দ্য ওয়াল ব্যুরো: এক ঝলক দেখলে বোঝা যাবে না কিছুতেই। মনে হতে পারে, ছোট ছোট সোনার পাত একসঙ্গে রেখে গলানো হচ্ছে। আবার মনে হতে পারে, অসংখ্য কোষ পাশাপাশি-ঘেঁষাঘেঁষি যেন ভেঙেচুরে যাচ্ছে। বিভাজিত হচ্ছে। ভাঙছে-জুড়ছে আবার গলে গিয়ে মিলেমিশে যাচ্ছে। দূর থেকে দেখলে মনে হবে মরুপৃষ্ঠ। বিশাল আদি অনন্ত মরুভূমির বুকে তপ্ত রোদ।
আসলে এসব কিছুই নয়। দৃষ্টিভ্রমও নয়। হাই-রেজোলিউশন লেন্সে ধরা পড়া সূর্যের ছবি।
ন্যাশনাল সায়েন্স ফাউন্ডেশনের (NSF) ‘ড্যানিয়েল কে ইনাওয়ে সোলার টেলিস্কোপ’ (DKIST)-এর লেন্সে বন্দি হয়েছে সৌরপৃষ্ঠের এমন ছবি। আর এই ছবি সামনে আসার পরই উল্লাসে মেতেছেন বিজ্ঞানীরা। সৌরপৃষ্ঠের এমন চেহারা যদি সামনে আনতে পারে টেলিস্কোপ, তাহলে রহস্যময় সূর্যের বাড়িতে আড়ি পাতা যাবে সহজেই।
সৌরঝড় (সোলার স্টর্ম), সৌরবায়ু (সোলার উইন্ড) আর অসম্ভব শক্তিশালী সৌরকণাদের (সোলার পার্টিকল) চালচলনে নজর রাখাও যাবে।
ন্যাশনাল সায়েন্স ফাউন্ডেশনের সৌরবিজ্ঞানীরা বলছেন, এই বিশাল সৌরপৃষ্ঠের গঠন অনেকটা কোষের সমষ্টির মতো দেখতে। তবে এই কোষ মোটেই ছোটখাটো নয়, বরং একটা একটা কোষের মধ্যে পৃথিবীর এক একটা দেশ বা রাজ্য ধরে যেতে পারে। প্রবল উত্তাপে এই কোষেরা কখনও সঙ্কুচিত হচ্ছে, আবার কখনও প্রসারিত হচ্ছে। তাই মনে হচ্ছে, যেন গলে গলে পড়ছে জ্বলন্ত সোনা।
https://twitter.com/NSF/status/1222609934698893312?ref_src=twsrc%5Etfw%7Ctwcamp%5Etweetembed%7Ctwterm%5E1222609934698893312&ref_url=https%3A%2F%2Fwww.indiatoday.in%2Ftrending-news%2Fstory%2Fnew-telescope-shows-most-detailed-photo-of-the-sun-s-surface-chikki-hai-kya-asks-desi-twitter-1641592-2020-01-30
বিশ্বের বৃহত্তম সোলার-টেলিস্কোপ দেখিয়েছে সূর্যের অজানা রূপ
এনএসএফের এই টেলিস্কোপ রয়েছে হাওয়াইতে। চার মিটার দীর্ঘ, বিশ্বের বৃহত্তম সোলার টেলিস্কোপ। সূর্য়ের সংসারে উঁকিঝুঁকি দেওয়াই তার কাজ। এই টেলিস্কোপে বসানো আছে ১৩ ফুট লম্বা আয়না, যা সৌরপৃষ্ঠের গঠনকে নিখুঁতভাবে সামনে আনতে পারে। ন্যাশনাল সায়েন্স ফাউন্ডেশনের ডিরেক্টর ফ্রান্স করডোভা বলেছেন, আরও ৪৪ বছর কাজ করতে পারবে এই টেলিস্কোপ। যার অর্থ, আরও চারটি
সোলার-সাইকেল (Solar-Cycle) এক একটির স্থায়িত্ব ১১ বছর, দেখতে পারবেন সৌরবিজ্ঞানীরা। সূর্যে কী কী পরিবর্তন হচ্ছে, কী রহস্য জন্ম নিচ্ছে নতুন করে, সবকিছুই চোখের সামনে চলে আসবে বিজ্ঞানীদের।

