
শেষ আপডেট: 1 August 2020 18:30
নেদারল্যান্ডের লেইডেন ইউনিভার্সিটির মহাকাশবিজ্ঞানী এবং এই গবেষণার অন্যতম মুখ্য বিজ্ঞানী আলেক্সান্ডার বন বলেছেন, TYC 8998-760-1 নক্ষত্রকে ঘিরে যে দুই গ্রহ পাক খাচ্ছে তাদের ভর পৃথিবীর চেয়ে বেশি। বৃহস্পতির ভরের চেয়েও ১৪ গুণ বেশি। তাদের কক্ষপথ বৃহস্পতি ও শনির থেকেও ৩০ গুণ বড়। পৃথিবী ও সূর্যের মাঝে যে দূরত্ব, এই দুই গ্রহ থেকে ওই নবীন সূর্যের দূরত্ব ১৬০ থেকে ৩২০ গুণ বেশি। এই দুই গ্রহেরই তাপ অনেক বেশি।
নাসা আগেই জানিয়েছিল, গোটা নক্ষত্রপুঞ্জে সূর্যের মতো প্রতি পাঁচটা তারার অন্তত একটির চারপাশে ঘুরছে একটা করে পৃথিবীর মতো গ্রহ। যার আকার থেকে শুরু করে আবহাওয়া, অনেক কিছুই মিলে রয়েছে পৃথিবীর সঙ্গে। তার মধ্যে আবার বেশ কিছু গ্রহে নাকি বেশি শীতও পড়ে না, আবার তাপমাত্রার পারদও চড়ে না। মোটামুটি প্রাণ তৈরি হওয়ার মতো পরিবেশ। তাই পৃথিবীর বাইরে প্রাণের খোঁজে মহাকাশবিজ্ঞানীদের অভিযান দীর্ঘ বছরের।
ম্যাক্স প্ল্যাঙ্কের স্পেস টেলিস্কোপ দেখিয়েছে নতুন খুঁজে পাওয়া এই সৌরমণ্ডলের যে নেতা অর্থাৎ কেপলার-১৬০ নক্ষত্র সূর্যের মতো ইনফ্রারেড রশ্মির বিকিরণ করে ঠিকই, তবে অত আগুনে রূপ নেই। এই তারার পৃষ্ঠদেশের তাপমাত্রা ৫২০০ ডিগ্রি সেলসিয়াস, সূর্যের চেয়ে ৩০০ ডিগ্রি সেলসিয়াস কম। এর তেজও সূর্যের চেয়ে অনেকটাই কম। এই তারা নিভু নিভু আঁচের। মহাকাশবিজ্ঞানের ভাষায় যাকে বলে ‘রেড ডোয়ার্ফ স্টার’ (Red Dwarf Stars) বা লাল বামন তারা। মহাকাশে এমন অনেক তারা আছে যেগুলি তুলনায় কম উজ্জ্বল। তাদের ‘লাল বামন’ বলা হয়। মহাকাশবিজ্ঞানীরা বলেন, মহাকাশে ছড়িয়ে থাকা লাল বামনের পনেরো শতাংশের চারপাশে পৃথিবীর মতো গ্রহ ঘুরছে। পেনসিলভানিয়া স্টেট ইউনিভার্সিটির বিজ্ঞানীরা তথ্য দিয়ে দেখিয়েছিলেন, ৫০ শতাংশ লাল বামনের চারপাশেই রয়েছে এমন গ্রহ।
মাসের গোড়াতেই এমন দুই লাল বামনের খোঁজ দিয়েছিল নাসার ‘নিয়ার-আর্থ অবজেক্ট ওয়াইড-ফিল্ড ইনফ্রারেড সার্ভে এক্সপ্লোরার’ (NEOWISE)। মহাকাশবিজ্ঞানীরা যাদের ‘বাদামি ডোয়ার্ফ’ বলেছিলেন। ইনফ্রারেড সার্ভে এক্সপ্লোরারে দেখা গিয়েছিল এদের রঙ টকটকে লালচে-বাদামি। যতই কাছে যাওয়া যাবে রঙ বদলে দেখাবে ম্যাজেন্টা বা লালচে-কমলা। বৃহস্পতি গ্রহের চেয়ে এরা ভরে ৭৫ গুণ বেশি। বয়স কম করেও ১০০০ কোটি বছর। শরীর তৈরি হয়েছে গ্যাস দিয়ে। বিজ্ঞানীরা বলছেন, যেদিন এই দুই বামনের জীবনবৃত্তান্ত বার করে ফেলা যাবে, সেইদিনই অন্যান্য ভিন গ্রহদের জন্মরহস্যও সামনে চলে আসবে।