফ্লিট ট্যাঙ্কার আইএনএস শক্তি ও সাবমেরিন আইএনএস সিন্ধুরাজ।
https://twitter.com/indiannavy/status/1323270695627890691
মালাবার নৌমহড়া আদতে শুরু হয় ১৯৯২ সালে। সে সময় মালাবারে এই বার্ষিক নৌসেনা মহড়া ছিল ভারত ও আমেরিকার দ্বিপাক্ষিক নৌসেনা মহড়া। পরে ২০১৫ সালে জাপানও যোগ দেয় এই মহড়ায়। ২০১৭ সালে ভারত, জাপান ও আমেরিকা ত্রিপাক্ষিক নৌমহড়া হয় বঙ্গোপসাগরে। এই নৌসেনা মহড়ার পোশাকি নাম ছিল ‘মালাবার ২০১৭।’ ভারত মহাসাগর শুধু নয় চিনের নৌসেনার তৎপরতা লক্ষণীয় বঙ্গোপসাগরেও। প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞরা বলেন, জলযুদ্ধে চিনা ডুবোজাহাজের ক্ষমতা চিন্তার কারণ। চোরাগোপ্তা হামলা চালাতেই বেশি অভ্যস্ত তারা। এবছরও মালাবার এক্সারসাইজ হবে বঙ্গোপসাগরেই। এবারের মহড়ায় ডুবোজাহাজের যুদ্ধকৌশল বিশেষভাবে অনুশীলন করা হতে পারে। কূটনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, ভারত ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে সমুদ্রযুদ্ধের পরিস্থিতি তৈরি হয়ে আছে। লাদাখ সংঘাতের পরে পরিস্থিতি আরও সঙ্কটময় হয়ে উঠতে পারে। তাই বাণিজ্যিক ও রণকৌশলগতভাবে চিনকে ঠেকাতে এই নৌমহড়ার বিশেষ তাৎপর্য আছে বলেই মনে করা হচ্ছে।
মালাবার নৌমহড়ার প্রস্তুতির সঙ্গেই সমুদ্র ও আকাশের বৃহত্তর সামরিক মহড়া ‘ট্রপেক্স’-এর জন্যও প্রস্তুতি শুরু করতে চলেছে ভারত। নাম না করলেও মূলত চিনকে বার্তা দেওয়াই এই নৌ-মহড়ার অন্যতম উদ্দেশ্য। জলপথে নিউক্লিয়ার অ্যাটাক সাবমেরিন, যুদ্ধজাহাজ সাজিয়ে, আকাশপথে কমব্যাট ফাইটার এয়ারক্রাফ্ট উড়িয়ে ভারত দেখিয়ে দেবে যে কোনও জায়গাতেই তারা অপ্রতিরোধ্য। ট্রপেক্স নৌ-মহড়ে হবে আগামী বছর জানুয়ারিতে। তার প্রস্তুতি শুরু হয়ে গেছে এখনই। অক্টোবরে যুদ্ধজাহাজ ও সাবমেরিন নিয়ে প্রস্তুতি চালাবে ভারতের নৌসেনা। এই প্রস্তুতিতে যোগ দেবে নৌসেনার ওয়েস্টার্ন কম্যান্ড ডিফেন্স অব গুজরাত (DGX) এবং ইস্টার্ন ন্যাভ্যাল কম্যান্ড অপারেশনাল রেডিনেস এক্সারসাইজ (ENCORE) । ভারতীয় নৌসেনা সূত্র জানাচ্ছে, প্রায় এক মাস ধরে চলবে এই নৌ-মহড়ার প্রস্তুতি।