দ্য ওয়াল ব্যুরো: বিদেশে আটকে পড়া ভারতীয়দের উদ্ধারের তোড়জোড় শুরু হয়ে গেছে। সংযুক্ত আরব আমিরশাহিতেই আটকে লক্ষাধিক ভারতীয়। তাঁদের আনতে গতকাল বৃহস্পতিবারই উড়ে গিয়েছিল এয়ার ইন্ডিয়ার বিমান। আবু ধাবি ও দুবাই থেকে প্রথম দফায় দুটি বিশেষ বিমানে করে ফিরিয়ে আনা হয়েছে ৩৬৩ জন ভারতীয়কে।
আরব মুলুক থেকে ভারতীয়দের ফিরিয়ে আনতে উড়ে যায় এয়ার ইন্ডিয়া এক্সপ্রেসের দুটি বিমান। একটি আবু ধাবি থেকে যাত্রীদের নিয়ে পৌঁছেছে কোচিতে। অন্যটি দুবাই থেকে ভারতীয়দের উদ্ধার করে পৌঁছেছে কোঝিকোড়ে। সূত্রের খবর, বিমানবন্দরে নামার পরে প্রত্যেক যাত্রীরই স্ক্রিনিং ও অ্যান্টিবডি টেস্ট করা হয়। তাঁদের সাতদিনের জন্য কোয়ারেন্টাইন সেন্টারে পর্যবেক্ষণে রাখা হবে। এই সময় তাঁদের প্রত্যেকের আরটি-পিসিআর টেস্ট করা হবে। সংক্রমণ ধরা পড়লে সঙ্গে সঙ্গেই পাঠানো হবে হাসপাতালে। আর টেস্টের রিপোর্ট নেগেটিভ এলে তাঁদের বাড়ি ফিরে যেতে দেওয়া হবে। তবে বাড়িতে অন্তত সাতদিন সেলফ-কোয়ারেন্টাইনে থাকতে হবে তাঁদের।
বিদেশ থেকে ফিরিয়ে আনা প্রত্যেক যাত্রীকে বহুবার স্ক্রিনিং করা হয়েছে বলে খবর। গর্ভবতী মহিলা এবং প্রবীণদের জন্যও রয়েছে আলাদা ব্যবস্থা। তাঁদের কোয়ারেন্টাইনে বিশেষ পর্যবেক্ষণে রাখা হবে।
৭ মে থেকে দফায় দফায় বিদেশে আটকে পড়া ভারতীয়দের ফিরিয়ে আনা হবে বলে সোমবারই একটি বিবৃতি প্রকাশ করে জানায় কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রক। তার জন্য বিমান ও নৌবাহিনীর জাহাজ পাঠানো হচ্ছে বলে জানানো হয়। এত সংখ্যক মানুষকে উদ্ধারের বৃহত্তর পরিকল্পনা স্বাধীনতার পরে এই প্রথম। কেন্দ্রীয় সরকারের তরফে এই উদ্ধার অভিযানের নাম দেওয়া হয়েছে ‘বন্দে ভারত মিশন’।
কর্মসূত্রে এই মুহূর্তে যত ভারতীয় বিদেশে রয়েছেন, তার মধ্যে ৭০ শতাংশই রয়েছেন সংযুক্ত আমিরশাহি, সৌদি আরব, কুয়েত, ওমান, কাতার এবং বাহরিনে। মলদ্বীপে আটকে রয়েছেন অনেকে। ইউরোপ ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বেশ কিছু দেশেও আটকে পড়েছেন ভারতীয়রা। দেশে ফেরার কাতর আর্জি জানিয়ে তাঁরা ভারতীয় দূতাবাসের সঙ্গে যোগাযোগ করেছিলেন। জানা গেছে, প্রবাসে আটকে পড়া ভারতীয়রা নিজেরাই টিকিটের খরচ দিয়ে দেশে ফেরার আবেদন করেছিলেন। বিমান পরিবহন মন্ত্রক সূত্রে জানানো হয়েছিল, ইউরোপ থেকে দেশে ফেরার টিকিটের খরচ পড়বে ৫০ হাজার টাকার কাছাকাছি, আর মার্কিন যুক্তরাষ্টের যে কোনও দেশ থেকে ফেরার খরচ পড়বে এক লক্ষ টাকার কাছাকাছি।
প্রথম সপ্তাবে ৬৪টি বিমান উড়ে যাবে বিশ্বের ১৩টি দেশে। তার মধ্যে সাতটি দেশ থেকে ভারতীয়দের নিয়ে ১৫টি বিমান নামবে কেরলে, ১১টি নামবে দিল্লি ও তামিলনাড়ুতে।
৮ মে ন’টি দেশ থেকে চেন্নাই, কোচি, মুম্বই, আহমেদাবাদ, বেঙ্গালুরু ও দিল্লিতে প্রায় ২০৫০ ভারতীয়কে ফিরিয়ে আনা হবে বলে জানানো হয়েছে বিদেশমন্ত্রকের তরফে।
পরিকল্পনা অনুযায়ী, তৃতীয় দিনেও একই সংখ্যক ভারতীয়র ফিরে আসার কথা। মধ্য প্রাচ্য, ইউরোপ, দক্ষিণ-পশ্চিম এশিয়া ও আমেরিকা থেকে মুম্বই, কোচি, লখনউ এবং দিল্লিতে এসে পৌঁছবেন নাগরিকরা।
এই পরিকল্পনার চতুর্থ দিনে সরকারের তরফে ১৮৫০ ভারতীয়কে আমেরিকা, ব্রিটেন ও সংযুক্ত আরব আমিরশাহি-সহ আট দেশ থেকে ফিরিয়ে আনা হবে বলে জানানো হয়েছে।
অসামরিক বিমান মন্ত্রকের তরফে জানানো হয়েছে, প্রতিটি বিমানে করে ২০০ থেকে ৩০০ যাত্রীকে ফিরিয়ে আনা হবে। বিমানের মধ্যে যাতে সামাজিক দূরত্ব বজায় থাকে সেদিকে লক্ষ্য রাখাতে হবে। বিমানে ওঠার আগে যাত্রীদের জানাতে হবে তাঁদের জ্বর, কাশি, ডায়াবেটিস ও অন্য শ্বাসযন্ত্রের সমস্যা আছে কিনা। প্রত্যেকের মেডিক্যাল স্ক্রিনিং করে নেওয়া হবে বলেও জানানো হয়েছে। শুধুমাত্র যাঁদের উপসর্গ নেই, তাঁদেরই বিমানে ওঠার অনুমতি দেওয়া হবে।