দ্য ওয়াল ব্যুরো: বাংলায় প্রথম পূর্ণাঙ্গ ডিজিটাল সাহিত্য পত্রিকা
‘সুখপাঠ’ প্রকাশিত হল আজ, শনিবার। ‘দ্য ওয়াল’ নিউজ পোর্টাল থেকে প্রকাশিত এই পত্রিকাটির ওয়েব অ্যাড্রেস www.sukhopath.in। এই মাসিক পত্রিকাটি পড়ার জন্য গ্রাহক হতে হবে পাঠকদের।
আজ সকালে কলকাতার ৬ নম্বর বালিগঞ্জ প্লেসে আনুষ্ঠানিক ভাবে আত্মপ্রকাশ করল
সুখপাঠ। পত্রিকা প্রকাশের অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন অভিনেতা শ্রীসৌমিত্র চট্টোপাধ্যায় ও শ্রীঅনির্বাণ ভট্টাচার্য এবং সাংবাদিক শ্রীচন্দ্রিল ভট্টাচার্য।
সাহিত্য ও শিল্প-সংস্কৃতির মননশীল পাঠকদের জন্যই সুখপাঠের আয়োজন। পত্রিকার বিভাগগুলি বিশেষ লক্ষ্যনীয়। এতে যেমন রয়েছে প্রবন্ধ, বিশেষ রচনা, ধারাবাহিক আত্মকথা, ধারাবাহিক উপন্যাস, রম্যরচনা, গল্প, কবিতা, পড়শি দেশের গল্পকথা, সাক্ষাৎকার, ধারাবাহিক ভ্রমণকাহিনি, ভ্রমণকথা, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি ধারাবাহিক, পরিবেশ নিয়ে প্রবন্ধ, তেমনই রয়েছে বাংলাদেশের গল্প ও কবিতা, ব্লগ, সঙ্গীত নিয়ে আলোচনা, বইয়ের আলোচনা ও চলচ্চিত্রকথা।
সেইসঙ্গে প্রতিটি সংখ্যায় থাকবে চলচ্চিত্র, ভ্রমণ ও পরিবেশের শর্ট ফিল্ম। তা ছাড়া গল্পপাঠ বিভাগে শোনা যাবে অভিনেতা ও বাচিক শিল্পীদের কণ্ঠে বিশিষ্ট লেখকদের গল্প। ফিরে পড়া বিভাগে থাকছে দুষ্প্রাপ্য লেখার পুনর্মুদ্রণ। পড়া, দেখা ও শোনার এক অসামান্য মেলবন্ধন তৈরি করবে সুখপাঠ।
সুখপাঠের আনুষ্ঠানিক প্রকাশ অনুষ্ঠানে এদিন সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায় বলেন, “এই যে নতুন ডিজিটাল মাধ্যম, তাতে হয়তো আমি নিজে খুব একটা স্বচ্ছন্দ হব না সঙ্গত কারণেই। কিন্তু আমার আগামী প্রজন্মকে বা চারপাশকে দেখে আমি যা বুঝি, তাতে এটা স্পষ্ট যে ডিজিটাল মাধ্যম বেশ হইহই করেই এসে গিয়েছে আমাদের মধ্যে, আর সেটা থাকবে বলেই এসেছে। আমাদের তাকে গ্রহণ করতে হবে। আমার এই
সুখপাঠের উদ্যোগ ভাল লাগল বেশ। একইসঙ্গে এত কিছু পড়া, দেখা, শোনা যাবে, বেশ অভিনব।”
অভিনেতা অনির্বাণ ভট্টাচার্য এদিন বলেন, “মুক্তচিন্তার উপর আজকাল বড় আক্রমণ চলছে। এই আক্রমণের বিরোধিতা আরও বেশি মুক্তচিন্তা দিয়েই করা দরকার। সেই মুক্তচিন্তার জায়গা তৈরি করছে
সুখপাঠ। সুখপাঠ এই মুক্তচিন্তার জায়গাটাই ধরে রাখবে, এটাই আমাদের আশা।”
সাংবাদিক চন্দ্রিল ভট্টাচার্য বলেন, “কোন মাধ্যমে কে কীসের চর্চা করবে, তা নিয়ে একটা 'বনামবাদ' তৈরি হয়েছে অকারণে। অনেকেই বলছেন, বই পড়ার মাধ্যমে যে সাহিত্যচর্চা হয়, গল্প শোনার মাধ্যমে তা নয়। সুখপাঠ এই দ্বন্দ্বকে ভেঙেচুরে দিচ্ছে। পড়া, শোনা, দেখার মধ্যে কোনও দ্বৈরথ নেই।
সুখপাঠের এটাই সৌন্দর্য। এখানে কেউ লিখবে, কেউ পড়বে, কেউ শোনাবে, কেউ সিনেমাও বানাবে।”

অনুষ্ঠানে পত্রিকার সম্পাদক অরিন্দম বসু বলেন, “সাহিত্যের সবটুকু সুখপাঠ্য নয়, এ কথা ঠিক। সাহিত্যে অনেক রকমের রস অনুভব করেন পাঠকেরা। কিন্তু শিল্পের যদি কোনও গভীর সত্য থেকে থাকে, তাহলে তা পাঠক অনুভব করেন, উপলব্ধি করেন, অনুধাবন করেন। সেটাই পাঠকের সুখ। 'সুখপাঠ' সেই সুখের সূত্রেই বিশ্বাস করে।”
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন সেনকো গোল্ড অ্যান্ড ডায়মন্ডসের এক্সিকিউটিভ ডিরেক্টর শুভঙ্কর সেন। সুখপাঠের জন্য শুভেচ্ছা জানিয়ে তিনি বলেন, “সময়ের দাবি মেনেই বিশ্বজুড়ে সাহিত্য পাঠের অন্যতম মাধ্যম হয়ে উঠেছে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম। সুখপাঠের এই উদ্যোগ তাই সময়োপযোগী”।
আজ প্রকাশিত ‘সুখপাঠ’ জুলাই সংখ্যায় বিভিন্ন বিভাগে লিখেছেন অমিত্রসূদন ভট্টাচার্য, অমিয় দেব, বুদ্ধদেব গুহ, সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়, গৌতম ঘোষ, প্রচেত গুপ্ত, অনিতা অগ্নিহোত্রী, বিপুল দাস, সঞ্জয় মুখোপাধ্যায়, সুবোধ সরকার, যশোধরা রায়চৌধুরী, বিভাস রায়চৌধুরী, বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়, দেবাশিস গঙ্গোপাধ্যায়, কল্যাণ সেন বরাট, পীযূষ রায়চৌধুরী, পিয়াস মজিদ, জয়দীপ দে, রম্যাণী গোস্বামী, মনু ব্রাজাকি, বিদ্যুৎ দে, চৈতালি চক্রবর্তী, শঙ্খদীপ ভট্টাচার্য, সুপ্রতিম কর্মকার, সত্যবতী গিরি এবং গৌতমকুমার দে। রয়েছে শিল্পী হিরণ মিত্রের সাক্ষাৎকার।
এ ছাড়া দেখা যাবে ঐন্দ্রিলা সরকারের পরিবেশের ছোট ছবি, অরূপ ঘোষের ভ্রমণের ছোট ছবি, সুস্মিতা সিনহার চলচ্চিত্রের ছোট ছবি। গল্পপাঠে থাকছেন মনোজ মিত্র, দেবশংকর হালদার, সৌম্যদেব বসু এবং দেবেশ চট্টোপাধ্যায়। পুনর্মুদ্রিত হয়েছে সুকুমার রায়ের একটি প্রবন্ধ।