এনএসএফের সোলার-টেলিস্কোপ আগামী দিনে কাজ করতে চলেছে
নাসার পার্কার সোলার প্রোব ও
ইউরোপিয়ান স্পেস এজেন্সি ও নাসার সোলার অরবিটারের সঙ্গে।
ন্যাশনাল সায়েন্স ফাউন্ডেশনের (NSF) ‘ড্যানিয়েল কে ইনাওয়ে সোলার টেলিস্কোপ’ (DKIST)
ঝড় বইছে সূর্যের সংসারে, জ্বালিয়ে-পুড়িয়ে দিচ্ছে গনগনে আগুন
সূর্যের পিঠ (সারফেস) আর তার বায়ুমণ্ডলের একেবারে উপরের স্তরকে বলে (করোনা)।সূর্যের পিঠের তাপমাত্রা ৬ হাজার ডিগ্রি কেলভিনের মতো। আর করোনার তাপমাত্রা কোথাও ১০ লক্ষ ডিগ্রি কেলভিন। কোথাও বা তারও অনেক বেশি। আর কেন্দ্রে বা কোরে তাপমাত্রা প্রায় ১ কোটি ৫০ লক্ষ ডিগ্রি কেলভিনের মতো। সূর্যের পিঠে গ্যাসের ঘনত্বও অনেক বেশি। করোনার ততটা নয়। বিজ্ঞানীরা বলেন, সূর্যের বাইরের স্তর বা করোনাতে থাকে উচ্চতাপযুক্ত প্লাজমার আবরণ, যার থেকে মাঝেমধ্যেই তড়িদাহত কণার স্রোত বেরিয়ে আসে এবং ছড়িয়ে পড়ে মহাকাশে। একে বলে সৌরঝড় (Solar Storm)। শুধু মহাকাশই নয়, সেই কণার স্রোত প্রভাবিত করে পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলকেও। তড়িহাদত কণার স্রোত পৃথিবীর মেরু অঞ্চল দিয়ে বায়ুমণ্ডলের উপরের স্তরে প্রবেশ করে। ফলে আকাশে রং-বেরঙের খেলা (অরোরা) দেখা যায়।

এই করোনা থেকেই বেরিয়ে আসছে সৌরঝড়, সৌরবায়ু, সৌরকণারা। এর গতিবিধি আবার সন্দেহজনক। পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলের দিকেও তাদের নজর। বিজ্ঞানীরা বলছেন, সৌরপৃষ্ঠের গঠন ভাল করে দেখতে পেলে এবং করোনার উপর নজর রাখা সম্ভব হলে এই সৌরকণা ও সৌরঝড়ের আগাম আভাস পাওয়া যেতে পারে। সৌরকণারা কখন ম্যাগনেটোস্ফিয়ারে এসে আছড়ে পড়তে পারে, সে সম্পর্কে বিজ্ঞানীরা আরও সঠিক তথ্য দিতে পারবেন। এই সৌরঝড় হয় সৌরমণ্ডলকে পেরিয়ে ইন্টারস্টেলার মিডিয়ামে মিশে যায়, না হয় তীব্র গতিতে ছুটে আসে পৃথিবী ও অন্যান্য গ্রহের দিকে। বিপদ ঘনায় তখনই। সৌরপদার্থবিজ্ঞানীরা বলছেন, অসম্ভব শক্তিশালী সৌরকণারা যদি কোনওভাবে পৃথিবীর অনেক কাছাকাছি চলে আসে তাহলে তাদের চৌম্বকক্ষেত্রের সঙ্গে ধাক্কাধাক্কির ফলে উত্তর মেরুতে আরও উজ্জ্বল অরোরা বা মেরুজ্যোতি তৈরি হতে পারে। এমনকী তা পৃথিবীর রেডিও বা টেলি যোগাযোগ ব্যবস্থাকে তছনছ করে দিতে পারে।