দ্য ওয়াল ব্যুরো: জেদটাই আসল। প্রমাণ করলেন ইলহান ওমর ও রসিদা তালেব। ডোনাল্ড ট্রাম্পের উদ্বাস্তু নীতির দাপট যখন তুঙ্গে, তখন ইউএস কংগ্রেসের সদস্য পদ পেলেন এই দুই মুসলিম মহিলা।মার্কিন কংগ্রেসের ইতিহাসে যা প্রথম।
দুই মুসলিম মহিলা ইলহান ওমর ও রসিদা তালেব। যাঁদের একজন প্যালেস্তাইন ও অন্য জন সোমালিয়ান রিফিউজি ক্যাম্পে শৈশব কাটিয়েছেন। ৩৭ বছরের ইলহান ওমর ডেমোক্র্যাটসের শক্ত ঘাঁটি মিনেসোটার মিনেয়াপোলিস থেকে জিতেছেন। ৪২ বছরের রসিদা কংগ্রেসের শক্ত ঘাঁটি মিশিগান থেকে জিতেছেন।
দুই লড়াকু একে অপরকে চেনেন না। শুধু মিল তাঁদের লড়াইয়ে।
ইরাকে ২০০ গণকবরে পাওয়া গেছে ১২ হাজার মানুষের দেহাবশেষ: রাষ্ট্রসঙ্ঘ
নিউ ইয়র্ক টাইমসে কয়েকদিন আগেই ওমরের ছবি বেরিয়েছিল। মাথা ঢাকা হিজাবে, নীচে লাহানের উক্তি, “আমি কৃষ্ণাঙ্গ এবং মুসলিম। সিদ্ধান্ত নিয়েছি ভোটে লড়ার, কারণ আমি লক্ষ লক্ষ উদ্বাস্তুর প্রতিনিধিত্ব করছি।" ইউএস কংগ্রেসের হয়ে ভোটে দাঁড়িয়ে ইলহানের এই মন্তব্যে অবাক হয়েছিল তাবর রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব। সেই ইলহানই মিনেসোটায় ইউএস কংগ্রেসের প্রধান মুখ। গৃহযুদ্ধ বিধ্বস্ত সোমালিয়া থেকে পালিয়ে কেনিয়ায় রিফিউজি ক্যাম্পে কেটেছে ছোটবেলা। ১৯৯৭-এ মিনেসোটায় আসে পরিবার। ২০১৬ সালে মিনেসোটার প্রথম কৃষ্ণাঙ্গ মুসলিম আইনজীবীর খেতাব পান ইলহান। ২০১৮ সালে আইনজীবী ইলহান ইউএস কংগ্রেসে নিজের জায়গা করে নিলেন।

নিম্ন মধ্যবিত্ত প্যালেস্তাইন পরিবারের ১৪ জন ভাইবোনের মধ্যে সবার বড় রসিদা তালিব। রিফিউজি ক্যাম্পেই অবহেলার শৈশব। এক ক্যাম্প থেকে আর এক ক্যাম্প ঘুরে অবশেষে ডেট্রয়েট। ভীষণ অভাবেও পড়াশোনা থামেনি রসিদার। আইন পাশ করেই রাজনীতিতে ঢুকে পড়েন। জানান, ওয়েস্ট ব্যাঙ্ক তাঁর দিকেই তাকিয়ে, তাই শখে নয়, অধিকার পেতেই রাজনীতিতে এসেছেন। ২০১৬ সালে রসিদারে নেতৃত্বে হওয়া বিক্ষোভে আটকে যায় ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রচার। সেই রসিদাই ইউএস কংগ্রেসের দুই মুসলিম মহিলার মধ্যে একজন।

ট্রাম্পের উদ্বাস্তু নীতির বিরুদ্ধে বারে বারে সরব হয়েছেন দুই মহিলাই। একজন আইনি পথে, অন্য জন আন্দোলনের পথে। ইউএস কংগ্রেসে এই দুই বৈপ্লবিক চমকই আমেরিকার অন্তবর্তী নির্বাচনে সবচেয়ে বড় নজির।
The Wall-এর ফেসবুক পেজ লাইক করতে ক্লিক করুন