
ফিরহাদ হাকিম
শেষ আপডেট: 14 December 2024 16:53
দ্য ওয়াল ব্যুরো: কিছুদিন আগে পুরমন্ত্রী তথা কলকাতার মহানাগরিক ফিরহাদ হাকিমের মুখে উগ্র মৌলবাদী কথা শুনে অনেকেই বিষ্মিত হয়েছিলেন। তৃণমূলের নেতারা তা নিয়ে বিষ্মিত হয়েছিলেন। কিন্তু ফিরহাদ হাকিম ওরফে ববি যেন বুঝিয়ে দিতে চাইলেন, সে কথা বিক্ষিপ্ত মন্তব্য ছিল না। তিনি এখন ধারাবাহিক ভাবেই তাঁর কওমের জন্য এ ধরনের কথা বলবেন।
সংখ্যালঘুদের একটি অনুষ্ঠানে গিয়ে শনিবার ববি হাকিম ফের বলেন, “বাংলায় আমরা ৩৩ শতাংশ। কিন্তু ভারতে মাত্র ১৭ শতাংশ। তবে আমরা নিজেদের সংখ্যালঘু ভাবিনা। আমরা ভাবি আল্লাহর রহমত যদি আমাদের উপর থাকে তাহলে আমরা একদিন সংখ্যাগুরুর থেকেও সংখ্যাগুরু হব। আল্লাহর এই নির্দেশ তথা ইচ্ছাকে আমাদের তাকত দিয়ে হাসিল করতে পারব”।
‘ফিরহাদ থার্টি’ নামে ববি হাকিমেরই একটি সংগঠন রয়েছে। তাদের তৃতীয় এডুকেশন কনফারেন্সে এদিন এই সব কথা বলেছেন মহা নাগরিক। বাংলার সংখ্যালঘুদের উজ্জীবিত করার উদ্দেশে ববি হাকিম আরও বলেন, ইদানীং আমরা দেখি মোমবাতি মিছিল করে উই ওয়ান্ট জাস্টিস স্লোগান তোলা হচ্ছে। কিন্তু মিছিল করে বিচার চাইলে বিচার পাওয়া যাবে না। নিজেদের অউকাত ও রুতওয়া এমন হতে হবে যাতে বিচার এমনিই পাওয়া যাবে।
এর পরই বিতর্কিত মন্তব্য করেছেন রাজ্যের পুর মন্ত্রী। তিনি বলেছেন,“আজও কলকাতা হাইকোর্ট থেকে সুপ্রিম কোর্টে মাত্র দু-চার বিচারপতি রয়েছেন। কেন? কারণ আমরা নিজেদের সেভাবে তৈরি করতে পারিনি যাতে বিচার দিতে পারি। আল্লাহ তালহার রহমত ও আপনাদের মেহনত এটা পূরণ করতে পারে। তাহলেই আমরা বিচার দেওয়ার লায়েক হয়ে যাব”।
ভারতের সংবিধানে ধর্মের ভিত্তিতে সংরক্ষণের কথা বলা নেই। ধর্মের ভিত্তিতে বিচারে বৈষম্যের কথাও নেই। সংখ্যালঘু বিচারপতি হলে তবেই সংখ্যালঘুরা বিচার পাবেন এই ধারণাও ভ্রান্ত। অনেকের মতে, সংবিধানের শপথ নিয়ে মন্ত্রী ও মহানাগরিক হয়েছেন ফিরহাদ হাকিম। তাঁর এই কথা শুধু বিতর্কিত নয়, সাংবিধানিক ধারণারও বিরুদ্ধে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের অনেকের কথায়, সংখ্যালঘুদের শিক্ষা ও দক্ষতা বাড়ানোর ব্যাপারে উৎসাহ দেওয়ার মধ্যে কোনও ভ্রান্তি নেই। শুধু সংখ্যালঘু নয় সমাজে অনগ্রসর সমস্ত শ্রেণির মানুষের জন্য তা প্রযোজ্য। কিন্তু সংখ্যালঘুদের সংখ্যাগুরু হয়ে ওঠা বা বিচারের প্রসঙ্গে মন্ত্রী যে সব কথা বলেছেন তাতে বিতর্কের ইন্ধন রয়েছে। শাসক দলকে ফের তা অস্বস্তিতে ফেলতে পারে।