দ্য ওয়াল ব্যুরো: প্রাণঘাতী নোভেল করোনাভাইরাসের থাবা এবার ভারতেও। প্রথম ভাইরাস আক্রান্ত রোগীর খোঁজ মিলল কেরলে। চিন-ফেরত এক পড়ুয়ার রক্ত পরীক্ষা করে ভাইরাসের সংক্রমণ নিশ্চিত করেছে স্বাস্থ্য দফতর। হাসপাতালের আইসোলেশন ওয়ার্ডে ২৪ ঘণ্টা পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে তাঁকে।
উহান ইউনিভার্সিটিতে পড়াশোনা করতেন ওই ছাত্র। দেশে ফেরার পরেই জ্বরে আক্রান্ত হন তিনি। নিউমোনিয়া ধরা পড়ে। হাসপাতালে নিয়ে গেলে ডাক্তাররা জানান, সিভিয়ার অ্যাকিউট রেসপিরেটারি সিন্ড্রোমে আক্রান্ত হয়েছেন ওই ছাত্র। যার কারণ নোভেল করোনাভাইরাস। এক বিবৃতিতে স্বাস্থ্য মন্ত্রক জানিয়েছে, আইসোলেশন ওয়ার্ডে ছাত্রের চিকিৎসা করছেন অভিজ্ঞ ডাক্তাররা। তাঁর অবস্থা এখন স্থিতিশীল।
রাজ্য স্বাস্থ্য দফতর জানিয়েছে, সংক্রমণ ছড়ানোর আশঙ্কায় কেরলে প্রায় ৪০০ মানুষ ঘরবন্দি। জ্বর-সর্দি-কাশি নিয়ে ডজনখানেক রোগী ভর্তি আইসোলেশন ওয়ার্ডে। যদিও এই চিন-ফেরত এই ছাত্র ছাড়া আর কারও শরীরেই এখনও পর্যন্ত করোনাভাইরাসের খোঁজ মেলেনি।
কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য মন্ত্রক সূত্রে খবর, ১ জানুয়ারি এবং তার পরে যাঁরা চিন থেকে ফিরেছেন তাঁদের সকলকেই বিশেষ পর্যবেক্ষণে রাখা হবে। দিল্লির সরকারি আরএমএল হাসপাতালে তিনজনকে আইসোলেশন ওয়ার্ডে রাখা হয়েছে। মুম্বইতে চিন-ফেরত দুই যাত্রী ছাড়াও ৩৬ বছর বয়সী এক যুবককে আলাদা কেবিনে রেখে পরীক্ষা করা হচ্ছে। অন্যদিকে, রাজস্থান, বিহার ও চণ্ডীগড়ের হাসপাতালেও আইসোলেশন ওয়ার্ডে রাখা হয়েছে অনেক রোগীকে। মধ্যপ্রদেশের উজ্জ্বয়িনীতে উহান-ফেরত এক ভারতীয় পড়ুয়া ও তাঁর মাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
চিনের ন্যাশনাল হেলথ কমিশনের রিপোর্ট বলছে, বৃহস্পতিবার পর্যন্ত সরকারি হিসেবে মৃতের সংখ্যা ছাড়িয়েছে ১৭০। চিনের মূল ভূখণ্ডেই আক্রান্তের সংখ্যা প্রায় ৭,৭০০-র কাছাকাছি। এনএইচসি-র রিপোর্ট অনুযায়ী, গতকাল নতুন আক্রান্তের সংখ্যা কমপক্ষে ১,৩৭০। শঙ্কাজনক অবস্থায় তাঁদের বিভিন্ন হাসপাতালের আইসোলেশন ওয়ার্ডে রাখা হয়েছে। সংক্রমণ ছড়ানোর আশঙ্কা করা হচ্ছে আরও ১২,১৬৭ জনের মধ্যে। এদিকে সাতশোর বেশি ভারতীয় চিনের সংক্রামিত শহরগুলিতে আটকে পড়েছেন বলে কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য মন্ত্রক সূত্রে খবর। প্রায় ৩০ হাজার যাত্রীকে দেশের বিভিন্ন বিমানবন্দরে থার্মাল-স্ক্রিনিং করানো হয়েছে। সামান্য সন্দেহ হলেই তাঁদের আলাদা করে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। কেরল, মহারাষ্ট্রে অন্তত ১০০ জনকে বিশেষ পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে।