
শেষ আপডেট: 10 August 2023 08:19
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ভয়ঙ্কর ছোঁয়াচে হার্পিস ভাইরাসের পরিবারের সদস্য এরা। জেনিটাল হার্পিস, চর্মরোগ, গ্ল্যান্ডুলার ফিভার সহ ক্যানসার, মাল্টিপল স্ক্লেরোসিসেরও কারণ। ছোট থেকে এই ভাইরাস বাসা বাঁধতে পারে শরীরে। পরবর্তী সময়ে জটিল ও মারণ রোগের কারণ হয়ে ওঠে। এতটাই চুপিসাড়ে শরীরে সংক্রমণ ছড়ায় এই ভাইরাস যে তাকে জানতে ও বুঝতে অনেকটাই সময় চলে যায়। ফলে রোগী তার চরম পরিণতির দিকে এগিয়ে যায়। সেই সংক্রামক এপস্টাইল-বার (Epstein-Barr virus) ভাইরাসের ভ্যাকসিন তৈরি করলেন বিজ্ঞানীরা।
অস্ট্রেলিয়ার মেডিক্যাল রিসার্চ ইনস্টিটিউট এই ভ্যাকসিন তৈরি করেছে। 'নেচার' জার্নালে এই গবেষণার খবর ছাপা হয়েছে। বিজ্ঞানীরা বলছেন, এপস্টাইন-বার ভাইরাসের (Epstein-Barr virus) সংক্রমণে যে টিউমার তৈরি হয় তাকে নির্মূল করতে পারে এই ভ্যাকসিন। রোগীদের উপর পরীক্ষা করে দেখা গেছে, ভ্যাকসিনের ডোজে প্রচুর পরিমাণে অ্যান্টিবডি তৈরি হচ্ছে যা টিউমার কোষের বৃদ্ধি রুখে দিতে পারে। তাছাড়া ঘাতক টি-কোষ শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাকে সক্রিয় করে টিউমার বা ক্যানসার কোষের বিরুদ্ধে লড়াই করতে পারে।
আরও পড়ুন: 'এলিয়েন রোগ' ছড়াবে বিশ্বে, করোনার থেকেও নাকি ভয়ঙ্কর মহামারী হতে পারে 'ডিজিজ এক্স'
হার্পিস ভাইরাসের পরিবারের এই সদস্য (Epstein-Barr virus) মারাত্মক ছোঁয়াচে। এপস্টাই-বার ভাইরাসের সংক্রমণে জ্বর, সর্দিকাশি, গায়ে ব্যথা, গ্ল্যান্ড ফুলে যাওয়ার মতো সমস্যা দেখা দেয় প্রাথমিক স্তরে। ধীরে ধীরে ভাইরাস সারা শরীরে ছড়াতে থাকে। তখন প্লীহাতে প্রদাহ, ফুলে যাওয়া, সংক্রমণ শুরু হয়। বিজ্ঞানীরা বলছেন, পাঁচ বছরের কম শিশুর শরীরে বাসা বাঁধতে পারে এই ভাইরাস। শুরুটা সর্দি-কাশি, জ্বর, গায়ে ব্যথা, গলা ব্যথা দিয়ে শুরু হয়। তারপর লালাগ্রন্থির মধ্যে বংশবিস্তার করতে থাকে ভাইরাস। যৌনাঙ্গেও এই ভাইরাসের বাড়বৃদ্ধি হয়। থুতু, লালার মাধ্যমে যেমন এপস্টাইল-বার ভাইরাস দ্রুত ছড়াতে পারে, তেমনই দেহরসের মাধ্যমেও ছড়াতে পারে।
জটিল, মারণ রোগের কারণও হয়ে উঠতে পারে এই ভাইরাস। দীর্ঘসময় শরীরে বিভাজিত হলে এই ভাইরাসের সংক্রমণে মাল্টিপল স্ক্লেরোসিস, ক্যানসার হয়। সাইনাস, ন্যাসোফ্যারিঞ্জিয়াল কার্সিনোমা, এনসেফেলাইটিস, স্নায়ুর নানা রোগের কারণও হতে পারে এই ভাইরাস। স্নায়ুর জটিল রোগ ঘটিয়ে সারা শরীরকে পঙ্গু করে দিতে পারে এই ভাইরাস।