মহারাষ্ট্রে প্লাজমা থেরাপির প্রথম পরীক্ষামূলক প্রয়োগ সফল, বললেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী রাজেশ তোপে
দ্য ওয়াল ব্যুরো: মহারাষ্ট্রে প্লাজমা থেরাপির প্রথম পরীক্ষামূলক প্রয়োগ সফল হয়েছে বলেই জানিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী রাজেশ তোপে। মুম্বইয়ের লীলাবতী হাসপাতালে এই থেরাপির ট্রায়াল করেন ডাক্তাররা। তার ফল সন্তোষজনক বলেই জানানো হয়েছে।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী
শেষ আপডেট: 28 April 2020 18:30
দ্য ওয়াল ব্যুরো: মহারাষ্ট্রে প্লাজমা থেরাপির প্রথম পরীক্ষামূলক প্রয়োগ সফল হয়েছে বলেই জানিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী রাজেশ তোপে। মুম্বইয়ের লীলাবতী হাসপাতালে এই থেরাপির ট্রায়াল করেন ডাক্তাররা। তার ফল সন্তোষজনক বলেই জানানো হয়েছে।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী রাজেশ তোপে বলেছেন, প্রথমবারই রাজ্যে এই থেরাপির পরীক্ষামূলক প্রয়োগ হল। করোনা চিকিৎসায় কাজে দিয়েছে এই থেরাপি। লীলাবতী হাসপাতালের পরে বিওয়াইএল নায়ার হাসপাতালে এই থেরাপি প্রয়োগ করে দেখা হবে।
করোনা চিকিৎসায় প্লাজমা থেরাপিকে সবুজ সঙ্কেত না দিলেও পরীক্ষামূলকভাবে এই থেরাপির প্রয়োগ করা যেতে পারে বলে জানিয়েছে কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রক। মঙ্গলবারই স্বাস্থ্যমন্ত্রকের যুগ্মসচিব লব আগরওয়াল বলেন, প্লাজমা থেরাপি নিয়ে গবেষণা চলছে। এই থেরাপির নির্দিষ্ট নিয়ম আছে। এই থেরাপি সংক্রান্ত ব্যাপারে ইন্ডিয়ান কাউন্সিল অব রিসার্চের (আইসিএমআর) নির্দেশিকাও আছে। সঠিক পদ্ধতি না মেনে এই থেরাপির প্রয়োগ করলে রোগীদের জন্য তা বিপজ্জনকও হতে পারে।
সংক্রামক রোগের চিকিৎসায় প্লাজমা থেরাপির ব্যবহার আগেও হয়েছে। করোনা রোগীদের উপরে এই থেরাপি কতটা কার্যকরী হচ্ছে সেটাই দেখার বিষয়। প্লাজমা থেরাপি হল এমন এক চিকিৎসা পদ্ধতি যেখানে সংক্রমণ সারিয়ে সুস্থ হয়ে ওঠার রক্ত থেকে প্লাজমা নিয়ে আক্রান্তের শরীরে প্রতিস্থাপন করা হয়। এর একটাই কারণ, সেটা হল সুস্থ হয়ে ওঠার অ্যান্টিবডি আক্রান্ত রোগীর শরীরে পৌঁছে দেওয়া। সেটা রক্তরস বা প্লাজমার মাধ্যমেই প্রতিস্থাপন করা সম্ভব। ভাইরাসকে হারিয়ে সুস্থ হয়েছেন যিনি তার অ্যান্টিবডি রোগীর শরীরে গিয়েও একইরকম ক্ষমতা দেখাবে বলেই দাবি গবেষকদের।
এখন স্বাস্থ্যমন্ত্রক বলেছে এই প্লাজমা থেরাপি সব রোগীর উপরেই কার্যকরী হবে কিনা সেটা আগে দেখা দরকার। প্রথমত সংক্রমণ সারিয়েছেন যিনি তাঁকে হাসপাতাল থেকে ছেড়ে দেওয়ার পরেও হোম-কোয়ারেন্টাইনে ১৪ দিনের পর্যবেক্ষণে রাখতে হবে। তারপরেও যদি কোনও উপসর্গ আর দেখা না দেয় এবং নমুনার রিপোর্ট নেগেটিভ আসে তাহলেই তাঁর প্লাজমা নেওয়া হবে। দ্বিতীয়ত, দাতা ও গ্রহীতার রক্তের গ্রুপ ও রক্তের অন্যান্য কিছু পরীক্ষা দরকার। দুজনেরই শারীরিক অবস্থা, বয়স এমন কিছু বিষয়ও রয়েছে। স্বাস্থ্যমন্ত্রক জানিয়েছে, সব পরীক্ষায় পাশ করলেই প্লাজমা থেরাপি করা সম্ভব। নিয়মে ভুল হলে তার ফল ভাল নাও হতে পারে।
দিল্লিতে চারজন করোনা রোগীর মধ্যে দু’জনের উপর এই থেরাপি কার্যকরী হয়েছে বলেই ঘোষণা করেছেন মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিওয়াল। অন্যদিকে, কেরলের কয়েকটি হাসপাতালে এই থেরাপির পরীক্ষামূলক প্রয়োগের জন্য ডাক্তার ও বিজ্ঞানীদের নিয়ে তৈরি হয়েছে টাস্ক ফোর্স। আহমেদাবাদের দুটি হাসপাতালেও এই থেরাপির প্রয়োগ শুরু হয়েছে বলে জানা গিয়েছে।