দ্য ওয়াল ব্যুরো: এইচআর ম্যানেজারের বিরুদ্ধে যৌন হেনস্থার অভিযোগ এনেছিলেন তরুণী। সেই 'অপরাধে' চাকরি খোয়াতে হল তাঁকে। পুলিশ জানিয়েছে, অভিযুক্ত ওই ম্যানেজার পলাতক।
সূত্রের খবর, বেঙ্গালুরুর পিন্যা এলাকায় একটি জার্মান বহুজাতিক সংস্থার অফিসে কাজ করতেন বছর ছাব্বিশের ওই তরুণী। দিন দশেক আগে কর্তৃপক্ষের কাছে তিনি অভিযোগ জানান, ওই সংস্থার এইচআর ম্যানেজার তাঁকে ধর্ষণের চেষ্টা করেছেন। এর আগেও একাধিক বার তিনি ওই তরুণীর উপর যৌন হেনস্থার চেষ্টা করেছেন বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
শরৎ গৌদা নামের ৩৮ বছরের অভিযুক্ত ওই ম্যানেজারের বিরুদ্ধে থানায় এফআইআর-ও দায়ের করেন তরুণী। পুলিশকে জানান, তাঁকে অফিসের কাজে বাড়িতে ডেকে ধর্ষণের চেষ্টা করেছেন শরৎ। অফিসে নানা ছুতোয় যৌন হেনস্থা করেছেন কয়েক মাস ধরে। এমনকী নিজের চেম্বারে তরুণীকে ডেকে, ওই ম্যানেজার তাঁর সামনে হস্তমৈথুন করেছেন বলেও দাবি তরুণীর।
অভিযোগ পেয়েই শরতের খোঁজ শুরু করে পুলিশ। কিন্তু গত আট দিনে সে রোজ আস্তানা বদল করেছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। তবে কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে এখনও কোনও পদক্ষেপ করা হয়নি পুলিশের তরফে। পুলিশ জানিয়েছে, সংস্থার ডিরেক্টরকে জেরা করা হলে তিনি দাবি করেছেন, ওই তরুণী এবং ম্যানেজারের মধ্যে পারস্পরিক সম্মতি ছিল। এটা এক পাক্ষিক হেনস্থার ঘটনা নয় বলে দাবি করেছেন তিনি।
ডিরেক্টরের দাবি খতিয়ে দেখে তবেই সংস্থার বিরুদ্ধে পদক্ষেপ করা হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
ইতিমধ্যে অভিযোগ দায়ের করার পরেই, তার কোনও তদন্ত শুরু হওয়ার আগেই সংস্থার তরফে ছাঁটাই করে দেওয়া হয়েছে অভিযোগকারিণী ওই তরুণীকে। তাঁর দাবি, কোনও কারণ না দেখিয়েই, আগাম নোটিস না দিয়েই তাঁকে পিঙ্ক স্লিপ ধরিয়েছেন কর্তৃপক্ষ।
গত কয়েক মাস ধরেই কর্মক্ষেত্রে যৌন হেনস্থা নিয়ে সরব হয়েছেন মহিলারা। বলিউডে তনুশ্রী দত্ত নানা পাটেকরের বিরুদ্ধে অভিযোগ তোলার পরে মুখ খুলতে শুরু করেন অনেক। এই 'মি টু' আন্দোলনের ঝড় বলিউডের গণ্ডি পেরিয়ে প্রবেশ করে অন্যান্য ক্ষেত্রেও। একের পর এক মহিলা সাংবাদিক মুখ খোলেন, মুখ খোলেন কর্পোরেট কর্মীরাও।
কিছু দিন সেই ঝড় স্তিমিত হলেও, যৌন হেনস্থার ঘটনা যে মোটেও বন্ধ হচ্ছে না, তার প্রমাণ আবার উঠে আসা এই অভিযোগ। তবে এই বার বিচার পাওয়ার আগেই চাকরি খোয়ালেন তরুণী।